সুপ্রিম কোর্টে এআই জালিয়াতি! এমন সব রায়ের উল্লেখ যা শোনেননি খোদ বিচারপতিরাই
আইনি লড়াইয়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই-এর ভুল ব্যবহারে চরম উদ্বেগ প্রকাশ করল দেশের সর্বোচ্চ আদালত। সম্প্রতি সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি সূর্যকান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী এবং বিচারপতি বি ভি নাগরত্নর বেঞ্চে একটি মামলার শুনানির সময় এআই-এর বিপজ্জনক কারসাজি সামনে আসে।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, অনেক আইনজীবী এখন পিটিশন তৈরির কাজে ব্যাপকভাবে চ্যাট জিপিটি বা একই ধরনের এআই টুলের সাহায্য নিচ্ছেন। কিন্তু সেই তথ্যের সত্যতা যাচাই না করেই তা আদালতে পেশ করা হচ্ছে। বিচারপতি নাগরত্ন একটি ঘটনার কথা উল্লেখ করে জানান, একটি পিটিশনে ‘মার্সি বনাম ম্যানকাইন্ড’ (Mercy vs Mankind) নামক একটি ঐতিহাসিক রায়ের উল্লেখ করা হয়েছিল। অথচ বাস্তবে সুপ্রিম কোর্ট এই নামে কোনো রায় কোনোদিন দেয়নি। এটি সম্পূর্ণভাবে এআই-এর তৈরি একটি কাল্পনিক বা ‘হ্যালুসিনেটেড’ তথ্য।
শুধু তাই নয়, অনেক ক্ষেত্রে আসল মামলার নাম ব্যবহার করা হলেও তার ভেতরে এমন সব পর্যবেক্ষণ বা রায়ের অংশ ঢুকিয়ে দেওয়া হচ্ছে, যা মূল রায়ে ছিলই না। আদালত স্পষ্ট জানিয়েছে, প্রযুক্তি আইনজীবীদের গবেষণার কাজে সাহায্য করতে পারে, কিন্তু তথ্যের নির্ভুলতা যাচাই করার চূড়ান্ত দায়িত্ব আইনজীবীদেরই। কোনো সরকারি নথি বা অফিশিয়াল সোর্স থেকে পরীক্ষা না করে এআই-এর ওপর অন্ধ বিশ্বাস বিচার প্রক্রিয়ার জন্য বড় বিপদ হয়ে দাঁড়াচ্ছে। গত বছরও দেশের বিভিন্ন আদালতে এই ধরনের ভুয়া আইনি রেফারেন্সের খবর পাওয়া গিয়েছিল, যা নিয়ে এবার কড়া সতর্কবার্তা দিল সুপ্রিম কোর্ট।