আমার থেকে বড় গুন্ডা কেউ নেই! থানার ওসিকে ফোনে চরম হুঁশিয়ারি বিজেপি সাংসদ রাজু বিস্তার

আমার থেকে বড় গুন্ডা কেউ নেই! থানার ওসিকে ফোনে চরম হুঁশিয়ারি বিজেপি সাংসদ রাজু বিস্তার

শিলিগুড়ি মহকুমা পরিষদের অন্তর্গত ফাঁসিদেওয়া ব্লকের ঝমকলাল জোত গ্রামে জমি বিবাদকে কেন্দ্র করে এক অন্তঃসত্ত্বা মহিলার ওপর হামলার ঘটনায় তোলপাড় উত্তরবঙ্গ। সেই ঘটনার রেশ ধরেই এবার সরাসরি পুলিশকে ফোনে হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠল দার্জিলিঙের বিজেপি সাংসদ রাজু বিস্তার বিরুদ্ধে। সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়া একটি ভিডিও ঘিরে শুরু হয়েছে তীব্র রাজনৈতিক তরজা, যেখানে সাংসদকে বলতে শোনা যাচ্ছে, “আপনি তৃণমূলের দালালি করছেন। মনে রাখবেন, আমার থেকে বড় গুন্ডা আর কেউ নেই!”

ঘটনার প্রেক্ষাপট ও সাংসদের মেজাজ হারানো

গত ডিসেম্বর মাসে জমি সংক্রান্ত বিবাদের জেরে জালাস নিজমতারা অঞ্চলের ঝমকলাল জোত গ্রামে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বাধে। সেই ঘটনায় এক অন্তঃসত্ত্বা মহিলা গুরুতর আহত হন এবং উত্তরবঙ্গ মেডিক্যাল কলেজে চিকিৎসাধীন থাকাকালীন তাঁর সদ্যোজাত সন্তানটি মারা যায়। মঙ্গলবার ওই নির্যাতিতা মহিলার বাড়িতে এলাকার বিধায়ক ও দলীয় কর্মীদের নিয়ে পৌঁছান সাংসদ রাজু বিস্তা।

সেখান থেকেই ঘটনার তদন্তের অগ্রগতি জানতে ফাঁসিদেওয়া থানার ওসি সুদীপ বিশ্বাসকে ফোন করেন তিনি। অভিযোগ, কথপোকথনের মাঝেই মেজাজ হারিয়ে পুলিশ আধিকারিককে কার্যত ধমকাতে শুরু করেন সাংসদ। ভাইরাল ভিডিওতে (যার সত্যতা যাচাই করেনি ডেইলিহান্ট) তাঁকে বলতে শোনা যায়, এলাকা ও থানায় যত গুন্ডা আছে সবাইকে জানিয়ে দিতে যে তাঁর চেয়ে বড় গুন্ডা আর কেউ নেই। সাংসদের এই রুদ্রমূর্তি দেখে কার্যত হকচকিয়ে যান উপস্থিত সকলে।

তৃণমূলের কড়া প্রতিক্রিয়া

সাংসদের এই মন্তব্যের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে ঘাসফুল শিবির। দার্জিলিং জেলা তৃণমূলের চেয়ারম্যান সঞ্জয় টেব্রিয়াল এই ঘটনার প্রেক্ষিতে বলেন, “একজন সাংসদের মুখে এই ধরনের ভাষা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক। এটা বিজেপির সংস্কৃতি হতে পারে, কিন্তু বাংলায় মমতাজ বন্দ্যোপাধ্যায়ের শাসন চলে। এখানে আইন আইনের পথেই চলবে। ধমক দিয়ে বা গুন্ডাগিরির ভয় দেখিয়ে এখানে পার পাওয়া যাবে না।”

রাজনৈতিক মহলে শোরগোল

নির্বাচনের আগে পাহাড় ও সমতলের রাজনীতিতে এই ঘটনা এক নতুন মাত্রা যোগ করল। একদিকে যখন বিজেপি আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে সরব হচ্ছে, অন্যদিকে তাদেরই সাংসদের এমন ‘গুন্ডা’ সুলভ মন্তব্য শাসক দলকে হাতে গরম অস্ত্র তুলে দিল। পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে এই বিষয়ে এখনও সরকারিভাবে কোনও প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি, তবে একজন জনপ্রতিনিধির মুখে এমন শব্দ প্রয়োগ নিয়ে আমজনতার মধ্যেও মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *