বিদায়বেলায় ইউনূসের নিশানায় ভারত? সেভেন সিস্টার্স নিয়ে মাস্টারপ্ল্যান ঘিরে তোলপাড়

নিউজ ডেস্ক
বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টার পদ থেকে বিদায় নেওয়ার ঠিক আগে এক বিস্ফোরক মন্তব্য করে নতুন বিতর্ক উসকে দিলেন ড. মুহাম্মদ ইউনূস। মঙ্গলবার তারিক রহমানের নেতৃত্বে নতুন সরকার শপথ নেওয়ার প্রাক্কালে জাতির উদ্দেশে দেওয়া শেষ ভাষণে ইউনূস ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলো বা ‘সেভেন সিস্টার্স’ নিয়ে যে প্রস্তাব রেখেছেন, তা নিয়ে কূটনৈতিক মহলে তীব্র চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে।
সেভেন সিস্টার্স ও আঞ্চলিক অর্থনীতি নিয়ে বিতর্কিত প্রস্তাব
নিজের বিদায়ী ভাষণে ড. ইউনূস বাংলাদেশ, নেপাল এবং ভুটানের পাশাপাশি ভারতের ‘সেভেন সিস্টার্স’ খ্যাত রাজ্যগুলোকে নিয়ে একটি পৃথক ‘উপ-আঞ্চলিক অর্থনৈতিক কাঠামো’ (Sub-regional Economic Framework) গড়ার কথা বলেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, বাংলাদেশের সমুদ্রবন্দরগুলো কেবল একটি ভৌগোলিক সীমানা নয়, বরং এটি নেপাল, ভুটান এবং ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের জন্য বিশ্ব অর্থনীতিতে প্রবেশের প্রধান প্রবেশদ্বার হতে পারে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সার্বভৌম দেশ নেপাল ও ভুটানের সঙ্গে ভারতের একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ ‘সেভেন সিস্টার্স’কে একই সারিতে বসিয়ে ইউনূস মূলত ভারতের অভ্যন্তরীণ অখণ্ডতা এবং রাজনৈতিক সীমানাকে বিশ্ব দরবারে ধোঁয়াশাপূর্ণ করার চেষ্টা করেছেন। সরাসরি ভারতের নাম না নিয়ে কেবল রাজ্যগুলোর নাম উল্লেখ করাকে নয়াদিল্লিকে প্ররোচিত করার একটি কৌশল হিসেবে দেখা হচ্ছে।
দিল্লির উদ্বেগ ও নেপথ্য রাজনীতি
বিগত কয়েক বছরে ভারত তার উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলোর সঙ্গে মূল ভূখণ্ডের যোগাযোগ স্থাপনে বাংলাদেশের মধ্য দিয়ে কানেক্টিভিটি এবং অবকাঠামো খাতে বিপুল বিনিয়োগ করেছে। কিন্তু ইউনূসের এই নতুন বয়ান ভারতের সেই দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনাকে চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলে দিচ্ছে। তার বক্তব্যে আভাস পাওয়া গেছে যে, এই অঞ্চলের অর্থনৈতিক ভবিষ্যৎ ভারতের কেন্দ্রীয় পরিকল্পনার চেয়ে বাংলাদেশের স্ট্র্যাটেজিক সিদ্ধান্তের ওপর বেশি নির্ভরশীল হওয়া উচিত।
কূটনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, ইউনূসের এই ‘মাস্টারপ্ল্যান’ আদতে ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে দিল্লির নিয়ন্ত্রণ এবং প্রভাবকে খাটো করে দেখানোর একটি সুচিন্তিত প্রয়াস। এটি ভারতের জাতীয় নিরাপত্তার ক্ষেত্রেও সংবেদনশীল ইস্যু হয়ে উঠতে পারে।
কেন এই বয়ান?
আগামীকাল মঙ্গলবার থেকে বাংলাদেশে বিএনপি নেতা তারিক রহমানের নেতৃত্বে নতুন সরকার দায়িত্ব নিতে চলেছে। গত ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে ২৯৭টি আসনের মধ্যে ২০৯টি আসন পেয়ে বড় জয় নিশ্চিত করেছে বিএনপি। এমন এক সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে ইউনূসের এই ভারত-বিদ্বেষী সুর নতুন সরকারের সঙ্গে নয়াদিল্লির সম্পর্কের শুরুতে বড় ধরনের জটিলতা তৈরি করতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, অন্তর্বর্তীকালীন শাসনকালে সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ব্যর্থতা এবং বৈদেশিক নীতি পরিচালনায় অদূরদর্শিতার জন্য ইউনূস ইতোমধ্যেই দেশের অভ্যন্তরে ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েছেন। বিদায়বেলায় ভারতের স্পর্শকাতর অঞ্চল নিয়ে তার এই মন্তব্য সেই সমালোচনাকে আরও উসকে দিল।