প্যান কার্ডে নামের ভুল নিয়ে দুশ্চিন্তা শেষ! বাড়িতে বসেই শুধরে নিন স্পেলিং, জানুন সহজ স্টেপ-বাই-সেটপ পদ্ধতি

বর্তমানে সরকারি বা বেসরকারি যেকোনো গুরুত্বপূর্ণ কাজের ক্ষেত্রে প্যান কার্ড (PAN Card) একটি অপরিহার্য নথি। ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খোলা থেকে শুরু করে আয়কর জমা দেওয়া কিংবা বড় কোনো স্থাবর সম্পত্তি কেনা—সবক্ষেত্রেই প্যান কার্ড ছাড়া আপনার কাজ মাঝপথে আটকে যেতে পারে। কিন্তু সমস্যা তখনই বাঁধে যখন দেখা যায় কার্ডে আপনার নামের বানান ভুল রয়েছে অথবা বিয়ের পর মহিলারা পদবী পরিবর্তন করতে চাইছেন। সরকারি দপ্তরে বারবার ছোটাছুটির ভয়ে অনেকেই এই সংশোধন প্রক্রিয়া এড়িয়ে চলেন। মনে রাখবেন, প্যান কার্ডে ভুল তথ্য থাকা ভবিষ্যতে বড় বিপদের কারণ হতে পারে। তবে ডিজিটাল ইন্ডিয়ার যুগে এখন আর চিন্তার কারণ নেই। খুব সহজেই অনলাইনে কয়েকটি ধাপ অনুসরণ করে আপনি আপনার প্যান কার্ডের তথ্য আপডেট করতে পারেন।
অনলাইনে প্যান কার্ডের নাম সংশোধনের বিস্তারিত নির্দেশিকা
নিচে দেওয়া সহজ পদ্ধতিগুলো অনুসরণ করে আপনি নিজেই নিজের প্যান কার্ডের ভুল ঠিক করে নিতে পারবেন:
১. অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে প্রবেশ
সবার আগে আপনাকে NSDL (Protean) অথবা UTIITSL-এর অফিসিয়াল পোর্টালে যেতে হবে। এই দুটি সংস্থা ভারত সরকারের পক্ষ থেকে প্যান কার্ড সংক্রান্ত পরিষেবা প্রদান করে।
২. সঠিক অপশন নির্বাচন
ওয়েবসাইটের হোম পেজে গিয়ে ‘Application Type’ মেনুটি খুঁজুন। সেখানে ড্রপ-ডাউন থেকে ‘Changes or Correction in existing PAN data/Reprint of PAN Card’ অপশনটি সিলেক্ট করুন। এটি বিদ্যমান প্যান কার্ডের তথ্য পরিবর্তনের জন্য নির্দিষ্ট।
৩. টোকেন নম্বর সংগ্রহ
আপনার প্রাথমিক তথ্য যেমন নাম, মোবাইল নম্বর, ইমেল আইডি এবং জন্ম তারিখ দিয়ে ফর্মটি পূরণ করুন। সাবমিট করার পর স্ক্রিনে ১৫ ডিজিটের একটি ইউনিক টোকেন নম্বর আসবে। এটি অবশ্যই কোথাও লিখে রাখুন বা স্ক্রিনশট নিয়ে রাখুন। যদি মাঝপথে ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়, তবে এই টোকেন নম্বর ব্যবহার করে আপনি আবার ফর্মটি সেখান থেকেই শুরু করতে পারবেন।
৪. তথ্যের নির্ভুল আপডেট
এবার মূল ফর্মে গিয়ে যে অংশটি সংশোধন করতে চান (যেমন ‘Full Name’) সেটি টিক দিন। খেয়াল রাখবেন, আপনি যে নাম বা বানানটি এখন লিখছেন, তা যেন আপনার আধার কার্ডের তথ্যের সাথে হুবহু মিলে যায়। কোনো অসামঞ্জস্য থাকলে আবেদন বাতিল হতে পারে।
৫. প্রয়োজনীয় নথিপত্র আপলোড
পরিচয়পত্র (Identity Proof), ঠিকানার প্রমাণ (Address Proof) এবং জন্ম তারিখের প্রমাণের জন্য নির্দিষ্ট নথি আপলোড করতে হবে। এ ক্ষেত্রে আধার কার্ড সবথেকে নির্ভরযোগ্য এবং সহজলভ্য নথি হিসেবে বিবেচিত হয়।
৬. অনলাইন পেমেন্ট
তথ্য সংশোধনের জন্য আপনাকে একটি সামান্য প্রসেসিং ফি (সাধারণত ১০০ থেকে ১১০ টাকার মধ্যে) অনলাইন মোডে (ইউপিআই, ডেবিট/ক্রেডিট কার্ড বা নেট ব্যাংকিং) জমা দিতে হবে।
৭. স্বীকৃতি পত্র বা একনলেজমেন্ট স্লিপ
পেমেন্ট সফল হওয়ার পর স্ক্রিনে একটি একনলেজমেন্ট স্লিপ বা প্রাপ্তি স্বীকার পত্র আসবে। এটি ডাউনলোড করে প্রিন্ট করে নিন। এতে থাকা নম্বর ব্যবহার করে আপনি ভবিষ্যতে আপনার প্যান কার্ডের বর্তমান স্থিতি বা স্ট্যাটাস ট্র্যাক করতে পারবেন।
নাম পরিবর্তনের সময় যে বিষয়গুলো মাথায় রাখা জরুরি
প্যান কার্ড আপডেটের সময় নিশ্চিত করুন যে আপনার মোবাইল নম্বরটি আধার কার্ডের সাথে লিঙ্ক করা আছে। এর ফলে আপনি e-KYC-এর মাধ্যমে ডিজিটাল স্বাক্ষর বা ই-সাইন করতে পারবেন, যা পুরো প্রক্রিয়াটিকে কাগজবিহীন (Paperless) করে তুলবে। আপনাকে কোনো ফিজিক্যাল নথি ডাকযোগে কোথাও পাঠাতে হবে না। সমস্ত প্রক্রিয়া সফলভাবে সম্পন্ন হওয়ার পর, ১৫ থেকে ৩০ দিনের মধ্যে আপনার রেজিস্টার্ড ঠিকানায় ডাকযোগের মাধ্যমে নতুন আপডেটেড প্যান কার্ডটি পৌঁছে যাবে।
প্যান কার্ডে ভুল নিয়ে আর দেরি করবেন না। আজই এই সহজ পদ্ধতি অবলম্বন করে ঘরে বসে আপনার তথ্য সংশোধন করে নিন এবং আইনি জটিলতা থেকে মুক্ত থাকুন।