আমেরিকার হাইমার্সকে টেক্কা দিতে প্রস্তুত ভারতের পিনাকা, রাফালের বদলে দেশি অস্ত্রেই মজেছে ফ্রান্স

ভারতের প্রতিরক্ষা কৌশলে এক অভাবনীয় মাস্টারস্ট্রোক। একসময় যে ভারত কেবল বিদেশের কাছ থেকে অস্ত্র কিনত, আজ সেই ভারতের তৈরি প্রযুক্তির দিকেই হাত বাড়াচ্ছে উন্নত বিশ্বের দেশগুলো। সাড়ে চার প্রজন্মের ১১৪টি রাফাল যুদ্ধবিমান নিয়ে যখন ফ্রান্সের সঙ্গে ভারতের ৩.২৫ লক্ষ কোটি টাকার মেগা ডিলের প্রস্তুতি তুঙ্গে, ঠিক তখনই ভারতের নিজস্ব ‘পিনাকা’ রকেট সিস্টেম কিনতে বিশেষ আগ্রহ দেখাল ফরাসি সরকার।
বিশ্ববাজারে ভারতের দাপট
আমেরিকার শক্তিশালী হাইমার্স (HIMARS) কিংবা রাশিয়ার টর্নেডো-এস (Tornado S)-এর যোগ্য জবাব হতে চলেছে ভারতের এই মাল্টি ব্যারেল রকেট লঞ্চার সিস্টেম। ফ্রান্সের একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল ইতিমধ্যেই ভারতে এসে পিনাকা সিস্টেমের ক্ষমতা এবং কার্যকারিতা খতিয়ে দেখেছে। ন্যাটো সদস্যভুক্ত একটি দেশ যখন ভারতের দেশি প্রযুক্তিতে আস্থা রাখে, তখন বিশ্বমঞ্চে ভারতের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা এক অন্য উচ্চতায় পৌঁছে যায়।
কেন পিনাকার ওপর নজর ফ্রান্সের
ফ্রান্স বর্তমানে তাদের পুরনো এম-২৭০ রকেট সিস্টেম পরিবর্তন করতে চাইছে। নিজস্ব প্রযুক্তি তৈরিতে সময় লাগবে বলে তারা দ্রুত এবং কার্যকরী বিকল্প হিসেবে পিনাকাকে বেছে নিতে আগ্রহী। বিশেষ করে পিনাকার অত্যাধুনিক সংস্করণ এবং এর নির্ভুল লক্ষ্যভেদী ক্ষমতা ফরাসি বিশেষজ্ঞদের নজর কেড়েছে।
পিনাকার বিধ্বংসী ক্ষমতা ও বিশেষত্ব
প্রতিরক্ষা গবেষণা ও উন্নয়ন সংস্থা (DRDO)-র তৈরি এই সিস্টেমটি পুরোপুরি স্বদেশী প্রযুক্তিতে নির্মিত। এর কিছু অনন্য বৈশিষ্ট্য একে বিশ্বসেরা করে তুলেছে:
- দ্রুত ফায়ারিং: একটি সিঙ্গেল লঞ্চার মাত্র ৪৪ সেকেন্ডে ১২টি রকেট ছুড়তে সক্ষম। পুরো এক ব্যাটারি থেকে এক মিনিটে ৭২টি রকেট নিক্ষেপ করে এক বর্গকিলোমিটার এলাকা মুহূর্তে ধ্বংস করে দেওয়া সম্ভব।
- পাল্লা বা রেঞ্জ: বর্তমান সংস্করণের পাল্লা ৭৫ থেকে ৯০ কিলোমিটার হলেও, পিনাকা এমকে-৩ এর রেঞ্জ ১২০ থেকে ১৩০ কিলোমিটার। ভবিষ্যতে এর ৩০০ কিলোমিটার পাল্লার সংস্করণের কাজ চলছে।
- সাশ্রয়ী ও শক্তিশালী: আমেরিকার হাইমার্স সিস্টেমের তুলনায় পিনাকা প্রায় আট গুণ সস্তা। একটি পিনাকা সিস্টেমের দাম যেখানে ২.৩ কোটি টাকা, সেখানে মার্কিন সিস্টেমের দাম পড়ে প্রায় ১৯.৫ কোটি টাকা।
- শুট অ্যান্ড স্কুট প্রযুক্তি: রকেট ছোড়ার পরেই এই সিস্টেম দ্রুত নিজের অবস্থান পরিবর্তন করতে পারে, ফলে শত্রুপক্ষের পক্ষে একে লক্ষ্যবস্তু করা প্রায় আসাম্ভব।
হাইমার্স বনাম পিনাকা
আমেরিকার হাইমার্স যেখানে ৪৫ সেকেন্ডে ৬টি রকেট ছোড়ে, পিনাকা সেখানে ৪৪ সেকেন্ডে ১২টি রকেট ছুড়ে দ্বিগুণ আঘাত হানতে পারে। পাহাড়ি এলাকা, মরুভূমি কিংবা সমতল—সব ধরনের প্রতিকূল পরিবেশেই পিনাকা সমান কার্যকর। কার্গিল যুদ্ধেও এই সিস্টেম নিজের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করেছিল। ইতিপূর্বে আর্মেনিয়াও ভারত থেকে এই সিস্টেমটি কিনেছে।
রাফাল চুক্তির সমান্তরালে পিনাকা রপ্তানির এই আলোচনা সফল হলে ভারত কেবল অস্ত্র আমদানিকারক নয়, বরং বিশ্বের অন্যতম প্রধান অস্ত্র রপ্তানিকারক দেশ হিসেবে নিজের অবস্থান আরও সুসংহত করবে।