কি ভয়ংকর হতে চলেছে এআই-এর অপব্যবহার? এবার বড়সড় আশঙ্কার কথা শোনালেন অশ্বিনী বৈষ্ণব

দিল্লির ভারত মণ্ডপমে আয়োজিত ‘এআই ইমপ্যাক্ট সামিট ২০২৬’-এ আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ভবিষ্যৎ নিয়ে রীতিমতো উদ্বেগ প্রকাশ করলেন কেন্দ্রীয় ইলেকট্রনিক্স ও আইটি মন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব। এই সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর উপস্থিতিতে মন্ত্রী স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন যে, সুরক্ষা ছাড়া এআই-এর অনিয়ন্ত্রিত উদ্ভাবন চরম বিপদ ডেকে আনতে পারে। বিশেষ করে সংবাদ মাধ্যম এবং বিনোদন জগতের জন্য এটি একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
ডীপফেক এবং ভুল তথ্যের গ্রাস থেকে গণতন্ত্র বাঁচানোর লড়াই
অশ্বিনী বৈষ্ণব জানান, ডীপফেক এবং সিন্থেটিক কনটেন্ট বর্তমান সময়ে গণতন্ত্র, সৃজনশীল শিল্প এবং বিশ্বস্ততার জন্য সবথেকে বড় হুমকি। ৩০টি দেশের মন্ত্রীদের সাথে আলোচনার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, সংবাদ মাধ্যমে এআই-এর অপব্যবহার রুখতে একটি সাধারণ প্রযুক্তিগত ও আইনি সমাধান কেন্দ্র তৈরির কাজ চলছে। সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম থেকে শুরু করে এআই মডেল ডেভেলপারদের ওপর কড়া নজরদারি চালানোর পরিকল্পনা করছে সরকার।
‘ক্রিয়েট ইন ইন্ডিয়া’ মিশনের ঘোষণা
ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁর উপস্থিতিতে এই সম্মেলনে মন্ত্রী আরও জানান, ডেটা ব্রিচ বা তথ্য চুরি এবং ডীপফেক নিয়ে কোনো আপস করা হবে না। দেশের সৃজনশীল অর্থনীতি বা ‘অরেঞ্জ ইকোনমি’কে শক্তিশালী করতে ভারত খুব শীঘ্রই ‘ক্রিয়েট ইন ইন্ডিয়া’ (Create in India) মিশন শুরু করতে চলেছে। এই মিশনের লক্ষ্য হলো আগামী ২৫ বছরের অর্থনৈতিক উন্নয়নের কথা মাথায় রেখে দীর্ঘমেয়াদী শিল্পায়ন ও কর্মসংস্থান নিশ্চিত করা।
অশ্বিনী বৈষ্ণবের মতে, বাকস্বাধীনতা সর্বদা বিশ্বাসের ওপর টিকে থাকে। কিন্তু এআই-এর মাধ্যমে ছড়ানো গুজব বা ভুল তথ্য সেই বিশ্বাসের মূলে আঘাত করছে। তাই সৃজনশীল কাজের মৌলিকত্ব বজায় রাখতে এবং সাধারণ মানুষকে সুরক্ষিত রাখতে এআই কনটেন্ট যাচাইয়ের জন্য সুনির্দিষ্ট নিয়ম ও শংসাপত্র প্রক্রিয়া চালু করা এখন সময়ের দাবি।