তারেকের শপথেও উসকানি জামাতের

শেখ হাসিনা পরবর্তী জমানার পর প্রথম প্রধানমন্ত্রী হিসাবে শপথ নিলেন তারেক রহমান। দীর্ঘ ৩৪ বছর পর পুরুষ প্রধানমন্ত্রী পেল পদ্মাপারের দেশ। তবে প্রধানমন্ত্রী হিসাবে তারেকের যাত্রাপথ যে মসৃণ হবে না, তা বুঝিয়ে দিল জামাত। তাদের দাবি, নির্বাচনের আগে যে সংস্কারের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল, তা পূরণ না করে কেবল শপথ নিলেই সমস্যার সমাধান হবে না। জামাত নেতারা হুঁশিয়ারি দেন, দাবি না মানলে তাঁরা ফের আন্দোলনে নামবেন। আবার বিএনপিও সংবিধান সংস্কারে নারাজ। এই বিরোধিতাকে সামনে রেখে নতুন করে উত্তেজনা তৈরির চেষ্টা করল জামাত।
মঙ্গলবার বিকেলে বাংলাদেশের জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় তখন কয়েক হাজার মানুষ। খোলা আকাশের নীচে বসে রয়েছেন রয়েছেন বিভিন্ন দেশের মন্ত্রী, প্রতিনিধিরা। তাঁদের সামনে তারেকের সঙ্গে শপথবাক্য পাঠ করেন নতুন মন্ত্রিসভার আরও ৪৯ জন সদস্য। সকালে সংসদ সদস্য হিসাবে নির্বাচনে জয়ী সব প্রার্থীর শপথগ্রহণ অনুষ্ঠান ছিল। কিন্তু তার আগে বিএনপির তরফে জানিয়ে দেওয়া হয়, তারা সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসাবে শপথ নেবে না। অর্থাত্, গণভোটে সংবিধান সংস্কারের প্রস্তাব পাশ হলেও, তা এখনই মানতে রাজি হয়নি তারেকের দল। তারপরেই জামাত ও এনসিপি জানায়, তারা সংসদ সদস্য হিসাবে শপথ নেবে না। কারণ, সংস্কারবিহীন সংসদ অর্থহীন। যদিও পরে সেই সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসে তারা। তবে মন্ত্রিসভার শপথগ্রহণ অনুষ্ঠান বয়কট করে জামাতের জোটসঙ্গী ছাত্রদের দল এনসিপি। এদিনই আবার গণভোটের বৈধতাকে চ্যালেঞ্জ ও ফলাফল বাতিলের দাবিতে বাংলাদেশ হাইকোর্টে রিট পিটিশন দায়ের করা হয়েছে।
তারেকের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে ভারত, পাকিস্তান সহ প্রতিবেশী দেশগুলির একাধিক নেতা উপস্থিত ছিলেন। নয়াদিল্লির হয়ে অনুষ্ঠানে প্রতিনিধিত্ব করেন লোকসভা স্পিকার ওম বিড়লা। সঙ্গে ছিলেন ভারতের বিদেশসচিব বিক্রম মিশ্রি। নতুন মন্ত্রিসভায় পূর্ণমন্ত্রীদের মধ্যে ১৬ জন এবং প্রতিমন্ত্রীদের মধ্যে ২৪ জন নতুন মুখ। মহিলা তিনজন। প্রথমবার মন্ত্রী হলেন খলিলুর রহমান, আবদুল আওয়াল মিন্টু, মিজানুর রহমান মিনু, আফরোজা খানম। সিলেটের মেয়র আরিফুল হক চৌধুরীও পূর্ণমন্ত্রী হিসেবে শপথপাঠ করেছেন। প্রতিমন্ত্রী হিসাবে শপথ নিয়েছেন এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত, অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি, ফারজানা শারমিন সহ ২৪ জন। বাদ পড়া মন্ত্রীদের মধ্যে রয়েছেন স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, আব্দুল মঈন খান, খন্দকার মোশাররফ হোসেন প্রমুখ।
বাংলাদেশের ১৩তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ২৯৭টি আসনের মধ্যে ২০৯টি আসনে জয়লাভ করে বিএনপি। জামাতের ঝুলিতে যায় ৬৮টি আসন। সংখ্যাগরিষ্ঠ দল হিসাবে সরকার গড়ে বিএনপি। নির্বাচনের পরই তারেক সতর্ক করেছিলেন, বিভাজনের রাজনীতি গণতন্ত্রকে দুর্বল করে। সেই আশঙ্কা সত্যি করে শপথগ্রহণের অনুষ্ঠানেই নতুন উত্তেজনার জন্ম দিল বিরোধী জামাত। বিশ্লেষকদের মতে, নতুন সরকারের জন্য এটিই প্রথম চ্যালেঞ্জ। সমঝোতার পথ না খুঁজলে এই বিরোধ বড়ো আকার নিতে পারে।