এক ফোঁটা জলের জন্য হাহাকার করবে পাকিস্তান! শাহপুর কান্ডি বাঁধে বড় চাল চালল ভারত

সিন্ধু জল চুক্তির পূর্ণ সুযোগ নিয়ে এবার প্রতিবেশী দেশ পাকিস্তানকে জোর ধাক্কা দিতে চলেছে ভারত। দীর্ঘ প্রতীক্ষিত শাহপুর কান্ডি বাঁধ প্রকল্পের কাজ এখন অন্তিম পর্যায়ে। ২০২৬ সালের ৩১ মার্চের মধ্যে এই প্রকল্পের কাজ শেষ হলেই রাভি নদীর জল পাকিস্তানে যাওয়া সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যাবে। ভারতের এই কৌশলী পদক্ষেপের ফলে জম্মু-কাশ্মীর ও পাঞ্জাবের হাজার হাজার হেক্টর শুষ্ক জমি যেমন সেচের জল পাবে, তেমনই বড়সড় জলসঙ্কটের মুখে পড়বে পাকিস্তান।
ভারতের রাভি অ্যাটাক এবং মাস্টারপ্ল্যান
পাঞ্জাব ও জম্মু-কাশ্মীর সীমান্তে অবস্থিত এই শাহপুর কান্ডি প্রকল্প ভারতের জন্য এক বিশাল জয়। জম্মু-কাশ্মীরের জলসম্পদ মন্ত্রী জাভেদ আহমেদ রানা স্পষ্ট জানিয়েছেন যে, রাভি নদীর অতিরিক্ত জল পাকিস্তানে যাওয়া আটকানো এখন সময়ের দাবি। এতদিন পরিকাঠামোর অভাবে রাভির যে জল মাধোপুর হেডওয়ার্কস হয়ে পাকিস্তানে চলে যেত, এবার তা দেশের কাজেই ব্যবহৃত হবে।
প্রকল্পের মূল লক্ষ্য ও প্রভাব
- বিশাল সেচ সুবিধা: এই বাঁধের ফলে জম্মু-কাশ্মীরের কাঠুয়া ও সাম্বা জেলার প্রায় ৩২,১৭৩ হেক্টর এবং পাঞ্জাবের ৫,০০০ হেক্টর জমি নতুন করে সেচের আওতায় আসবে।
- বিদ্যুৎ উৎপাদন: সেচের পাশাপাশি এই প্রকল্প থেকে জলবিদ্যুৎ উৎপাদনও করা হবে।
- সিন্ধু জল চুক্তির প্রয়োগ: ১৯৬০ সালের চুক্তি অনুযায়ী রাভি, বিয়াস ও শতদ্রু নদীর ওপর ভারতের পূর্ণ অধিকার রয়েছে। ভারত সেই আইনি অধিকার প্রয়োগ করেই এই জল আটকাচ্ছে।
কেন এই পদক্ষেপ কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ?
২০০১ সালে শুরু হওয়া এই প্রকল্প দীর্ঘকাল ঝুলে ছিল। ২০১৮ সালে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর হস্তক্ষেপে পাঞ্জাব ও জম্মু-কাশ্মীরের অভ্যন্তরীণ বিবাদ মিটে গেলে কাজ দ্রুত গতিতে শুরু হয়। সাম্প্রতিক সময়ে সীমান্ত সন্ত্রাস নিয়ে ভারতের কড়া অবস্থানের মাঝে রাভি নদীর জল আটকে দেওয়া পাকিস্তানের ওপর বড় ধরনের মনস্তাত্ত্বিক ও কৌশলগত চাপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, একদিকে কৃষি উন্নয়ন এবং অন্যদিকে শত্রু দেশকে চাপে রাখা— এই দুই লক্ষ্যেই সফল হচ্ছে নয়াদিল্লি।