২৯৪ আসনেই একলা চলার পথে কংগ্রেস, পাহাড় নিয়ে বড় সিদ্ধান্তের পথে হাইকমান্ড

আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে কি সম্পূর্ণ একক শক্তিতেই ময়দানে নামতে চলেছে হাত শিবির? রাজনৈতিক মহলে এখন এই প্রশ্নই তুঙ্গে। সূত্রের খবর, রাজ্যের ২৯৪টি বিধানসভা কেন্দ্রেই এবার জোটহীন লড়াইয়ের প্রস্তুতি শুরু করে দিয়েছে কংগ্রেস। ইতিমধ্যেই প্রার্থী বাছাইয়ের প্রাথমিক প্রক্রিয়াও শুরু হয়েছে দলের অন্দরে। তবে বিশেষ নজর কেড়েছে পাহাড়ের রাজনীতি। দার্জিলিং সহ উত্তরবঙ্গের পাহাড়ি এলাকাগুলোতে কংগ্রেস এবার অন্য কোনো দলের হাত ধরবে নাকি একক শক্তিতে লড়বে, তা নিয়ে মঙ্গলবার দার্জিলিং জেলা কংগ্রেস কার্যালয়ে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে বসেন কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষক প্রকাশ জোশী।
পাহাড়ের সমীকরণ ও দলীয় প্রস্তুতি
গত লোকসভা নির্বাচনে অজয় এডওয়ার্ডের হামরো পার্টির সঙ্গে জোট বেঁধে লড়াই করলেও, বিধানসভার ক্ষেত্রে রণকৌশল বদলাতে পারে কংগ্রেস। দলের একাংশ চাইছে নিজেদের শক্তি যাচাই করতে পাহাড়েও এককভাবে প্রার্থী দিতে। এদিনের বৈঠকে স্পষ্ট করে দেওয়া হয়েছে যে, যারা দুঃসময়েও দলের ঝাণ্ডা ধরে রেখেছেন, সেই পুরনো কর্মীদেরই প্রার্থী হিসেবে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। প্রকাশ জোশীর কথায়, “কংগ্রেস ক্ষমতাচ্যুত হলেও তার জনভিত্তি বা শক্তি হারিয়ে যায়নি। আমরা ২৯৪টি আসনেই একা লড়ার মানসিকতা নিয়ে এগোচ্ছি। তবে পাহাড়ের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে স্থানীয় কর্মীদের আবেগ ও মতামতকে সবথেকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হবে।”
উন্নয়নের তাস ও বিজেপির প্রতি তোপ
জেলা সভাপতি সুবীন ভৌমিকের অভিযোগ, নির্বাচনের আগে বিজেপি পাহাড়ের মানুষকে কেবল মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দিয়ে বিভ্রান্ত করে। তিনি দাবি করেন, পাহাড়ের যা কিছু উন্নয়ন তা কংগ্রেস আমলেই হয়েছে। ডিজিএইচসি (DGHC) বা জিটিএ (GTA)-এর মতো প্রশাসনিক কাঠামো তৈরির কৃতিত্বও তিনি কংগ্রেসকে দিয়েছেন। সুবীনবাবুর সাফ কথা, পাহাড়ের প্রকৃত সমস্যার সমাধান কেবল কংগ্রেসের মাধ্যমেই সম্ভব।
নজর এখন প্রদেশ নেতৃত্বের দিকে
পুরো বিষয়টি নিয়ে জেলা স্তরে দফায় দফায় আলোচনা চললেও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে প্রদেশ কংগ্রেস এবং এআইসিসি। পাহাড়ের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে কোনো বিশেষ মধ্যস্থতাকারীর কথায় কান দিতে নারাজ দল। বরং নিজেদের সাংগঠনিক শক্তির ওপর ভর করেই আগামী নির্বাচনে বড় চমক দিতে চাইছে বিধান ভবন। শেষ পর্যন্ত ২৯৪ আসনেই কংগ্রেস একা লড়ে কি না, এখন সেটাই দেখার।