ভারতের আকাশসীমা রক্ষায় মহাপ্রলয়! রাফাল ও তেজসের হাতে আসছে দেশি ‘হ্যামার’ মিসাইল

ভারতের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় এক ঐতিহাসিক মুহূর্তের সূচনা হতে চলেছে। সীমান্তে শত্রুদেশের দাপট রুখতে এবং আকাশপথে ভারতের শক্তি কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিতে এবার দেশেই তৈরি হবে বিশ্বের অন্যতম বিধ্বংসী অস্ত্র ‘হ্যামার’ (HAMMER) মিসাইল। মঙ্গলবার বেঙ্গালুরুতে ভারত ও ফ্রান্সের মধ্যে আয়োজিত ষষ্ঠ বার্ষিক প্রতিরক্ষা সংলাপে এই সংক্রান্ত একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সমঝোতা স্মারক (MoU) স্বাক্ষরিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এই চুক্তির ফলে ফ্রান্সের সহায়তায় ভারতের রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা ভারত ইলেকট্রনিক্স লিমিটেড (BEL) এবং ফরাসি ইঞ্জিন নির্মাতা সংস্থা ‘সফরান’ যৌথভাবে এই ঘাতক মিসাইল উৎপাদন করবে।
যুদ্ধের ময়দানে কেন অপ্রতিরোধ্য এই হ্যামার মিসাইল?
ফরাসি প্রযুক্তিতে তৈরি এই হ্যামার মিসাইল মূলত একটি ‘এয়ার-টু-সারফেস’ অর্থাৎ আকাশ থেকে মাটিতে নিখুঁতভাবে আঘাত হানতে সক্ষম প্রিসিশন গাইডেড মিউনিশন। এটি যেকোনো প্রতিকূল আবহাওয়াতেও শত্রুর বাঙ্কার বা গোপন ঘাঁটি গুঁড়িয়ে দিতে সক্ষম। ভারতের হাতে এই মিসাইলের দুটি অত্যাধুনিক সংস্করণ তৈরি হতে চলেছে:
- HAMMER 250 XLR: এর বিধ্বংসী রেঞ্জ প্রায় ২০০ কিলোমিটারেরও বেশি। অর্থাৎ ভারতীয় যুদ্ধবিমানগুলি নিরাপদ দূরত্বে থেকেই শত্রুপক্ষের সীমানার ভেতরে থাকা লক্ষ্যবস্তু ধ্বংস করতে পারবে।
- HAMMER 1000 XLR: এই সংস্করণটির রেঞ্জ প্রায় ১৫০ কিলোমিটার। এটি ওজনে ভারী এবং আরও শক্তিশালী লক্ষ্যবস্তু ধ্বংস করার উপযোগী।
দেশীয় প্রযুক্তিতে ‘আত্মনির্ভর ভারত’ অভিযান
এই চুক্তির সবচেয়ে বড় বিশেষত্ব হলো এর উৎপাদন প্রক্রিয়া। এটি কেবল বিদেশের অস্ত্র কেনা নয়, বরং প্রযুক্তি হস্তান্তরের (ToT) মাধ্যমে ভারতে উৎপাদন করা। পরিকল্পনামাফিক বছরে অন্তত ১০০০টি মিসাইল তৈরির সক্ষমতা রাখা হচ্ছে। এর ফলে ভারত তার রাফাল (Rafale) এবং দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি তেজস (HAL Tejas) যুদ্ধবিমানের জন্য নিজস্ব প্রয়োজন অনুযায়ী এই মিসাইল ব্যবহার করতে পারবে।
অপারেশন সিন্ধু ও হ্যামারের সাফল্য
এর আগে ‘অপারেশন সিন্ধু’ চলাকালীন ভারতীয় বায়ুসেনা হ্যামার ও স্ক্যাল্প (SCALP) মিসাইলের কার্যকারিতা পরীক্ষা করে দেখেছিল। অত্যন্ত দুর্গম পাহাড়ি এলাকাতেও শত্রুর গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে হ্যামারের নিখুঁত নিশানার ক্ষমতা দেখে মুগ্ধ প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞরা। সেসময় জরুরি ভিত্তিতে কিছু মিসাইল কেনা হলেও, এবার দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার অংশ হিসেবে ভারত এর দেশীয় উৎপাদনে জোর দিচ্ছে।
ভূ-রাজনৈতিক গুরুত্ব ও ভবিষ্যৎ
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ‘আত্মনির্ভর ভারত’ অভিযানের এটি একটি বড় মাইলফলক হিসেবে দেখা হচ্ছে। ভারতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী এবং ফরাসি প্রতিরক্ষা মন্ত্রী ক্যাথরিন ভট্যরিনের উপস্থিতিতে এই ঘোষণা আসার কথা। ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ এই চুক্তিতে সবুজ সংকেত দেওয়ায় ভারত ও ফ্রান্সের কৌশলগত সম্পর্ক এক নতুন উচ্চতায় পৌঁছে গেল। এই পদক্ষেপ কেবল দক্ষিণ এশিয়ায় ভারতের সামরিক শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করবে না, বরং ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলেও শক্তির ভারসাম্য বজায় রাখতে সাহায্য করবে।
আগামী দিনে এই হ্যামার মিসাইল ভারতীয় বায়ুসেনার জন্য এমন এক কবজ হতে চলেছে যা ভেদ করা শত্রুপক্ষের রাডারের পক্ষে প্রায় আসাম্ভব হবে। দেশীয় উৎপাদন শুরু হলে ভারত ভবিষ্যতে এই উন্নত মিসাইল বন্ধুপ্রতীম দেশগুলিতে রপ্তানি করার পথও প্রশস্ত করতে পারে।