ডিজিটাল পেমেন্ট বন্ধ, খাওয়াদাওয়া নগদে, ক্ষমা চাইলেন মন্ত্রী, চোখ ধাঁধানো এআই সম্মেলনেই অকেজো ওয়াই ফাই!

ডিজিটাল পেমেন্ট বন্ধ, খাওয়াদাওয়া নগদে, ক্ষমা চাইলেন মন্ত্রী, চোখ ধাঁধানো এআই সম্মেলনেই অকেজো ওয়াই ফাই!

নোটবাতিলের পরই ঢাকঢোল পিটিয়ে ‘ডিজিটাল ইন্ডিয়া’র কথা ঘোষণা করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। রাজধানী দিল্লির ভারত মণ্ডপমে আয়োজিত দেশের প্রথম ‘এআই ইমপ্যাক্ট সামিট’-এর মূল ভিত্তিই এই কর্মসূচি। দেশ-বিদেশের অভ্যাগতরা হাজির হয়েছেন সেখানে। চোখ ধাঁধানো সেই এআই সম্মেলনের প্রথম দিনেই কার্যত মুখ থুবড়ে পড়েছিল মোদির ‘ডিজিটাল ইন্ডিয়া’ই! অতিথি-অভ্যাগত, অংশগ্রহণকারীদের একটি বড় অংশের অভিযোগ, সোমবার গোটা ভারত মণ্ডপমে অকেজো ছিল ওয়াই-ফাই ব্যবস্থা। স্মার্টফোনের ‘ফাইভ-জি’ ইন্টারনেটের হালও তথৈবচ! নেটওয়ার্ক সমস্যার জেরে ইউপিআই (ডিজিটাল) পেমেন্টও বন্ধ। ফলে ভিতরের ফুডকোর্ট থেকে খাবার কিনতে হলে নগদে দাম মেটাতে হচ্ছে। সমস্যা অবশ্য শুধু সম্মেলনের ভিতরেই নয়। প্রবেশপথে লম্বা লাইন, ডিজিযাত্রা গেট ঠিকঠাক কাজ না করা, রেজিস্ট্রেশন সিস্টেম মাঝেমধ্যে ক্র্যাশ করে যাওয়া— তালিকা দীর্ঘ। এসবের মধ্যে আবার প্রধানমন্ত্রীর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের জন্য বিভিন্ন স্টার্টআপ সংস্থার স্টল থেকে কর্মকর্তাদের বাইরে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছিল। তার জেরে ‘নিওস্যাপিয়েন্স’ নামে একটি সংস্থার একাধিক ‘এআই ডিভাইস’ চুরি পর্যন্ত হয়ে গিয়েছে বলে অভিযোগ।


পরিস্থিতি বেগতিক বুঝেই মঙ্গলবার সম্মেলনের দ্বিতীয় দিনে তড়িঘড়ি ক্ষমা চেয়েছেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব। যদিও কেন্দ্রীয় তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রীর দাবি, ‘এআই সম্মেলনের প্রথম দিনই কিছু সমস্যা হয়েছিল। দ্বিতীয় দিন থেকে আর কোনো সমস্যা হয়নি।’ ভিআইপি অর্থাৎ মন্ত্রীদের উপস্থিতি কম থাকায় এদিন প্রবেশপথে লাইন কম ছিল। ভিতরেও সমস্যা তেমন দেখা যায়নি। ওয়াই-ফাই নিয়ে অভিযোগ অবশ্য কমেনি। এআই সম্মেলনের কারণে এদিন দিল্লিজুড়ে ব্যাপক যানজট দেখা গিয়েছে। আগামী শুক্রবার পর্যন্ত সামিট চলবে। ফলে আতঙ্ক বাড়ছে দিল্লিবাসীদের। এআই সম্মেলনের অব্যবস্থা নিয়ে সুর চড়াতে দেরি করেনি বিরোধী দল কংগ্রেস। দলের সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়্গের অভিযোগ, মোদি সরকার ‘পিআর-হাংরি’ হয়ে পড়েছে। যে-কোনো উপায়ে প্রচারের আলোয় আসতে চাইছে। কিন্তু তা করতে গিয়ে চরম অব্যবস্থার মধ্যে ঠেলে দিচ্ছে সাধারণ মানুষকে। 

বেঙ্গালুরুর এআই স্টার্টআপ সংস্থা ‘নিওস্যাপিয়েন্স’ স্টল দিয়েছে এই সামিটে। কো ম্পা নির সহ প্রতিষ্ঠাতা ধনঞ্জয় যাদবের অভিযোগ, যেসব জিনিসের প্রদর্শনী করতে এসেছিলেন তিনি, সেগুলিই খোয়া যায় হাই-সিকিউরিটি জোন থেকে। সোশ্যাল মিডিয়ায় তিনি লেখেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তার খাতিরে আমাদের স্টল বন্ধ করে চলে যেতে হয়েছিল। এসে দেখতে পেয়েছি, আমার সংস্থার জিনিসই চুরি হয়ে গিয়েছে।’ পরে অবশ্য খোয়া যাওয়া জিনিস উদ্ধার করা হয়। দ্রুত পদক্ষেপের জন্য দিল্লি পুলিশকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন ধনঞ্জয়। এহেন পরিস্থিতিতে অবশ্য যাবতীয় ধোঁয়াশা কাটিয়ে গেটস ফাউন্ডেশন জানিয়ে দিয়েছে, বৃহস্পতিবার এআই সামিটে ভাষণ দেবেন বিল গেটস। পাশাপাশি আসছেন সুন্দর পিচাই, স্যাম অল্টম্যানরাও।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *