সংবিধান সংস্কার পরিষদ নিয়ে বিএনপি-জামায়াত দ্বন্দ্বে বাংলাদেশে শপথগ্রহণ ঘিরে জটিলতা

বাংলাদেশে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর মধ্যে চরম রাজনৈতিক টানাপড়েন শুরু হয়েছে। মঙ্গলবার জাতীয় সংসদ ভবনে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের কাছে বিএনপির সংসদ সদস্যরা শপথ নিলেও ‘জুলাই সনদ’ অনুযায়ী গঠিত সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ নিতে অস্বীকার করেন। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ জানান, দলীয় চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তারা এই পরিষদের অংশ হবেন না।
বিএনপির এই সিদ্ধান্তে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে জামায়াতে ইসলামী। দলটির নায়েবে আমির সৈয়দ আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ তাহের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যে, বিএনপির সদস্যরা সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ না নিলে জামায়াতের কোনো নির্বাচিত সদস্যই শপথ নেবেন না। এই অচলাবস্থার কারণে নির্ধারিত সময়ে জামায়াত সদস্যদের শপথগ্রহণ স্থগিত হয়ে যায়। মূলত জুলাই সনদের ৪৮টি প্রস্তাব বাস্তবায়ন ও সংবিধান সংস্কার পরিষদের বৈধতা নিয়েই দুই দলের মধ্যে এই বিরোধ তৈরি হয়েছে।
এই রাজনৈতিক ডামাডোলের মধ্যে জাতীয় নাগরিক পার্টিও (এনসিপি) শপথ না নেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছে। অন্যদিকে, শপথগ্রহণের পর সংসদীয় দলের বৈঠকে বিএনপি সিদ্ধান্ত নিয়েছে যে, তাদের কোনো সংসদ সদস্য সরকারি গাড়ি বা জমি গ্রহণ করবেন না। অন্তর্বর্তী সরকারের বিদায়ের পর নতুন সরকার গঠনের প্রাক্কালে জুলাই সনদের বাস্তবায়ন নিয়ে প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর এই সংঘাত বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ শাসনতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।