সিবিআই পরিচয়ে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার ছক, কলকাতায় ফাঁস বাংলাদেশি প্রতারকের আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্ক

সিবিআই পরিচয়ে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার ছক, কলকাতায় ফাঁস বাংলাদেশি প্রতারকের আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্ক

কলকাতা: কলকাতায় হানা দিয়ে এক বিশাল আন্তর্জাতিক ডিজিটাল প্রতারণা চক্রের পর্দাফাঁস করল পুলিশ। সিবিআই আধিকারিক সেজে সাধারণ মানুষকে ভয় দেখিয়ে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার এই কারবার চলত খোদ শহরের বুক থেকে। আমহার্স্ট স্ট্রিটের এক ডেরায় অভিযান চালিয়ে চক্ষু চড়কগাছ গোয়েন্দাদের। উদ্ধার হয়েছে হাজার হাজার সিম কার্ড এবং অত্যাধুনিক ‘সিম বক্স’ প্রযুক্তি।

যেভাবে চলত এই জালিয়াতি

তদন্তে জানা গিয়েছে, এই চক্রের সদস্যরা নিজেদের সিবিআই (CBI) অফিসার পরিচয় দিয়ে সাধারণ মানুষকে ফোন করত। দাবি করা হতো, ভুক্তভোগীর নামে আসা কোনো পার্সলে অবৈধ মাদক বা নিষিদ্ধ বস্তু পাওয়া গিয়েছে। এরপর গ্রেফতারির ভয় দেখিয়ে এবং ভুয়ো আইনি নথি পাঠিয়ে চলত ব্ল্যাকমেইল। এভাবেই একজনের কাছ থেকে ৩ কোটি টাকারও বেশি হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ সামনে আসার পর তদন্তে নামে পুলিশ।

প্রযুক্তির আড়ালে অপরাধ

প্রতারকরা ‘টেলিকম গেটওয়ে’ এবং ‘সিম বক্স’ নামক অত্যাধুনিক যন্ত্র ব্যবহার করত। এর ফলে মালয়েশিয়া বা অন্য দেশ থেকে আসা আন্তর্জাতিক কলগুলোকে স্থানীয় কল হিসেবে দেখানো হতো। ফলে পুলিশের পক্ষে কলের আসল উৎস খুঁজে পাওয়া কঠিন হয়ে দাঁড়াত। তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, বাগুইআটি, রাজাবাজার ও এসপ্ল্যানেড জুড়ে জাল বিছিয়েছিল এই চক্রটি।

বাংলাদেশি নাগরিক ও আন্তর্জাতিক যোগসূত্র

এই চক্রের অন্যতম পান্ডা আবির শেখ একজন বাংলাদেশি নাগরিক। সে পুলিশের নজর এড়াতে বাংলাদেশি ভিপিএন (VPN) এবং ভার্চুয়াল নম্বর ব্যবহার করত। তবে পুলিশি জেরায় উঠে এসেছে আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য। জানা গিয়েছে, এই চক্রের মূল চালিকাশক্তি হলো ত্রিপুরার বাসিন্দা বিপ্লব হোসেন এবং মালয়েশিয়ার নাগরিক চুং ওয়েই কিয়াত। এই মালয়েশিয়ান নাগরিক চিকিৎসার বাহানায় বারবার ভারতে এসে অপরাধমূলক কাজ চালাত।

পুলিশি অভিযানে যা উদ্ধার হলো:

  • সক্রিয় সিম বক্স মেশিন
  • ১টি ল্যাপটপ ও ৯টি রাউটার
  • ১৭টি মোবাইল ফোন
  • ২,২৫০টি অবৈধ সিম কার্ড
  • সিসিটিভি ক্যামেরা এবং মালয়েশিয়ান মুদ্রা

বিধাননগর এবং কলকাতা পুলিশের যৌথ অভিযানে আবির শেখ এবং মহম্মদ আমজাদ নামে দুই অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এই চক্রের জাল কতদূর বিস্তৃত এবং এর পেছনে আরও বড় কোনো প্রভাবশালী মাথা রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখছেন গোয়েন্দারা।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *