শহরাঞ্চলে মহিলাদের কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে ব্যর্থ কেন্দ্র, নিরিখে উজ্জ্বল পশ্চিমবঙ্গ

দেশের শহরাঞ্চলে মহিলাদের কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে মোদি সরকারের নীতি বড়সড় চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। কেন্দ্রীয় পরিসংখ্যান মন্ত্রকের সাম্প্রতিক ‘পিরিওডিক লেবার ফোর্স সার্ভে’ রিপোর্ট অনুযায়ী, ২০২৪ সালের তুলনায় ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে শহর এলাকায় মহিলাদের বেকারত্ব বৃদ্ধি পেয়েছে ৯.৭৫ শতাংশ। যেখানে ২০২৪ সালে বেকারত্বের হার ছিল ৮.২ শতাংশ, তা বর্তমানে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯ শতাংশে। রিপোর্টটি প্রধানমন্ত্রীর নারী ক্ষমতায়নের দাবি এবং ইন্টার্নশিপ স্কিমের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে দিয়েছে।
জাতীয় স্তরে মহিলাদের কর্মসংস্থানের এই হতাশাজনক চিত্রের মধ্যেও ব্যতিক্রমী অবস্থানে রয়েছে পশ্চিমবঙ্গ। পরিসংখ্যানে দেখা যাচ্ছে, শহরাঞ্চলে মহিলাদের বেকারত্বের হার বাংলায় মাত্র ৫.১ শতাংশ, যা জাতীয় গড়ের তুলনায় অনেক কম। বিপরীতে রাজস্থানে এই হার ১৯.২ শতাংশ, উত্তরপ্রদেশে ১০.৯ শতাংশ এবং আসামে ১১.৭ শতাংশ। গ্রামীণ এলাকার ক্ষেত্রেও জাতীয় গড় ৩.৬ শতাংশ হলেও পশ্চিমবঙ্গে মহিলাদের বেকারত্বের হার মাত্র ২.৫ শতাংশ। উৎসবের মরশুমেও যেখানে দেশের গ্রামীণ নারীদের কাজের সুযোগ কম ছিল, সেখানে বাংলার পরিস্থিতি তুলনামূলক স্থিতিশীল।
অর্থনীতিবিদদের মতে, এই রিপোর্ট রাজ্যের শক্তিশালী সামাজিক ও অর্থনৈতিক কাঠামোরই প্রতিফলন। রাজ্য সরকারের কন্যাশ্রী ও স্বনির্ভর গোষ্ঠীর মতো বিভিন্ন প্রকল্পের সাফল্যের কারণেই বাংলার মহিলারা কর্মক্ষেত্রে এগিয়ে থাকছেন বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল। রাজ্যের মন্ত্রীদের দাবি, কেন্দ্রীয় বঞ্চনা সত্ত্বেও ক্ষুদ্র শিল্প ও নারী উন্নয়নের বিভিন্ন মুখী প্রকল্পের ফলেই আজ বাংলা দেশকে দিশা দেখাচ্ছে। অন্যদিকে, গ্রামীণ কর্মসংস্থান প্রকল্প বা ১০০ দিনের কাজের টাকা বন্ধ থাকায় কেন্দ্রের নীতিগত ব্যর্থতাই প্রকট হয়েছে বলে প্রতিবেদনে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে।