মমতা বনাম ইডি সংঘাত এবার সুপ্রিম কোর্টে

আইপ্যাক (I-PAC) মামলার শুনানিতে নাটকীয় মোড় ভারতের সর্বোচ্চ আদালতে। একদিকে কেন্দ্রীয় সংস্থার ওপর বাধা সৃষ্টির অভিযোগ, অন্যদিকে রাজনীতির হাতিয়ার হিসেবে এজেন্সিকে ব্যবহারের পাল্টা দাবি— সব মিলিয়ে বুধবার সুপ্রিম কোর্টের ১৬ নম্বর আদালত হয়ে উঠেছিল টানটান উত্তেজনার কেন্দ্রবিন্দু। তবে এদিনও কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব হয়নি, ফের পিছিয়ে গেল মামলার শুনানি।
বিস্ফোরক অভিযোগ ইডির আইনজীবীর
এদিন আদালতে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট বা ইডির আইনজীবী অত্যন্ত চাঞ্চল্যকর কিছু অভিযোগ সামনে আনেন। তাদের দাবি, তদন্ত প্রক্রিয়া চলাকালীন রাজ্য পুলিশকে ব্যবহার করে কেন্দ্রীয় সংস্থাকে ভয় দেখানোর চেষ্টা করা হয়েছে। এমনকি সিআরপিএফ জওয়ানদের এড়িয়েই কমিশনার অফ পুলিশ (CP) উপরে উঠে গিয়েছিলেন বলেও অভিযোগ করা হয়। সবথেকে বড় অভিযোগটি ছিল নথিপত্র সংক্রান্ত; ইডির আইনজীবীর দাবি, খোদ মুখ্যমন্ত্রী তদন্তের প্রয়োজনীয় নথি ছিনিয়ে নিয়েছেন এবং বেআইনিভাবে কাজে বাধা দিয়েছেন।
পাল্টা আক্রমণে রাজ্য সরকার
রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে এই অভিযোগের তীব্র বিরোধিতা করা হয়। রাজ্যের আইনজীবীদের পাল্টা যুক্তি, কেন্দ্রীয় এজেন্সিকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা হচ্ছে এবং রাজ্য প্রশাসনকে কালিমালিপ্ত করার চেষ্টা চলছে। তবে এদিন সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা আদালতে সওয়াল করার সময় আইপ্যাক-এ তল্লাশির পেছনে কোনো রাজনৈতিক যোগসূত্র থাকার বিষয়টি পুরোপুরি এড়িয়ে যান।
পরবর্তী পদক্ষেপ ও শুনানি
মামলার গুরুত্ব বিবেচনা করে হলফনামা জমা দেওয়ার জন্য শীর্ষ আদালতের কাছে কিছুটা সময় চেয়ে নেন ইডির আইনজীবী। সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা আবেদন জানান যাতে হোলির ছুটির পর এই মামলার পরবর্তী শুনানি রাখা হয়। সেই আবেদন মঞ্জুর করে সুপ্রিম কোর্ট জানিয়েছে, আগামী ১৮ মার্চ আইপ্যাক-এ ইডির তল্লাশি সংক্রান্ত এই হাই-ভোল্টেজ মামলার পরবর্তী শুনানি হবে।
এর আগে গত ১০ ফেব্রুয়ারি তৃণমূল নেত্রীর আইনজীবী অসুস্থ থাকায় শুনানি পিছিয়ে গিয়েছিল। ফলে ১৮ মার্চের শুনানির দিকেই এখন তাকিয়ে রয়েছে রাজনৈতিক মহল।