রাজ্যসভার লড়াইয়ে সরগরম বিধানসভা, ভোটাভুটি এড়াতে কি রণকৌশল নিচ্ছে যুযুধান পক্ষগুলি

পশ্চিমবঙ্গের পাঁচটি রাজ্যসভা আসনের নির্বাচনের নির্ঘণ্ট ঘোষণা হতেই বিধানসভার অন্দরে সাজ সাজ রব শুরু হয়ে গিয়েছে। কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশনের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, আগামী ১৬ মার্চ ভোটগ্রহণ পর্ব অনুষ্ঠিত হবে। তবে এই নির্বাচনকে ঘিরে এখন থেকেই শুরু হয়েছে রাজনৈতিক অঙ্ক এবং প্রশাসনিক তৎপরতা। একদিকে যেমন শাসক ও বিরোধী শিবিরের সংখ্যার লড়াই, অন্যদিকে দোল-হোলির ছুটির মাঝে মনোনয়ন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা— সব মিলিয়ে এক জটিল সমীকরণের মুখে দাঁড়িয়ে বিধানসভা সচিবালয়।
নির্বাচনের সময়সূচী ও বিধানসভার প্রস্তুতি
আগামী ২৬ ফেব্রুয়ারি রাজ্যসভার এই আসনগুলির জন্য আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তি জারি করা হবে। মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ দিন ৫ মার্চ এবং স্ক্রুটিনি বা পরীক্ষা হবে ৬ মার্চ। মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ তারিখ ৯ মার্চ। তবে এই সূচীর মাঝে ৩ এবং ৪ মার্চ দোলযাত্রা ও হোলি উৎসবের জন্য সরকারি ছুটি থাকায় কাজকর্মে কিছুটা ব্যাঘাত ঘটার সম্ভাবনা রয়েছে। যদিও আপৎকালীন পরিস্থিতিতে রাজ্যসভা নির্বাচনের সময় বিধানসভা খোলা রাখার দস্তুর রয়েছে, তবুও নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে সমন্বয় বজায় রেখে দ্রুত কাজ শেষ করতে চাইছেন সচিবালয়ের আধিকারিকরা।
ভোটাভুটি কি অনিবার্য
রাজ্যসভার এই পাঁচটি আসনে লড়াইয়ের ক্ষেত্রে একটি বিশেষ গাণিতিক নিয়ম কাজ করে। বর্তমানে বিধানসভার বিধায়ক সংখ্যার বিচারে একজন প্রার্থীকে জয়ী হতে গেলে অন্তত ৫০ জন বিধায়কের সমর্থন প্রয়োজন। এই সমীকরণে তৃণমূল কংগ্রেসের চারজন এবং বিজেপির একজন প্রার্থীর জয় কার্যত নিশ্চিত।
- বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়: যদি পাঁচটি আসনের বিপরীতে মাত্র পাঁচজন প্রার্থীই মনোনয়নপত্র জমা দেন, তবে আগামী ৬ মার্চ স্ক্রুটিনি পর্ব শেষ হতেই রিটার্নিং অফিসার তাঁদের জয়ী ঘোষণা করবেন।
- ভোটের সম্ভাবনা: যদি কোনো পক্ষ কৌশলগত কারণে ষষ্ঠ কোনো প্রার্থীকে ময়দানে নামায়, তবেই আগামী ১৬ মার্চ বিধানসভায় ব্যালট পেপারে ভোটগ্রহণ হবে। সেদিনই গণনার পর ফলাফল ঘোষণা করা হবে।
রিটার্নিং অফিসারের ভূমিকা ও প্রশাসনিক চ্যালেঞ্জ
বিধানসভার সচিবই এই নির্বাচনের রিটার্নিং অফিসার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। মনোনয়ন গ্রহণ থেকে শুরু করে জয়ী প্রার্থীদের শংসাপত্র প্রদান— সবটাই তাঁর অধীনে পরিচালিত হয়। বিধানসভার এক শীর্ষ আধিকারিক জানিয়েছেন, “আমরা দু’টি পরিস্থিতির জন্যই প্রস্তুত আছি। যদি ভোট হয় তবে তার জন্য প্রয়োজনীয় পরিকাঠামো তৈরি রাখা হচ্ছে, আর যদি বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয় হয় তবে সেই আইনি প্রক্রিয়াও গুছিয়ে রাখা হয়েছে।”
বিধানসভা ভোটের ছায়া
রাজনৈতিক মহলের ধারণা, রাজ্যসভা নির্বাচনের এই প্রক্রিয়া চলাকালীনই রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচনের দামামা বেজে যেতে পারে। সেক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশনকে দ্বিমুখী চাপ সামলাতে হবে। বিধায়কদের ক্ষেত্রেও এটি বড় পরীক্ষা, কারণ একদিকে যেমন বিধানসভা ভোটের প্রচারের ব্যস্ততা থাকবে, অন্যদিকে দলীয় নির্দেশ মেনে নির্দিষ্ট দিনে বিধানসভায় এসে রাজ্যসভার প্রার্থীদের জন্য ভোট দিতে হবে। দলবদল বা ক্রস-ভোটিং রুখতে দলগুলি ইতিমধ্যেই নিজেদের বিধায়কদের ওপর কড়া নজরদারি শুরু করেছে।
সব মিলিয়ে, ১৬ মার্চের লড়াই শেষ পর্যন্ত ব্যালট বক্সে গড়ায় নাকি আলোচনার টেবিলেই মিটে যায়, এখন সেটাই দেখার।