ট্রাম্পের সবুজ সংকেতের অপেক্ষা, ইরানে আছড়ে পড়তে পারে আমেরিকার বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র

ট্রাম্পের সবুজ সংকেতের অপেক্ষা, ইরানে আছড়ে পড়তে পারে আমেরিকার বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র

ইরানের পরমাণু কেন্দ্র ও সামরিক ঘাঁটিগুলোতে কি তবে খুব শীঘ্রই আছড়ে পড়তে চলেছে আমেরিকার বিধ্বংসী সব মিসাইল? আন্তর্জাতিক মহলে এখন এই একটি প্রশ্নই ঘুরপাক খাচ্ছে। হোয়াইট হাউস সূত্রে খবর, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের একটি মাত্র ‘অঙ্গুলিহেলন’ বা নির্দেশের অপেক্ষায় রয়েছে পেন্টাগন। ২০০৩ সালের ইরাক যুদ্ধের পর মধ্যপ্রাচ্যে এত বড় মাপের রণপ্রস্তুতি আর কখনও দেখেনি বিশ্ব। মার্কিন যুদ্ধবিমান ও রণতরীগুলো এখন কার্যত যুদ্ধের সলতে পাকাচ্ছে।

ইরাক যুদ্ধের স্মৃতি উসকে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন রণসজ্জা

ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল ও সিএনএন-এর দাবি অনুযায়ী, এই সপ্তাহান্তেই ইরানে সামরিক অভিযান শুরু করতে পারে আমেরিকা। মার্কিন বায়ুসেনার শত শত যুদ্ধবিমান ও সহায়ক সামরিক বিমান ইতিমধ্যেই আরব দুনিয়ার বিভিন্ন ঘাঁটিতে মোতায়েন করা হয়েছে। ২০০৩ সালে সাদ্দাম হোসেনের ইরাকে হামলার পর এই প্রথম এত বিশাল আকারে সামরিক শক্তি প্রদর্শন করছে ওয়াশিংটন। পারস্য উপসাগরের নীল জলরাশিতে ইতিমধ্যেই টহল দিতে শুরু করেছে ইউএসএস জেরাল্ড ফোর্ড (USS Gerald Ford) নেতৃত্বাধীন রণতরীর বহর।

সিচুয়েশন রুমে রুদ্ধদ্বার বৈঠক ও ট্রাম্পের দোলাচল

বুধবার হোয়াইট হাউসের অতি গোপনীয় ‘সিচুয়েশন রুম’-এ জাতীয় নিরাপত্তা বিষয়ক কর্মকর্তাদের নিয়ে দীর্ঘ বৈঠক করেছেন ট্রাম্প। সেখানে উপস্থিত ছিলেন বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনার। জেনেভায় ইরানের সঙ্গে হওয়া পরোক্ষ আলোচনার ফলাফল খুব একটা সুখকর না হওয়ায় যুদ্ধের মেঘ আরও ঘনীভূত হয়েছে। যদিও ট্রাম্প ব্যক্তিগতভাবে যুদ্ধের চেয়ে কূটনৈতিক সমাধানই বেশি পছন্দ করেন, তবে ইরানের একগুঁয়ে মনোভাব তাঁকে কঠোর সিদ্ধান্তের দিকে ঠেলে দিচ্ছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

মাটির গভীরে পরমাণু ঘাঁটি লুকোচ্ছে ইরান

আমেরিকার এই রণপ্রস্তুতির পাল্টা জবাব দিতে প্রস্তুত তেহরানও। উপগ্রহ চিত্রে দেখা গেছে, ইরান তাদের প্রধান পরমাণু স্থাপনাগুলোকে রক্ষা করতে কংক্রিট ও মাটির পুরু স্তর দিয়ে ঢেকে দিচ্ছে। মার্কিন সংস্থা ‘আইসিস’ (ISIS)-এর বিশ্লেষণ বলছে, সম্ভাব্য বিমান হামলা থেকে বাঁচতে ইরান তাদের সামরিক পরিকাঠামোকে মাটির অনেক গভীরে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছে।

ইজরায়েল কি তবে ছায়াসঙ্গী?

অ্যাক্সিওস (Axios)-এর রিপোর্ট বলছে, এই হামলা যদি শুরু হয়, তবে তা একদিন বা দু’দিনের বিষয় হবে না। বরং কয়েক সপ্তাহ ধরে চলতে পারে এই বিধ্বংসী সামরিক অভিযান। আর এই অভিযানে আমেরিকার প্রধান সহযোগী হিসেবে থাকতে পারে ইজরায়েল। গত বছর ইজরায়েলের ১২ দিনের অভিযানের চেয়েও এবারের হামলার তীব্রতা অনেক বেশি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

হোয়াইট হাউসের এক শীর্ষ আধিকারিকের বিস্ফোরক দাবি, আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার সম্ভাবনা প্রায় ৯০ শতাংশ। কূটনৈতিক আলোচনার জানলা এখনও খোলা থাকলেও, যুদ্ধের দামামা যে ভাবে বাজতে শুরু করেছে, তাতে বিশ্বজুড়ে তেলের বাজার থেকে শুরু করে ভূ-রাজনীতিতে বড়সড় কম্পন অবশ্যম্ভাবী। এখন দেখার, ডোনাল্ড ট্রাম্প শেষ পর্যন্ত আলোচনার পথে হাঁটেন নাকি যুদ্ধের বোতামে চাপ দেন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *