মৃত প্রেমিকার দেহ আগলে বসে প্রেমিক! উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার্থীর রহস্যমৃত্যু ঘিরে তীব্র চাঞ্চল্য

মালদার মানিকচকে উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার মাঝপথেই ঘটে গেল এক মর্মান্তিক ও শিউরে ওঠা ঘটনা। বাড়ির বারান্দায় পড়ে রয়েছে ১৮ বছর বয়সী ছাত্রী রিয়া মণ্ডলের নিথর দেহ, আর সেই মৃতদেহ আগলে অন্ধকার রাতে ঠায় বসে রয়েছে তাঁরই প্রেমিক সিদ্ধার্থ মণ্ডল! মঙ্গলবার ভোরে মানিকচক থানার বাঁকিপুর এলাকায় এই দৃশ্য দেখে শিউরে ওঠেন পরিবারের সদস্যরা। উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার্থী রিয়ার এই রহস্যমৃত্যু ঘিরে এখন রণক্ষেত্রের চেহারা নিয়েছে গোটা এলাকা।
ঘটনার প্রেক্ষাপট ও শিউরে ওঠা সেই মুহূর্ত
মৃত রিয়া মণ্ডল মানিকচক শিক্ষা নিকেতন হাইস্কুলের ছাত্রী ছিলেন। এবার তাঁর উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার সিট পড়েছিল এনায়েতপুর হাইস্কুলে। রিয়ার বাবা শংকর মণ্ডল পেশায় একজন টোটো চালক। নিজের পায়ের চিকিৎসার জন্য সোমবার রাতে তিনি মালদা মেডিকেল কলেজে ভর্তি ছিলেন। বাড়িতে তখন ছিলেন রিয়ার মা নমিতা দেবী ও তাঁর দুই নাবালক ভাই-বোন। পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য রিয়া বাড়ির একটি আলাদা ঘরে পড়াশোনা করতেন।
ভোরবেলা প্রকৃতির ডাকে সাড়া দিতে উঠে নমিতা দেবী বারান্দার দিকে এগোতেই রক্ত হিম করা দৃশ্য দেখতে পান। বারান্দার মেঝেতে নিথর অবস্থায় পড়ে রয়েছে মেয়ে রিয়া, আর তাঁর পাশেই পাথরের মতো বসে রয়েছে পাড়ারই যুবক তথা রিয়ার সহপাঠী সিদ্ধার্থ মণ্ডল। মায়ের চিৎকার শুনেই তড়িঘড়ি পাঁচিল টপকে পালিয়ে যায় অভিযুক্ত সিদ্ধার্থ।
পরিবারের অভিযোগ ও খুনের ইঙ্গিত
পরিবারের দাবি, রিয়াকে শ্বাসরোধ করে খুন করা হয়েছে। মৃতার মা নমিতা দেবীর অভিযোগ, সিদ্ধার্থ দীর্ঘদিন ধরে রিয়াকে উত্যক্ত করত এবং বিভিন্ন সময় তাঁকে ‘দেখে নেওয়ার’ হুমকিও দিত। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে দেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তে পাঠিয়েছে। তদন্তকারীরা দেখেছেন, বারান্দার সিলিং থেকে একটি ওড়না ঝুলছিল, যা থেকে প্রাথমিক অনুমান এটি আত্মহত্যা হতে পারে। তবে পরিবারের কঠোর দাবি, সিদ্ধার্থই তাঁদের মেয়েকে মেরে ফেলেছে।
পুলিশের প্রাথমিক তদন্ত ও চাঞ্চল্যকর মোড়
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, রিয়া ও সিদ্ধার্থের মধ্যে দীর্ঘদিনের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। রিয়ার ফোনের কল লিস্ট ঘেঁটে দেখা গিয়েছে, সাম্প্রতিক সময়ে তাঁদের মধ্যে চরম বিবাদ চলছিল। পুলিশের একটি সূত্র খতিয়ে দেখছে যে রিয়া অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন কি না, কারণ সেটি এই মৃত্যুর কারণ হিসেবে বড় মোড় নিতে পারে। প্রাথমিক অনুমান করা হচ্ছে, ঝগড়ার জেরে রিয়া হয়তো আত্মহত্যার হুমকি দিয়েছিলেন এবং সেই সময় সিদ্ধার্থ সেখানে উপস্থিত ছিল। কিন্তু কেন সে পুলিশ বা পরিবারকে খবর না দিয়ে নিথর দেহের পাশে বসে রইল, সেই প্রশ্নই এখন সবথেকে বড় রহস্য।
পলাতক প্রেমিক ও পরবর্তী পদক্ষেপ
ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্ত সিদ্ধার্থ মণ্ডল এলাকা ছেড়ে চম্পট দিয়েছে। সে নিজেও একজন উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার্থী। রিয়ার বাবা শংকর মণ্ডল মানিকচক থানায় সিদ্ধার্থের বিরুদ্ধে সরাসরি শ্বাসরোধ করে খুনের লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। পুলিশ ইতিমধ্যেই অভিযুক্তের পরিবারের সদস্যদের জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছে এবং সিদ্ধার্থের খোঁজে বিভিন্ন জায়গায় তল্লাশি চালাচ্ছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট এলেই পরিষ্কার হবে এটি পরিকল্পিত খুন নাকি অভিমানে আত্মহত্যা।