ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়ার চক্রান্ত? হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাটের স্ক্রিনশট ফাঁস করে কমিশনে তৃণমূল

নির্বাচন কমিশনের অন্দরের বিস্ফোরক তথ্য ফাঁস করলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। কমিশনের অন্দরে চলা হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাটের স্ক্রিনশট প্রকাশ্যে এনে গুরুতর অভিযোগ তুলল জোড়াসফুল শিবির। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অমান্য করে এবং অসাধু আধিকারিকদের কাজে লাগিয়ে বৈধ ভোটারদের নাম তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার এক গভীর ষড়যন্ত্র চলছে বলে দাবি করা হয়েছে।
বুধবার সন্ধ্যায় এই অভিযোগের বিহিত চেয়ে কলকাতার সিইও দফতরে স্মারকলিপি জমা দিল তৃণমূলের উচ্চপর্যায়ের এক প্রতিনিধিদল। মহুয়া মৈত্র, ব্রাত্য বসু এবং চন্দ্রিমা ভট্টাচার্যের মতো হেভিওয়েট নেতারা কমিশনে গিয়ে একগুচ্ছ চাঞ্চল্যকর অভিযোগ তুলে ধরেন।
তৃণমূলের দাবি, স্পেশাল রোল অবজার্ভাররা বেআইনিভাবে হোয়াটসঅ্যাপে নির্দেশ পাঠিয়ে গ্রাম পঞ্চায়েতের ইস্যু করা জন্ম শংসাপত্র গ্রহণে বাধা দিচ্ছেন। অথচ আইন অনুযায়ী এই শংসাপত্র সম্পূর্ণ বৈধ। এখানেই শেষ নয়, তৃণমূলের অভিযোগ যে এক জেলার আধিকারিকের লগ-ইন আইডি অন্য দূরবর্তী স্থান থেকে ব্যবহার করে সংখ্যালঘু প্রধান এলাকাগুলোতে ভোটার তালিকায় কাটছাঁট করার চেষ্টা চলছে। এমনকি কলকাতার ‘টি বোর্ড’ অফিস থেকেও এই আইডি ব্যবহারের প্রমাণ মিলেছে বলে দাবি করা হয়েছে।
ভোটার তালিকা সংশোধনের পোর্টাল ‘ইসিআইনেট’-এও কারিগরি কারচুপির অভিযোগ তুলেছে শাসক দল। তাদের দাবি, পোর্টালে আপলোড করা স্পষ্ট নথি হঠাৎ করেই অদৃশ্য বা অস্পষ্ট হয়ে যাচ্ছে, যার ফলে বৈধ ভোটারদের আবেদন বাতিল হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে।
নির্বাচন কমিশনের কাছে তৃণমূল মূলত পাঁচটি দাবি জানিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে গ্রাম পঞ্চায়েতের জন্ম শংসাপত্রের বৈধতা স্বীকার করা, অননুমোদিত লগ-ইন বন্ধ করা এবং পুরো প্রক্রিয়ার টেকনিক্যাল অডিট করা। তৃণমূল নেতৃত্ব স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যে, কমিশন দ্রুত পদক্ষেপ না নিলে এই অন্যায়ের বিরুদ্ধে তারা সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হতে পিছপা হবেন না।