বহিরাগতরা ঢুকে আদিবাসীদের মধ্যে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে, সতর্ক তৃণমূল, ভিনরাজ্যের গাড়ি দেখলেই থানায়

বহিরাগতরা ঢুকে আদিবাসীদের মধ্যে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে, সতর্ক তৃণমূল, ভিনরাজ্যের গাড়ি দেখলেই থানায়

ভিন রাজ্যের নম্বর প্লেট যুক্ত গাড়ি দেখলেই ছবি তুলে থানায় জানানোর নির্দেশ দিল তৃণমূল। শাসক দলের তরফে বুথ স্তরের কর্মীদের ওই নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি দ্রুত বিষয়টি দলকে জানানোর জন্যও কর্মীদের বলা হয়েছে। বহিরাগতদের আনাগোনা রুখতেই ওই নির্দেশ বলে বাঁকুড়ার তৃণমূল সাংসদ অরূপ চক্রবর্তী জানিয়েছেন। সাংসদ বলেন, নির্বাচনের আগে হিন্দি বলয়ের লোকজন বাংলায় ঢুকছে। বাঁকুড়াতে বিহার, ওড়িশা, উত্তরপ্রদেশ থেকে কেউ যাতায়াত করছে কি না, তা নিয়ে আমরা খোঁজ নিচ্ছি। কর্মীদের এলাকায় নজর রাখতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ভিন রাজ্যের নম্বর প্লেট যুক্ত চারচাকা, বাইক দেখলেই মোবাইল ক্যামেরায় তার ছবি তুলে নিকটবর্তী থানায় জানাতে বলেছি কর্মীদের। পুলিশের পাশাপাশি আমাদেরও এ ব্যাপারে অবগত করার জন্য দলের কর্মীদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তিনি আরও বলেন, বিজেপি ভোটের আগে জেলাবাসীকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করতে পারে। গেরুয়া শিবিরের তরফে টাকা ছড়িয়েও ভোট কেনার চেষ্টা হতে পারে। 
বিজেপির বাঁকুড়া সাংগঠনিক জেলার সভাপতি প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায় বলেন, তৃণমূল গণতন্ত্রে বিশ্বাসী নয় বলে বহিরাগত তত্ত্ব খাড়া করছে। দেশের যে কোনো প্রান্তে অবাধ যাতায়াতের অধিকার ভারতীয়দের রয়েছে। টাকা ছড়িয়ে ভোট লুট তৃণমূলের সংস্কৃতি। আমরা ওই ধরনের কাজ করি না। 


উল্লেখ্য, রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় বহিরাগত লোকজন এসে ভোটের রণকৌশল স্থির করছে বলে তৃণমূল অভিযোগ তুলেছে। তাঁরা মূলত বিজেপির হয়ে তৃণমূল স্তরে প্রচার শুরু করেছে বলে ঘাসফুল শিবিরের দাবি। এর আগে বাঁকুড়ায় ফর্ম-৭ সংগ্রহ করেও বিজেপি জমা দিতে পারেনি। ফলে ভোটারদের নাম তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার চক্রান্ত ব্যর্থ করতে তৃণমূল সক্ষম হয়েছে বলে শাসকদলের নেতারা দাবি করেছেন। তবে গেরুয়া শিবির যে বসে নেই তা তৃণমূল বুঝতে পেরেছে। 
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বিজেপি ও তাদের সহায়ক সংগঠনগুলি নতুন বছরের শুরু থেকেই ভোটের প্রস্তুতি শুরু করেছে। তারা বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে তৃণমূল বিরোধী প্রচার করছে। 


তবে ভোট প্রচারে বিজেপি শুধুমাত্র বাঙালি নেতানেত্রীদের উপর নির্ভর করছে না। ভিন রাজ্য থেকে হেভিওয়েট নেতাদের এনে কর্মীদের ভোকাল টনিক দেওয়ার ব্যবস্থা করেছে। হেভিওয়েটদের পাশাপাশি ভিন রাজ্য থেকে বিজেপির ছোট মাঝারি নেতারা রাজ্যে ঢুকছেন। তাঁরা জঙ্গলমহলেও ঘুরে বেড়াচ্ছেন। সম্প্রতি জঙ্গলমহলের জেলাগুলিতে আদিবাসীদের ভোটার, আধার কার্ড কেড়ে নেওয়ার গুজব রটে। তার পিছনেও ভিন রাজ্যের একাংশের মদত রয়েছে বলে রাজনৈতিক মহলের অভিমত। সমগ্র বিষয়টি আঁচ করেই তৃণমূলের তরফে নীচুতলার কর্মীদের কাছে বহিরাগতদের আনাগোনা নিয়ে বার্তা দেওয়া হয়েছে। 


বিজেপির বাঁকুড়া জেলার এক নেতা বলেন, সম্প্রতি দলের তরফ একাধিক লোকসভা কেন্দ্র তথা সাংগঠনিক জেলা নিয়ে এক একটি জোন তৈরি করা হয়েছে। ওইসব জোনের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে পুরনো দিনের পোড়খাওয়া নেতাদের। দায়িত্বপ্রাপ্তদের তালিম দিতে ভিন রাজ্য থেকে দলের হেভিওয়েট নেতারা আসছেন। তৃণমূল স্তরে আমরা কাজ করছি। তবে ভিন রাজ্য থেকে ব্লক বা মণ্ডল স্তরে গিয়ে কেউ সাংগঠনিক কাজ করছেন বলে আমাদের জানা নেই। 

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *