পূর্ণিমার রাতে টয় ট্রেনে চেপে চা পাতা তোলার রোমাঞ্চ নিয়ে এল দার্জিলিং হিমালয়ান রেলওয়ে

পূর্ণিমার রাতে টয় ট্রেনে চেপে চা পাতা তোলার রোমাঞ্চ নিয়ে এল দার্জিলিং হিমালয়ান রেলওয়ে

শৈলরানি দার্জিলিংয়ের বুকে পর্যটকদের জন্য এক অনন্য উপহার নিয়ে এল ডিএইচআর। ১৯২০ সালের কোচবিহারের এক রাজকন্যার জ্যোৎস্নাস্নাত রেল সফরের ইতিহাসকে ফিরিয়ে আনতে এবার শুরু হচ্ছে বিশেষ নাইট সাফারি। ব্রিটিশ আমলের সেই নস্টালজিয়া আর পাহাড়ের মায়াবী পরিবেশকে এক সুতোয় বাঁধতে তিনটি নতুন চার্টার্ড টয় ট্রেন পরিষেবা চালু করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে রেল কর্তৃপক্ষ।

কী কী থাকছে এই রাজকীয় সফরে

দার্জিলিং হিমালয়ান রেলওয়ের এই নয়া উদ্যোগে পর্যটকরা শুধুমাত্র ট্রেনের জানলা দিয়ে পাহাড় দেখবেন না, বরং পাহাড়ের সংস্কৃতির সঙ্গে সরাসরি যুক্ত হওয়ার সুযোগ পাবেন। বিকেলের পড়ন্ত রোদে দার্জিলিং থেকে যাত্রা শুরু করে তিনধারিয়া ওয়ার্কশপ ঘুরে ট্রেনটি পৌঁছাবে গুলমায়। ট্রেনের ভেতরেই মিলবে খাঁটি তিব্বতি চায়ের স্বাদ। বন দফতরের সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এই সফরে থাকছে জঙ্গল ট্রেকিং এবং হাইকিংয়ের রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতা।

পাহাড়ি সংস্কৃতি ও রসনা তৃপ্তি

গুলমায় পৌঁছানোর পর পর্যটকদের জন্য অপেক্ষা করবে গোর্খা ও স্থানীয় জনজাতির ঐতিহ্যবাহী নাচগান। রাতের ডিনারে পরিবেশন করা হবে পাহাড়ের সাবেকি সব পদ। এছাড়া কার্শিয়াং টয় ট্রেন মিউজিয়াম দেখার পাশাপাশি স্থানীয় হস্তশিল্পের প্রদর্শনীও উপভোগ করতে পারবেন ভ্রমণপিপাসুরা।

চাঁদের আলোয় চা বাগান ভ্রমণ

এই সফরের সবথেকে বড় আকর্ষণ হলো পূর্ণিমার মায়াবী আলোয় চা বাগান দর্শন। রেল কর্তৃপক্ষের দাবি, আবহাওয়া সুপ্রসন্ন থাকলে পর্যটকরা জ্যোৎস্নারাতে চা পাতা তোলার বিরল দৃশ্য চাক্ষুষ করার সুযোগ পাবেন। ডিএইচআরের ডিরেক্টর ঋষভ চৌধুরী জানান, হেরিটেজ টয় ট্রেনের মাধ্যমে পাহাড়ের প্রকৃতি, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের মেলবন্ধন ঘটানোই এই প্রকল্পের মূল লক্ষ্য। উত্তরবঙ্গের পর্যটনে এই পরিষেবা এক নতুন মাত্রা যোগ করবে বলে আশাবাদী পর্যটন মহল।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *