তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হতেই কি বদলে যাবে উত্তরবঙ্গের পর্যটনের ভাগ্য? আশায় বুক বাঁধছে পাহাড় থেকে সমতল

তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হতেই কি বদলে যাবে উত্তরবঙ্গের পর্যটনের ভাগ্য? আশায় বুক বাঁধছে পাহাড় থেকে সমতল

বাংলাদেশে রাজনৈতিক পালাবদলের পর প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন তারেক রহমান। আর এই শপথগ্রহণের পরই নতুন করে আশার আলো দেখছেন উত্তরবঙ্গের পর্যটন ব্যবসায়ীরা। গত কয়েক মাস ধরে ভারত ও বাংলাদেশের কূটনৈতিক টানাপোড়েন এবং ভিসা সংক্রান্ত কড়াকড়ির জেরে কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছিল পর্যটন শিল্প। তবে প্রতিবেশী দেশে নির্বাচিত সরকার দায়িত্ব নেওয়ায় এখন ফের দুই দেশের সম্পর্ক স্বাভাবিক হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

পর্যটন ব্যবসায়ীদের চোখে আগামীর সম্ভাবনা

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর বাংলাদেশে তৈরি হওয়া অস্থিরতার প্রভাব সরাসরি পড়েছিল ভারতের পর্যটন খাতে। বিশেষ করে পশ্চিমবঙ্গ ও উত্তরবঙ্গে আসা বিদেশি পর্যটকদের একটি বিশাল অংশই ছিলেন বাংলাদেশি নাগরিক। হিমালয়ান হসপিটালিটি ও ট্যুরিস্ট ডেভেলপমেন্ট নেটওয়ার্কের সাধারণ সম্পাদক সম্রাট সান্যাল এই পরিবর্তনকে দু’দেশের জন্যই ‘সুসংবাদ’ হিসেবে দেখছেন। তাঁর মতে, সরকার ও ব্যক্তি— উভয় স্তরেই সম্পর্কের উন্নতি হলে পর্যটকদের যাতায়াত আবার স্বাভাবিক হবে। তবে ব্যবসায়িক স্বার্থের আগে দেশের মর্যাদা বজায় রাখাকেই তিনি বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন।

পরিসংখ্যানে ধস ও পুনরুদ্ধারের লড়াই

সরকারি তথ্য বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, ভারতের পর্যটন শিল্পে বাংলাদেশিদের অবদান কতটা গভীর।

  • ২০১৯ সাল: ভারতে আসা মোট বিদেশি পর্যটকের ২৩.৫৮ শতাংশ ছিলেন বাংলাদেশি।
  • ২০২৩ সাল: এই হার ছিল ২২.২৬ শতাংশ।
  • ২০২৪ (আগস্ট পরবর্তী): রাজনৈতিক অস্থিরতার জেরে এই সংখ্যা এক ধাক্কায় নেমে আসে ১৭.৫৯ শতাংশে।

আশ্চর্যের বিষয় হলো, এই সময়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে আসা পর্যটকের হার (১৮.১৩ শতাংশ) বাংলাদেশকেও ছাড়িয়ে গিয়েছিল। শিলিগুড়ির হোটেল ব্যবসায়ীদের মতে, ২০১৮ সালে সিকিম বাংলাদেশি পর্যটকদের জন্য উন্মুক্ত হওয়ার পর উত্তরবঙ্গে তাঁদের আনাগোনা ব্যাপক বৃদ্ধি পেয়েছিল। পরিসংখ্যান বলছে, ২০২৪ সালে ভারতে আসা বাংলাদেশি পর্যটকদের প্রায় ৮০.৩৭ শতাংশই ভ্রমণ করেছেন পশ্চিমবঙ্গের মতো পূর্ব প্রান্তের রাজ্যগুলোতে।

কূটনৈতিক সম্পর্কের দিকেই তাকিয়ে সকলে

ইস্টার্ন হিমালয় ভ্রমণ ও পর্যটন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক দেবাশিস চক্রবর্তী স্বীকার করেছেন যে, বাংলাদেশের অস্থিরতা উত্তরবঙ্গের অর্থনীতিতে বড় প্রভাব ফেলেছে। যদিও ২০২৪ সালে বিদেশি পর্যটক আগমনের নিরিখে পশ্চিমবঙ্গ সারা দেশে দ্বিতীয় স্থানে ছিল (প্রায় ৩১ লক্ষ ২০ হাজার পর্যটক), তবুও বাংলাদেশি পর্যটকদের অনুপস্থিতি স্থানীয় ব্যবসায়ীদের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছিল।

গত বছর বাংলাদেশে ভারত-বিরোধী বিক্ষোভের জেরে শিলিগুড়ির অনেক হোটেলই বাংলাদেশি অতিথিদের জন্য দরজা বন্ধ বা সীমিত করেছিল। এখন তারেক রহমানের নেতৃত্বে নতুন সরকার আসার পর পরিস্থিতি কতটা ইতিবাচক হয় এবং ভিসা পরিষেবা পুনরায় সহজতর হয় কি না, তার দিকেই তাকিয়ে আছেন পর্যটন জগতের অভিজ্ঞ ব্যক্তিরা।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *