১ লক্ষ ১৫ হাজার নথিতে বড় গোলমাল! বাংলায় ভোটের আগে নজিরবিহীন কড়া পদক্ষেপ নির্বাচন কমিশনের

১ লক্ষ ১৫ হাজার নথিতে বড় গোলমাল! বাংলায় ভোটের আগে নজিরবিহীন কড়া পদক্ষেপ নির্বাচন কমিশনের

পশ্চিমবঙ্গে আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের আগে ভোটার তালিকা সংশোধন প্রক্রিয়া নিয়ে রণক্ষেত্র পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। একদিকে প্রশাসনিক গাফিলতি, অন্যদিকে রাজনৈতিক তরজায় সরগরম রাজ্য রাজনীতি। পরিস্থিতি এতটাই জটিল যে, খোদ নির্বাচন কমিশন (ইসিআই) এবার সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার পথে হাঁটছে।

কমিশনের রাডারে সরকারি আধিকারিকেরা: শোকজ নোটিসের খাঁড়া

রাজ্যে চলমান ভোটার তালিকা সংশোধন বা SIR প্রক্রিয়ায় বিপুল পরিমাণ নথি অনলাইনে আপলোড না হওয়ায় চরম অসন্তোষ প্রকাশ করেছে দিল্লির নির্বাচন কমিশন। তথ্য অনুযায়ী, শুনানি প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার চার দিন অতিক্রান্ত হলেও প্রায় ১ লক্ষ ১৫ হাজার গুরুত্বপূর্ণ নথি এখনও সার্ভারে তোলা হয়নি। কমিশনের স্পষ্ট নির্দেশ ছিল, কোনও আবেদন খারিজ করলে তার সুনির্দিষ্ট কারণ লিখিতভাবে জানাতে হবে। কিন্তু সেই নির্দেশকে বুড়ো আঙুল দেখানোর অভিযোগ উঠেছে আধিকারিকদের একাংশের বিরুদ্ধে।

এরই প্রেক্ষিতে সংশ্লিষ্ট ইলেক্টোরাল রেজিস্ট্রেশন অফিসার (ERO) এবং অ্যাসিস্ট্যান্ট ইলেক্টোরাল রেজিস্ট্রেশন অফিসারদের (AERO) শোকজ নোটিস পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে কমিশন। ধীরগতিতে কাজ করা এবং মাঝপথে সিস্টেম বিকল হওয়ার অজুহাত কোনওভাবেই মেনে নিতে চাইছে না কমিশন কর্তৃপক্ষ।

মুরুগনকে ঘিরে তুঙ্গে সংঘাত

নির্বাচন প্রক্রিয়ার মধ্যেই স্পেশাল রোল অবজারভার সি. মুরুগনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস। তাদের অভিযোগ, মুরুগন সুপ্রিম কোর্টের গাইডলাইন লঙ্ঘন করে হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে আধিকারিকদের বেআইনি নির্দেশ দিচ্ছেন। এই অভিযোগে তাঁর পদত্যাগের দাবিও জানানো হয়েছে। যদিও রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজ কুমার আগরওয়াল জানিয়েছেন, মুরুগন শুধুমাত্র কমিশনের বিদ্যমান নির্দেশগুলি ব্যাখ্যা করেছিলেন। তবে অভিযোগের গুরুত্ব বিচার করে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করা হবে বলে আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।

রথযাত্রায় বাংলা দখলের ব্লুপ্রিন্ট বিজেপির

ভোটের দামামা বাজতেই বাংলায় সর্বশক্তি দিয়ে ঝাঁপাতে চাইছে বিজেপি। রাজ্যের কোণায় কোণায় পৌঁছাতে ১ মার্চ থেকে শুরু হচ্ছে বিশাল ‘পরিবর্তন রথযাত্রা’। বঙ্গ বিজেপি সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য জানিয়েছেন, উত্তরবঙ্গের কোচবিহার থেকে এই যাত্রার সূচনা হবে।

রথযাত্রার সূচি ও পরিকল্পনা একনজরে

  • শুরু: ১ মার্চ কোচবিহার দক্ষিণ থেকে।
  • বিরতি: ৩ ও ৪ মার্চ দোলযাত্রা ও হোলির কারণে কর্মসূচি স্থগিত থাকবে।
  • ব্যপ্তি: ৫ থেকে ১০ মার্চের মধ্যে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে ৫,০০০ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করবে এই রথ।
  • কর্মসূচি: ৬০টি বড় জনসভা এবং ৩০০টিরও বেশি ছোট পথসভা করার পরিকল্পনা রয়েছে।
  • উপস্থিতি: কেন্দ্রীয় মন্ত্রীরা বিভিন্ন পর্যায়ে যোগ দেবেন।

ব্রিগেডে মোদীর মেগা শো

এই রথযাত্রার চূড়ান্ত গন্তব্য কলকাতার ঐতিহাসিক ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ড। সেখানে এক বিশাল জনসভার আয়োজন করা হয়েছে, যেখানে প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত থাকবেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। বসন্ত উৎসবের আবহে নাচ, গান এবং আবির খেলার মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে এই প্রচার কর্মসূচিতে শামিল করার এক অভিনব পরিকল্পনা নিয়েছে গেরুয়া শিবির। শমীক ভট্টাচার্যের দাবি, এই যাত্রার মাধ্যমেই বাংলায় রাজনৈতিক পরিবর্তনের ডাক দেওয়া হবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *