তারেক রহমানের সামনে নতুন বাংলাদেশ গড়ার কঠিন চ্যালেঞ্জ

দীর্ঘ ১৭ বছরের নির্বাসন কাটিয়ে দেশে ফিরেই তারেক রহমান এক আধুনিক ও ধর্মনিরপেক্ষ বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখিয়েছেন। ঢাকার মাটিতে পা রেখে মার্টিন লুথার কিং-এর আদলে দেওয়া তাঁর ‘আই হ্যাভ আ ড্রিম’ ভাষণটি জনমনে ব্যাপক কৌতূহল সৃষ্টি করেছে। সাম্প্রতিক নির্বাচনে বিএনপির নিরঙ্কুশ জয় তাঁকে ক্ষমতার শীর্ষবিন্দুতে পৌঁছে দিয়েছে। তবে এই বিশাল জয়ের সাথে এসেছে পাহাড়প্রমাণ প্রত্যাশা, যা পূরণ করা তাঁর জন্য এক অগ্নিপরীক্ষা।
এবারের নির্বাচন বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক ইতিহাসে এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভোট নিয়ে নানা গুজব ও অস্থিরতার আশঙ্কা থাকলেও, বাস্তবে উৎসবমুখর পরিবেশে শান্তিপূর্ণভাবে ভোটদান সম্পন্ন হয়েছে। আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরাও সাধারণ মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থার ভূয়সী প্রশংসা করেছেন। বিশেষ করে নারী ভোটারদের ব্যাপক উপস্থিতি ও কেন্দ্রগুলোতে বিরাজমান স্বস্তিদায়ক পরিবেশ একটি স্থিতিশীল আগামীর ইঙ্গিত দিচ্ছে।
তারেক রহমানের প্রধান চ্যালেঞ্জ হলো জামায়াতের সঙ্গ ত্যাগ করে ঘোষিত ধর্মনিরপেক্ষ অবস্থান বজায় রাখা। অতীতে বিএনপির রাজনীতিতে যে মেরুকরণ ছিল, তা থেকে বেরিয়ে এসে তিনি এবার উন্নয়নের নতুন পথ বেছে নিয়েছেন। আওয়ামী লীগের অনুপস্থিতিতে তৈরি হওয়া শূন্যস্থান পূরণে তাঁর সংযত আচরণ ও আধুনিক দৃষ্টিভঙ্গি দক্ষিণ এশিয়ার রাজনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে আশা করা হচ্ছে। ভারতের সাথে সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রেখে তিনি দেশকে কতটা এগিয়ে নিতে পারেন, সেটিই এখন দেখার বিষয়।