উপাচার্য সংকট অব্যাহত!

নিউজ ডেস্ক
রাজ্যের উচ্চশিক্ষায় উপাচার্য নিয়োগ নিয়ে চলা টানাপোড়েন যেন কিছুতেই থামছে না। বারাসাত স্টেট ইউনিভার্সিটির (ডব্লিউবিএসইউ) পরিস্থিতি বর্তমানে এমন এক পর্যায়ে পৌঁছেছে যেখানে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাভাবিক পঠনপাঠন এবং প্রশাসনিক কাজ পুরোপুরি শিকেয় ওঠার উপক্রম হয়েছে। গত জানুয়ারি মাসেই রাজ্যপাল তথা আচার্য সিভি আনন্দ বোস সমাজমাধ্যমের পাতায় রাজ্যের ৬টি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের নাম ঘোষণা করেছিলেন। সেই তালিকায় সগৌরবে বারাসাত স্টেট ইউনিভার্সিটির নাম থাকলেও বাস্তবে চিত্রটা অত্যন্ত উদ্বেগজনক।
আচার্যের ঘোষণার পর প্রায় তিন সপ্তাহ পার হয়ে গিয়েছে। কিন্তু আশ্চর্যের বিষয় হলো, রাজ্যপাল মনোনীত সেই উপাচার্য এখনও বিশ্ববিদ্যালয়ে এসে কাজে যোগ দেননি। প্রশাসনিক স্তরে কেন এই দীর্ঘসূত্রতা বা কেন তিনি এখনও দায়িত্ব নিলেন না, তা নিয়ে তৈরি হয়েছে ধোঁয়াশা। তবে এই সংকট নতুন কিছু নয়। তথ্য বলছে, ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের পর থেকেই এই বিশ্ববিদ্যালয়ে কোনও স্থায়ী উপাচার্য নেই। দীর্ঘ সময় ধরে অস্থায়ী ব্যবস্থার ওপর ভিত্তি করেই চলছিল কাজকর্ম।
বর্তমানে বারাসাত স্টেট ইউনিভার্সিটির হাল প্রায় ‘কাণ্ডারীহীন নৌকার’ মতো। শুধু উপাচার্য নয়, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কাঠামোর গুরুত্বপূর্ণ পদ যেমন সহ-উপাচার্য এবং রেজিস্ট্রারের পদও বর্তমানে শূন্য পড়ে রয়েছে। এর ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ের দৈনন্দিন প্রশাসনিক কাজ থেকে শুরু করে নীতিনির্ধারণী সিদ্ধান্ত— সবকিছুই কার্যত স্তব্ধ। শিক্ষা মহলের মতে, অতি দ্রুত এই শূন্যপদগুলি পূরণ করা না হলে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভবিষ্যৎ এবং হাজার হাজার পড়ুয়ার শিক্ষাজীবন বড়সড় ঝুঁকির মুখে পড়বে। এখন দেখার, রাজভবন এবং শিক্ষা দপ্তরের এই জট কবে কাটবে এবং কবে বারাসাত স্টেট ইউনিভার্সিটি ফিরে পাবে তার স্বাভাবিক ছন্দ।