রিলস বানাতে গিয়ে রক্তারক্তি কাণ্ড, কিশোরের বেপরোয়া স্টিয়ারিং কেড়ে নিল তরতাজা প্রাণ

দিল্লি: সোশ্যাল মিডিয়ায় জনপ্রিয় হওয়ার নেশা যে কতটা ভয়াবহ হতে পারে, তার মর্মান্তিক প্রমাণ মিলল দেশের রাজধানীতে। রিলস বানানোর চক্করে এক নাবালকের বেপরোয়া গাড়ি কেড়ে নিল ২৩ বছরের যুবক সাহিল ধানেশরার প্রাণ। অভিযোগ উঠেছে, দুর্ঘটনার সময় ওই কিশোর শুধু গাড়িই চালাচ্ছিল না, বরং তার বোন পাশের সিটে বসে সেই রোমহর্ষক গতির ভিডিও রেকর্ড করছিল।
রিলস যখন মৃত্যুর ফাঁদ
মৃত সাহিলের মায়ের দাবি, ১৭ বছরের ওই কিশোর নিছক শখের বশে বাবার স্করপিও গাড়িটি নিয়ে রাস্তায় বেরিয়েছিল। উদ্দেশ্য ছিল ঝকঝকে একটি ভিডিও বা রিলস তৈরি করা। সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা গেছে, সরু রাস্তা দিয়ে তীব্র গতিতে গাড়ি ছুটিয়ে আসছিল ওই নাবালক। একটি হলুদ বাসকে ওভারটেক করার মুহূর্তেই উল্টো দিক থেকে আসা সাহিলের বাইকের সঙ্গে সেটির মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। ধাক্কা এতটাই জোরালো ছিল যে, ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় সাহিলের।
দুর্ঘটনার পর অমানবিকতা
গত ৩ ফেব্রুয়ারি লাল বাহাদুর শাস্ত্রী কলেজের কাছে এই দুর্ঘটনাটি ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, দুর্ঘটনার পর দীর্ঘক্ষণ রক্তাক্ত অবস্থায় রাস্তায় পড়েছিলেন সাহিল। সাহায্যের জন্য চিৎকার করলেও কেউ এগিয়ে আসেনি। প্রায় দুই ঘণ্টা দেহটি রাস্তাতেই পড়ে থাকে। ময়নাতদন্তের রিপোর্টে জানা গেছে, মাথায় গুরুতর চোট এবং অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের ফলেই মৃত্যু হয়েছে ওই যুবকের। এই ঘটনায় একটি পার্ক করা গাড়ি ও ট্যাক্সিও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, আহত হয়েছেন এক ট্যাক্সিচালক।
পুলিশি পদক্ষেপ ও ক্ষোভ
ঘটনার পর অভিযুক্ত কিশোরকে আটক করে জুভেনাইল জাস্টিস বোর্ডে পাঠানো হয়েছিল। তবে পরীক্ষার কারণ দেখিয়ে আদালত তাকে অন্তর্বর্তী জামিন দিয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, অভিযুক্তের বাবার বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে এবং চার্জশিটে তাঁর নাম অন্তর্ভুক্ত করা হবে। সিসিটিভি ফুটেজ ও ভাইরাল হওয়া ভিডিওটি খতিয়ে দেখে ঘটনার সত্যতা যাচাই করছে দিল্লি পুলিশ। তবে ছেলের অকাল মৃত্যুতে ভেঙে পড়া সাহিলের পরিবার এখন দোষীদের কঠোর শাস্তির দাবি জানাচ্ছে।