বিদায়ী ভাষণে ইউনুসের ভারত-বিরোধী সুর, সংখ্যালঘু নির্যাতন নিয়ে নীরবতায় বিতর্ক

বিদায়ী ভাষণে ইউনুসের ভারত-বিরোধী সুর, সংখ্যালঘু নির্যাতন নিয়ে নীরবতায় বিতর্ক

বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মহম্মদ ইউনুস তাঁর বিদায়ী ভাষণে অভ্যন্তরীণ ব্যর্থতা আড়াল করতে ভারত-বিরোধী কূটনৈতিক উসকানি ও জাতীয়তাবাদী আবেগকে বেছে নিয়েছেন। ১৮ মাসের শাসনে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার বা আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় তাঁর সরকার কার্যত ব্যর্থ হয়েছে। বিশেষ করে, দেশে ধারাবাহিক হিন্দু নিধন, মন্দির ভাঙচুর ও সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর চলা বর্বরোচিত হামলা নিয়ে ভাষণে তিনি সম্পূর্ণ নীরব ছিলেন, যা আন্তর্জাতিক স্তরেও তীব্র সমালোচনার জন্ম দিয়েছে।

প্রশাসনিক অরাজকতা ঢাকতে ইউনুস ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলোকে নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করেছেন, যা ভারতের অখণ্ডতার প্রতি সরাসরি চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা হচ্ছে। একই সঙ্গে তিস্তা প্রকল্প ও সামরিক আধুনিকীকরণে চিনের সক্রিয় উপস্থিতিকে সমর্থন জানিয়ে তিনি আঞ্চলিক নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে ঝুঁকির মুখে ঠেলে দিয়েছেন। তাঁর এই কৌশলী অবস্থান প্রতিবেশী দেশ ভারতের সঙ্গে দীর্ঘদিনের কূটনৈতিক সম্পর্কে চরম তিক্ততা ও অস্থিরতা তৈরি করতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

পরিকল্পিতভাবে নিজেকে ‘আত্মমর্যাদা পুনরুদ্ধারের নায়ক’ হিসেবে দাবি করলেও, বাস্তবে ইউনুসের বিদায়ী বার্তা বাংলাদেশে মৌলবাদী শক্তির উত্থান ও বিদেশি শত্রু তৈরির রাজনীতিকেই উসকে দিয়েছে। দেশের অভ্যন্তরীণ ভাঙন ও ধর্মীয় উগ্রবাদ দমনে কোনো দিশা না দেখিয়ে উল্টো ‘আগ্রাসন মোকাবিলার’ নামে ভারতকে পরোক্ষ হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি। এই উগ্র জাতীয়তাবাদী অবস্থান বাংলাদেশের ভবিষ্যৎকে এক গভীর অনিশ্চয়তা ও সাম্প্রদায়িক উত্তেজনার দিকে ঠেলে দিচ্ছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *