রবার্ট ডুভালের প্রয়াণে অঞ্জন দত্তর আবেগঘন স্মৃতিচারণ, কফি পানের সেই অমলিন মুহূর্ত

হলিউডের কিংবদন্তি অস্কারজয়ী অভিনেতা রবার্ট ডুভাল ৯৫ বছর বয়সে ভার্জিনিয়ার নিজ বাসভবনে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন। ‘দ্য গডফাদার’ খ্যাত এই তারকার প্রয়াণে বিশ্ব চলচ্চিত্রে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। পাঁচ দশকের দীর্ঘ কেরিয়ারে ‘টু কিল এ মকিংবার্ড’ থেকে ‘টেন্ডার মার্সিজ’ পর্যন্ত তাঁর প্রতিটি অভিনয় ছিল সংবেদনশীলতা ও গভীরতার এক অনন্য নিদর্শন। ১৯৮৩ সালে সেরা অভিনেতা হিসেবে অস্কার জয়ী এই শিল্পী কেবল একজন অভিনেতা নন, বরং পরিচালক ও চিত্রনাট্যকার হিসেবেও নিজের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করেছিলেন।
ভারতীয় চলচ্চিত্র জগতের বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব অঞ্জন দত্ত এই মহাতারকার প্রয়াণে অত্যন্ত আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েছেন। ১৯৮১ সালের ভেনিস ফিল্ম ফেস্টিভ্যালের এক পুরনো স্মৃতি হাতড়ে তিনি জানান, মাত্র ২৪ বছর বয়সে সেখানে ডুভালের সঙ্গে তাঁর দেখা হয়েছিল। অঞ্জন দত্তের তৎকালীন ছবি ‘চালচিত্র’-র সাফল্যের পর সেই বিশ্বখ্যাত অভিনেতা তাঁকে অত্যন্ত স্নেহ করেছিলেন। কোনো আভিজাত্যের লড়াই নয়, বরং এক অদ্ভুত সহজতায় রবার্ট ডুভাল নিজের হাতে তরুণ অঞ্জন দত্তকে কফি খাইয়ে দিয়েছিলেন, যা আজও তাঁর স্মৃতিতে উজ্জ্বল।
অঞ্জন দত্তর মতে, ডুভালের অভিনয়ে আল পাচিনো বা রবার্ট ডি নিরোর মতো দৃঢ়তা থাকলেও তাতে এক প্রকার মানবিক ভঙ্গুরতা মিশে থাকত। ‘অ্যাপোক্যালিপস নাও’ বা ‘দ্য জাজ’-এর মতো ছবিতে তাঁর পরিমিত ও শক্তিশালী অভিনয় আগামীর চলচ্চিত্র প্রেমীদের কাছে এক পাঠ্যবই হয়ে থাকবে। স্রেফ সংলাপ নয়, বরং নিঃশব্দ অভিব্যক্তির মাধ্যমে দর্শককে আবিষ্ট করে রাখার যে ক্ষমতা ডুভালের ছিল, তা সমকালীন বিশ্ব সিনেমায় বিরল। তাঁর প্রয়াণে চলচ্চিত্র জগৎ একজন প্রকৃত সাধক ও পথপ্রদর্শককে হারাল।