আদানিকে টেক্কা দিয়ে ভারতের পঞ্চম প্রজন্মের যুদ্ধবিমান তৈরির দৌড়ে ৩ মেগা কো ম্পা নি

আদানিকে টেক্কা দিয়ে ভারতের পঞ্চম প্রজন্মের যুদ্ধবিমান তৈরির দৌড়ে ৩ মেগা কোম্পানি

ভারতের প্রতিরক্ষা ইতিহাসে এক যুগান্তকারী অধ্যায় শুরু হতে চলেছে। স্বপ্নপূরণের পথে আরও একধাপ এগিয়ে গেল ভারতের নিজস্ব প্রযুক্তিতে তৈরি পঞ্চম প্রজন্মের স্টিলথ যুদ্ধবিমান বা ‘অ্যাডভান্সড মিডিয়াম কমব্যাট এয়ারক্রাফট’ (AMCA) প্রকল্প। তবে এই মেগা প্রজেক্টে বড়সড় ধাক্কা খেল আদানি গ্রুপ। প্রতিরক্ষা গবেষণা ও উন্নয়ন সংস্থা (DRDO) এই উচ্চাকাঙ্ক্ষী প্রকল্পের প্রোটোটাইপ তৈরির জন্য যে তিনটি সংস্থাকে বেছে নিয়েছে, সেই তালিকায় জায়গা হয়নি আদানিদের।

আমকা (AMCA) প্রকল্পের বর্তমান চিত্র

সূত্রের খবর, ডিআরডিও এই প্রজেক্টের নকশা এবং প্রাথমিক মডেল তৈরির জন্য নির্দিষ্ট তিনটি বেসরকারি সংস্থাকে শর্টলিস্ট করেছে। ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের রিপোর্ট অনুযায়ী, বাছাইকৃত তালিকায় রয়েছে:

  • টাটা অ্যাডভান্সড সিস্টেমস লিমিটেড (স্বতন্ত্র আবেদনকারী হিসেবে)
  • লার্সেন অ্যান্ড টুব্রো (L&T) এবং ভারত ইলেকট্রনিক্স লিমিটেড (BEL)-এর কনসোর্টিয়াম
  • ভারত ফোর্জ, বিইএমএল লিমিটেড (BEML) এবং ডেটা প্যাটার্নস-এর সমন্বয়ে গঠিত একটি কনসোর্টিয়াম

দৌড়ে পিছিয়ে পড়ল আদানি গ্রুপ

প্রতিরক্ষা খাতের এই লড়াইয়ে আদানি ডিফেন্স সহ মোট সাতটি বড় ভারতীয় সংস্থা অংশ নিয়েছিল। এর আগে জল্পনা ছিল যে এলঅ্যান্ডটি বা টাটার পাশাপাশি আদানি গ্রুপও এই প্রজেক্টের অংশ হতে পারে। কিন্তু বর্তমান স্ক্রিনিং প্রক্রিয়ায় আদানি গ্রুপ বাদ পড়ায় প্রতিরক্ষা বাজারে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। মূলত কঠোর প্রযুক্তিগত মানদণ্ড এবং অভিজ্ঞতার নিরিখে এই তিন সংস্থাকেই অগ্রাধিকার দিয়েছে ডিআরডিও।

কী এই এএমসিএ প্রকল্প?

ভারতের বায়ুসেনাকে বিশ্বের অন্যতম শক্তিশালী বাহিনীতে পরিণত করতে এই প্রকল্পের গুরুত্ব অপরিসীম। আমকা হবে একটি একক আসন বিশিষ্ট এবং শক্তিশালী ডাবল ইঞ্জিনের যুদ্ধবিমান। এতে থাকবে:

  • অ্যাডভান্সড স্টিলথ কোটিং: যা শত্রুর রাডারকে ফাঁকি দিতে সক্ষম।
  • ইন্টারনাল ওয়েপনস বে: বিমানের ভেতরেই অস্ত্র রাখার আধুনিক ব্যবস্থা।
  • নেক্সট জেনারেশন এভিয়োনিক্স: অত্যাধুনিক সেন্সর এবং যোগাযোগ প্রযুক্তি।

ভারত সরকার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে যে, ২০৩৫ সালের মধ্যে ১২৫টিরও বেশি এই ধরনের যুদ্ধবিমান বায়ুসেনার অন্তর্ভুক্ত করা হবে। নির্বাচিত সংস্থাগুলি এই প্রোটোটাইপ তৈরির জন্য সরকারের পক্ষ থেকে বিশেষ অনুদান পেতে পারে। প্রোটোটাইপগুলোর সফল পরীক্ষার পরই চূড়ান্ত উৎপাদন বা ম্যানুফ্যাকচারিংয়ের দায়িত্ব তুলে দেওয়া হবে।

ভবিষ্যতের লক্ষ্য

ভারত বর্তমানে প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম আমদানিকারক দেশ থেকে রফতানিকারক দেশে পরিণত হওয়ার স্বপ্ন দেখছে। আমকা প্রজেক্ট সফল হলে আমেরিকা, রাশিয়া বা চিনের মতো হাতেগোনা কয়েকটি দেশের তালিকায় নাম লেখাবে ভারত, যাদের কাছে নিজস্ব প্রযুক্তির পঞ্চম প্রজন্মের যুদ্ধবিমান রয়েছে। ১৫,০০০ কোটি টাকার এই প্রাথমিক প্রকল্পে যারা সফল হবে, তাদের হাতেই থাকবে ভারতের আকাশের সুরক্ষার চাবিকাঠি।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *