বিশ্বনেতাদের মেলা ভারত মণ্ডপমে! মোদীর হাত ধরে এআই দুনিয়ায় নতুন ইতিহাস গড়তে চলেছে ভারত

নয়াদিল্লি– কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই-এর হাত ধরে বদলে যেতে চলেছে আগামীর বিশ্ব। আর সেই পরিবর্তনের কেন্দ্রবিন্দুতে এবার ভারত। বৃহস্পতিবার রাজধানী দিল্লির আইকনিক ভারত মণ্ডপমে শুরু হতে চলেছে বিশ্বের অন্যতম বৃহত্তম এআই মহাসম্মেলন ‘ইন্ডিয়া এআই ইমপ্যাক্ট সামিট ২০২৬’। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এই ঐতিহাসিক অনুষ্ঠানের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন।
মঞ্চে চাঁদের হাট
অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী মোদীর সঙ্গে একই মঞ্চে উপস্থিত থাকবেন ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমান্যুয়েল ম্যাক্রন এবং রাষ্ট্রসংঘের মহাসচিব অ্যান্তেনিও গুতেরেস। সকাল ৯টা ১৫ মিনিটে বিশ্বনেতাদের উপস্থিতিতে একটি ‘ফ্যামিলি ফটো’ তোলার মাধ্যমে কর্মসূচির সূচনা হবে। সকাল ৯টা ৪০ মিনিটে উদ্বোধন এবং ১০টা ২৫ মিনিটে প্রতিনিধিদের উদ্দেশ্যে ভাষণ দেবেন প্রধানমন্ত্রী।
প্রযুক্তির প্রদর্শনী ও এক্সপো
উদ্বোধনী পর্ব শেষে সকাল ১১টা নাগাদ প্রধানমন্ত্রী আন্তর্জাতিক প্রতিনিধিদের সঙ্গে নিয়ে ‘ইন্ডিয়া এআই ইমপ্যাক্ট এক্সপো’ ঘুরে দেখবেন। এখানে বিভিন্ন দেশের প্যাভিলিয়নে অত্যাধুনিক এআই উদ্ভাবন ও প্রযুক্তির অভাবনীয় সাফল্য প্রদর্শিত হবে।
গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক ও রাউন্ডটেবিল
দুপুরের অধিবেশনে বসবে ‘লিডার্স প্লেনারি’। যেখানে বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রপ্রধান, মন্ত্রী ও বহুপাক্ষিক সংস্থার শীর্ষ কর্তারা এআই-এর শাসন কাঠামো, পরিকাঠামো উন্নয়ন এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা করবেন। বিকেল ৫টা ৩০ মিনিট থেকে শুরু হবে হাই-প্রোফাইল ‘সিইও রাউন্ডটেবিল’। বিশ্বের নামী প্রযুক্তি সংস্থাগুলোর কর্ণধার এবং সরকারি নেতৃত্ব একত্রে বসে এআই ক্ষেত্রে বিনিয়োগের সম্ভাবনা ও গবেষণা নিয়ে রূপরেখা তৈরি করবেন।
সামিটের মূল লক্ষ্য ও তাৎপর্য
এবারের সম্মেলনের মূল মন্ত্র হলো ‘সর্বজন হিতায়, সর্বজন সুখায়’। অর্থাৎ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে কাজে লাগিয়ে মানবকল্যাণ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন নিশ্চিত করা। ‘পিপল, প্ল্যানেট, প্রোগ্রেস’—এই তিন স্তম্ভের ওপর ভিত্তি করে সাতটি বিশেষ কর্মগোষ্ঠী তৈরি করা হয়েছে। যারা অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, নিরাপদ এআই এবং বিজ্ঞানচর্চার প্রসারে কাজ করবে।
সংখ্যার নিরিখে মহাসম্মেলন
- ৫০০+ বিশ্বসেরা এআই বিশেষজ্ঞ।
- ১০০+ সিইও এবং প্রতিষ্ঠাতা।
- ১৫০+ প্রথিতযশা শিক্ষাবিদ ও গবেষক।
- ১০০+ সরকারি প্রতিনিধি (যার মধ্যে ২০ জন রাষ্ট্রপ্রধান ও ৬০ জন মন্ত্রী)।
প্রযুক্তি নির্ভর ভবিষ্যৎ নির্মাণে এবং বিশ্বমঞ্চে ভারতের নেতৃত্বকে আরও সুদৃঢ় করতেই এই বিশালাকার আয়োজন করা হয়েছে।