‘আঘাত করলে এবার হবে চরম প্রত্যাঘাত’, নাম না করে বিজেপি ও নির্বাচন কমিশনকে অলআউট চ্যালেঞ্জ মমতার

নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে এবার সরাসরি যুদ্ধঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মঙ্গলবার নবান্নে আয়োজিত এক জরুরি সাংবাদিক বৈঠক থেকে কমিশনকে ‘তুঘলকি’ এবং ‘ক্যাপচার কমিশন’ বলে তীব্র আক্রমণ শানান তিনি। ভোটার তালিকা থেকে বৈধ নাম বাদ দেওয়া এবং সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অমান্য করার অভিযোগে কার্যত রণংদেহী মেজাজে ধরা দিলেন তৃণমূল নেত্রী।
মুখ্যমন্ত্রীর সাফ কথা, নির্বাচন কমিশন বর্তমানে একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের অঙ্গুলিহেলনে কাজ করছে এবং বাংলার ক্ষেত্রে দ্বিমুখী নীতি গ্রহণ করছে। বিহারে যে নথি বৈধ বলে গণ্য হচ্ছে, বাংলায় কেন তা বাতিল করা হচ্ছে— এই প্রশ্ন তুলে সরব হন তিনি। এদিন নবান্নে মন্ত্রিসভার বৈঠকের পর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “যদি ক্ষমতা থাকে তবে সব বৈধ ভোটারের নাম রেখে ভোট করিয়ে দেখান। কিন্তু গণতান্ত্রিক অধিকারে হস্তক্ষেপ করলে জনতা তার উপযুক্ত জবাব দেবে।”
ভোটার তালিকায় নাম সংশোধন বা এসআইআর প্রক্রিয়ার নামে ‘হিটলারি শাসন’ চালানো হচ্ছে বলে অভিযোগ তুলেছেন মুখ্যমন্ত্রী। বিশেষ করে ইআরও-দের সাসপেন্ড করা এবং নির্দিষ্ট সময়ের আগে লগইন বন্ধ করে দেওয়ার বিষয়টিকে তিনি গণতন্ত্রের কণ্ঠরোধ হিসেবেই দেখছেন। কমিশনের উদ্দেশে তাঁর চূড়ান্ত বার্তা, “মনে রাখবেন, আঘাত করলে এবার কিন্তু প্রত্যাঘাত হবেই।” কোনো চেয়ারই যে স্থায়ী নয় এবং একমাত্র জনতাই যে শেষ কথা বলবে, তা আরও একবার মনে করিয়ে দিয়েছেন বাংলার প্রশাসনিক প্রধান।