শপথ নিয়েই রণংদেহী মেজাজে তারেক রহমান, সিন্ডিকেট আর সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তায় দিলেন চরম হুঁশিয়ারি

শপথ নিয়েই রণংদেহী মেজাজে তারেক রহমান, সিন্ডিকেট আর সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তায় দিলেন চরম হুঁশিয়ারি

দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে বাংলাদেশের মসনদে বসলেন তারেক রহমান। মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণের পর বুধবারই মন্ত্রিসভার প্রথম বৈঠকে বসেছিলেন তিনি। আর প্রথম বৈঠকেই স্পষ্ট করে দিলেন নিজের কঠোর অবস্থান। একদিকে যেমন বাজারদর নিয়ন্ত্রণে ব্যবসায়ীদের হুঁশিয়ারি দিলেন, অন্যদিকে দেশের সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দিলেন এক শক্তিশালী বার্তা।

‘নতুন বাংলাদেশ’ গড়ার শপথ তারেকের

গণঅভ্যুত্থান আর এক বছরের অস্থিরতা কাটিয়ে বাংলাদেশে এখন গণতন্ত্রের নতুন সূর্যোদয়। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের বিদায়ের পর বিপুল জনসমর্থন নিয়ে ক্ষমতায় ফিরেছে বিএনপি। প্রধানমন্ত্রী পদে আসীন হয়েছেন খালেদা জিয়া-পুত্র তারেক রহমান। ক্ষমতায় এসেই তিনি জানিয়ে দিয়েছেন, হাজারো প্রাণের বিনিময়ে অর্জিত এই গণতন্ত্রকে কোনোভাবেই কলুষিত হতে দেবেন না। দুর্নীতি, অনাচার আর বিগত আমলের ‘মাফিয়া-সিন্ডিকেট’ রাজত্ব গুঁড়িয়ে দেওয়াই তার সরকারের মূল লক্ষ্য।

সংখ্যালঘুদের জন্য অভয়বাণী

বিগত কয়েক মাসে বাংলাদেশে ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের ওপর হওয়া হামলার ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন অনেকেই। বুধবারের বৈঠকে তারেক রহমান অত্যন্ত দৃঢ়ভাবে জানান, পাহাড় থেকে সমতল— এই বাংলাদেশ সবার। তিনি বলেন, “মুসলিম, হিন্দু, বৌদ্ধ বা খ্রিস্টান বলে কোনো বিভাজন চলবে না। এ দেশ সবার জন্য নিরাপদ ভূমি হবে।” যারা সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্ট করার চেষ্টা করবে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।

রমজানের আগে বাজার সিন্ডিকেটকে কড়া বার্তা

সামনেই পবিত্র রমজান মাস। আর এই সময়টাতেই বাংলাদেশে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম আকাশছোঁয়া হয়ে যায়। ব্যবসায়ীদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রীর সাফ কথা, “রমজানকে মুনাফা লোটার মাস হিসেবে ব্যবহার করবেন না।” বাজার নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং দ্রব্যমূল্য সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যে রাখতে তিনি সরাসরি হস্তক্ষেপের ইঙ্গিত দিয়েছেন। কোনো ধরনের কৃত্রিম সংকট তৈরি করলে বা সিন্ডিকেট করে দাম বাড়ালে সরকার যে হাত গুটিয়ে বসে থাকবে না, তা তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন।

অগ্রাধিকার কেবল উন্নয়ন ও আইনশৃঙ্খলা

তারেক রহমানের মতে, বিগত আমলের নৈরাজ্য সাফ করে একটি সুশৃঙ্খল রাষ্ট্র গঠনই এখন বিএনপির প্রধান চ্যালেঞ্জ। ছাত্র আন্দোলন এবং রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর ভেঙে পড়া আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক করাই তার প্রথম অগ্রাধিকার। দেশের প্রতিটি নাগরিক যাতে নির্ভয়ে বসবাস করতে পারেন এবং উন্নয়নের সুফল সবার ঘরে পৌঁছায়, সেই লক্ষ্যেই কাজ শুরু করেছে নবনির্বাচিত এই সরকার।

পদ্মাপাড়ের রাজনীতিতে এখন নতুন হাওয়া। তারেক রহমানের এই ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি সাধারণ মানুষের মনে কতটা স্বস্তি ফেরায়, এখন সেটাই দেখার বিষয়।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *