শত্রুর রাডারকে ফাঁকি দিতে ওস্তাদ এই যুদ্ধবিমান, বদলে দেবে প্রতিরক্ষা খাতের ভোল

শত্রুর রাডারকে ফাঁকি দিতে ওস্তাদ এই যুদ্ধবিমান, বদলে দেবে প্রতিরক্ষা খাতের ভোল

ভারতের প্রতিরক্ষা এবং বিমান শিল্পে এক ঐতিহাসিক অধ্যায়ের সূচনা হলো। বিশ্বের দুর্গমতম শৃঙ্গ মাউন্ট এভারেস্টের চূড়ায় অবতরণ করে যে হেলিকপ্টার বিশ্বজুড়ে রেকর্ড গড়েছিল, সেই দুর্ধর্ষ H125 মডেলের চপার এবার তৈরি হবে খাস ভারতের মাটিতেই। কর্নাটকের ভেমাগালে টাটা অ্যাডভান্সড সিস্টেমস লিমিটেড এবং ফরাসি সংস্থা এয়ারবাসের যৌথ উদ্যোগে দেশের প্রথম বেসরকারি হেলিকপ্টার অ্যাসেম্বলি লাইনের উদ্বোধন করলেন প্রতিরক্ষা মন্ত্রী রাজনাথ সিং।

ভারতের মাটিতেই উড়বে দেশি প্রযুক্তির ‘এভারেস্ট বিজেতা’

দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর ভারতের বেসরকারি খাতে এই প্রথম পূর্ণাঙ্গ হেলিকপ্টার তৈরির কারখানা চালু হলো। এটি কেবল একটি কারখানা নয়, বরং ‘আত্মনির্ভর ভারত’ প্রকল্পের এক বিশাল জয়। এই প্ল্যান্টে হেলিকপ্টারের প্রতিটি যন্ত্রাংশ জোড়া দেওয়া থেকে শুরু করে চূড়ান্ত পর্যায়ের টেস্টিং—সবই হবে কর্নাটকের এই আধুনিক ইউনিটে। ২০২৭ সালের শুরুর দিকেই এখান থেকে প্রথম হেলিকপ্টারটি আকাশে ওড়ার জন্য তৈরি হয়ে যাবে বলে আশা করা হচ্ছে। আগামী দুই দশকে ভারতের ক্রমবর্ধমান চাহিদা মেটাতে কমপক্ষে ৫০০টি এমন হেলিকপ্টার তৈরির লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে।

কেন এই H125 হেলিকপ্টার এত বিশেষ?

এয়ারবাসের তৈরি এই H125 সিরিজটি বিশ্বজুড়ে তার অবিশ্বাস্য ক্ষমতার জন্য পরিচিত। এটি মূলত ‘হট অ্যান্ড হাই’ কন্ডিশনে কাজ করার জন্য তৈরি। অর্থাৎ, যেখানে অত্যধিক উত্তাপ বা হিমালয়ের মতো পাতলা বাতাসের উচ্চতায় অন্যান্য কপ্টার থমকে যায়, সেখানে H125 অনায়াসেই রাজত্ব করে।

  • রেকর্ড: মাউন্ট এভারেস্টের চূড়ায় সফলভাবে ল্যান্ডিং করার কৃতিত্ব রয়েছে এই মডেলের।
  • গতি ও ক্ষমতা: ঘণ্টায় প্রায় ২৫০ কিমি বেগে ছুটতে পারে এই কপ্টার। একবার জ্বালানি ভরলে এটি একটানা ৬৬২ কিমি পথ পাড়ি দিতে সক্ষম।
  • বিবিধ ব্যবহার: উদ্ধারকাজ, এয়ার অ্যাম্বুলেন্স, অগ্নিনির্বাপন থেকে শুরু করে পর্যটন—সব ক্ষেত্রেই এটি অত্যন্ত নির্ভরযোগ্য।

শত্রুর চোখে ধুলো দিতে ওস্তাদ সামরিক সংস্করণ H125M

বেসামরিক কাজের পাশাপাশি এই কারখানায় তৈরি হবে এর আরও শক্তিশালী সামরিক সংস্করণ H125M। ভারতীয় সেনাবাহিনীর জন্য এটি হতে চলেছে এক তুরুপের তাস। এই হেলিকপ্টারে রকেট, মিসাইল এবং উন্নত গানপড যুক্ত করার সুবিধা রয়েছে। এর সবচেয়ে বড় বিশেষত্ব হলো এর ‘স্টিলথ’ ক্ষমতা। বিশেষ ধরণের রঙ এবং ধাতব মিশ্রণ ব্যবহারের ফলে শত্রুপক্ষের রাডার বা সেন্সরে এই কপ্টারের উপস্থিতি সহজে ধরা পড়ে না। অত্যন্ত নিচু দিয়ে উড়ে গিয়ে অতর্কিতে শত্রুর ওপর হামলা চালাতে এটি সিদ্ধহস্ত। বিশেষ করে লাদাখ বা অরুণাচলের মতো দুর্গম পাহাড়ি সীমান্তে নজরদারি ও যুদ্ধের জন্য এটি ভারতীয় বাহিনীকে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যাবে।

বিশ্বজুড়ে জনপ্রিয়তার তুঙ্গে

১৯৭৪ সালে প্রথম আত্মপ্রকাশের পর থেকেই এই সিরিজটি বিশ্ববাজারে আধিপত্য বিস্তার করে আছে। বর্তমানে ফ্রান্স, ব্রাজিল, কাতার, ইন্দোনেশিয়া এবং থাইল্যান্ডসহ বিশ্বের অন্তত ৩৫টি দেশের সামরিক বাহিনীতে এই হেলিকপ্টার নিয়মিত ব্যবহৃত হচ্ছে। এবার সেই বিশ্বমানের প্রযুক্তি ভারতের মাটিতে তৈরি হওয়ার ফলে দেশীয় কর্মসংস্থান এবং ক্ষুদ্র যন্ত্রাংশ সরবরাহকারী সংস্থাগুলোর সামনেও খুলে গেল উন্নতির এক নতুন দিগন্ত।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *