বাংলার ৭ নির্বাচনী আধিকারিক সাসপেন্ড হতেই গর্জে উঠলেন দিলীপ ঘোষ

রাজ্যে নির্বাচনী প্রস্তুতিতে বড়সড় ধাক্কা। গাফিলতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগে একযোগে পশ্চিমবঙ্গের ৭ নির্বাচনী আধিকারিককে সাসপেন্ড করল নির্বাচন কমিশন। এই কড়া পদক্ষেপের পর রাজ্য রাজনীতিতে শোরগোল পড়ে গিয়েছে। মঙ্গলবার সকালে এই ইস্যুতে মুখ খুলেই বিস্ফোরক মন্তব্য করলেন বিজেপি নেতা তথা প্রাক্তন সাংসদ দিলীপ ঘোষ। অভিযুক্ত আধিকারিকদের কঠোর সাজার দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, এদের আসল রূপ জনগণের সামনে আসা উচিত।
কমিশনের কড়া দাওয়াই ও সাসপেনশন রিপোর্ট
রবিবার নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে এক নির্দেশিকায় রাজ্যের ৭ জন অ্যাসিস্ট্যান্ট ইলেক্টোরাল রেজিস্ট্রেশন অফিসার বা AERO-কে সাসপেন্ড করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এই তালিকায় রয়েছেন ক্যানিং পূর্বের দুই আধিকারিক, সুতি, ময়নাগুড়ি, ফরাক্কা, সামশেরগঞ্জ এবং ডেবরা বিধানসভা কেন্দ্রের এক জন করে আধিকারিক। রাজ্যের মুখ্যসচিব নন্দিনী চক্রবর্তীকে চিঠি পাঠিয়ে অবিলম্বে এই অফিসারদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে কমিশন।
সূত্রের খবর, ১৯৫০ সালের জনপ্রতিনিধিত্ব আইনের ১৩সিসি ধারার অধীনে বিশেষ ক্ষমতা প্রয়োগ করে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। মূলত এসআইআর (SIR) বা ভোটার তালিকা সংশোধনের কাজে চরম গাফিলতি, তথ্যে অসঙ্গতি এবং পদের অপব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে এই আধিকারিকদের বিরুদ্ধে। কমিশন স্পষ্ট জানিয়েছে, এই নির্দেশ পালনে কোনওরকম দেরি করা চলবে না এবং রাজ্য কী ব্যবস্থা নিল তা দ্রুত জানাতে হবে।
এদের পর্দাফাঁস হওয়া দরকার বললেন দিলীপ ঘোষ
মঙ্গলবার সকালে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে দিলীপ ঘোষ এই আধিকারিকদের তীব্র সমালোচনা করেন। তিনি অভিযোগ করেন যে, কিছু সরকারি আধিকারিক ইচ্ছা করে নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় জটিলতা সৃষ্টি করছেন। দিলীপ ঘোষের কথায়, তদন্তে দেখা গিয়েছে কিছু অফিসার জেনেবুঝে অসহযোগিতা করছেন যাতে পুরো প্রক্রিয়াটি বিলম্বিত হয়। তিনি বলেন, “এমন বহু কর্মচারী রয়েছেন যারা কাজের বদলে রাজনীতি করছেন। এদের সকলের পর্দাফাঁস করা উচিত এবং প্রত্যেককে দৃষ্টান্তমূলক সাজা দেওয়া উচিত।”
‘ভুতুড়ে ভোটার’ ও পুরনো বিতর্ক
উল্লেখ্য, এটিই প্রথম নয়। এর আগেও রাজ্যের ৪ আধিকারিকের বিরুদ্ধে এফআইআর (FIR) করার নির্দেশ দিয়েছিল কমিশন। পূর্ব মেদিনীপুরের ময়না এবং দক্ষিণ ২৪ পরগনার বারুইপুর পূর্বের আধিকারিকদের বিরুদ্ধে তালিকায় ‘ভুতুড়ে’ বা ভুয়ো ভোটারদের নাম তোলার গুরুতর অভিযোগ উঠেছিল। সেই সময় এফআইআর করতে দেরি হওয়ায় রাজ্যের মুখ্যসচিবকে দিল্লিতে তলবও করা হয়েছিল।
রাজনৈতিক মহলের মতে, লোকসভা নির্বাচনের আগে ভোটার তালিকা নিয়ে কোনওরকম আপস করতে রাজি নয় নির্বাচন কমিশন। আধিকারিকদের এই গণ-সাসপেনশন সেই কড়া বার্তারই প্রতিফলন। কমিশন বুঝিয়ে দিল যে, ভোটার তালিকায় কারচুপি বা কাজে অনীহা দেখালে কাউকেই রেয়াত করা হবে না।