বিদায়ী ভাষণে ইউনুসের ভারত-বিরোধী সুর, সংখ্যালঘু ইস্যুতে নীরবতা ও কূটনৈতিক উসকানি

বিদায়ী ভাষণে ইউনুসের ভারত-বিরোধী সুর, সংখ্যালঘু ইস্যুতে নীরবতা ও কূটনৈতিক উসকানি

বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনুস তাঁর বিদায়ী ভাষণে অভ্যন্তরীণ ব্যর্থতা ঢাকতে ভারত-বিরোধী জাতীয়তাবাদী আবেগকে হাতিয়ার করেছেন। গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার, আইনশৃঙ্খলা রক্ষা এবং বিশেষ করে সংখ্যালঘু হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর ধারাবাহিক হামলা ও মন্দির ভাঙচুরের ঘটনায় তাঁর প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে তীব্র সমালোচনা রয়েছে। তবে এই মৌলিক ইস্যুগুলি এড়িয়ে তিনি প্রতিবেশী দেশের বিরুদ্ধে পরোক্ষ কূটনৈতিক উসকানি ও আঞ্চলিক রাজনীতির আশ্রয় নিয়েছেন বলে পর্যবেক্ষকদের দাবি।

ভাষণে ইউনুস ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলোকে নেপাল ও ভুটানের মতো স্বাধীন রাষ্ট্রের সমপর্যায়ে ফেলে আঞ্চলিক অর্থনৈতিক বলয় তৈরির প্রস্তাব দিয়েছেন, যা ভারতের অখণ্ডতার প্রতি সরাসরি চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা হচ্ছে। এছাড়া তিস্তা প্রকল্প ও শিলিগুড়ি করিডরের সন্নিকটে চিনের ক্রমবর্ধমান উপস্থিতিকে সাফল্যের গল্প হিসেবে তুলে ধরে তিনি ভারতের নিরাপত্তা উদ্বেগকে উপেক্ষা করেছেন। সামরিক আধুনিকীকরণের ঘোষণা এবং “আগ্রাসন মোকাবিলা” সংক্রান্ত মন্তব্যকে নয়াদিল্লির প্রতি উসকানিমূলক ইঙ্গিত হিসেবেই গণ্য করা হচ্ছে।

আঠারো মাসের শাসনামলে বাংলাদেশে ইসলামি মৌলবাদী গোষ্ঠীর উত্থান ও অরাজকতা চরমে পৌঁছালেও ইউনুস নিজেকে ‘আত্মমর্যাদা পুনরুদ্ধারের নায়ক’ হিসেবে চিত্রিত করেছেন। ভাষণে হিন্দুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ব্যর্থতার বিষয়ে কোনো অনুশোচনা বা বক্তব্য ছিল না। বিশ্লেষকদের মতে, নিজের প্রশাসনিক ব্যর্থতা এবং রাষ্ট্রের ভেতরে বাড়তে থাকা মৌলবাদকে আড়াল করতেই তিনি সাত বোন ও চিন ইস্যুকে সামনে এনে এক বিপজ্জনক ভূ-রাজনৈতিক উত্তরাধিকার রেখে যাচ্ছেন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *