ট্রাম্পের মাস্টারস্ট্রোক? ইরান উত্তেজনার মাঝেই সিরিয়া ছাড়ছে মার্কিন ফৌজ

ট্রাম্পের মাস্টারস্ট্রোক? ইরান উত্তেজনার মাঝেই সিরিয়া ছাড়ছে মার্কিন ফৌজ

সিরিয়া থেকে পাততাড়ি গোটাচ্ছে বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী সামরিক বাহিনী। মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে এক অবিশ্বাস্য মোড় ঘুরিয়ে দিয়ে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন ঘোষণা করেছে যে, আগামী কয়েক মাসের মধ্যেই সিরিয়া থেকে মার্কিন সেনাদের বড় অংশ প্রত্যাহার করে নেওয়া হবে। যখন একদিকে ইরানের সঙ্গে যুদ্ধের দামামা বাজছে, ঠিক সেই মুহূর্তে সিরিয়া থেকে সেনা সরানোর এই সিদ্ধান্ত বিশ্বজুড়ে জল্পনা উসকে দিয়েছে।

দীর্ঘ এক দশকের অভিযানের অবসান

২০১৫ সাল থেকে ইসলামিক স্টেট বা আইএসআইএস দমনের লক্ষ্যে সিরিয়ার মাটিতে পা রেখেছিল মার্কিন সেনারা। দীর্ঘ লড়াই আর রক্তক্ষয়ী সংগ্রামের পর হোয়াইট হাউসের দাবি, সিরিয়া সরকার এখন নিজেই সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলায় সক্ষম। তাই সেখানে আর বিশাল মার্কিন বাহিনীর উপস্থিতির প্রয়োজন নেই। এই বছরের শুরুতেই কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ আল তানফ এবং আল শাদ্দাদি ঘাঁটি ত্যাগ করেছে আমেরিকা।

আসাদ সরকারের পতন ও নয়া সমীকরণ

২০২৪ সালে আসাদ সরকারের পতনের পর সিরিয়ার রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট আমূল বদলে গেছে। নতুন প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারার সঙ্গে ওয়াশিংটনের সম্পর্ক এখন অনেকটাই বন্ধুত্বপূর্ণ। গত নভেম্বরে হোয়াইট হাউসে ট্রাম্প ও শারার ঐতিহাসিক বৈঠকটি ছিল সিরিয়ার কোনো নেতার জন্য প্রথম আমেরিকা সফর। এমনকি কুর্দি নেতৃত্বাধীন ‘সিরিয়ান ডেমোক্রেটিক ফোর্সেস’ (SDF)-কেও সিরিয়ার মূল সামরিক বাহিনীর সঙ্গে একীভূত করার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

ইরানকে কি তবে একঘরে করার ছক?

সিরিয়া থেকে সেনা সরালেও মধ্যপ্রাচ্যে কিন্তু শক্তি কমায়নি ওয়াশিংটন। বরং ইরানের দোরগোড়ায় মোতায়েন করা হয়েছে ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন এবং ইউএসএস জেরাল্ড আর ফোর্ডের মতো দানবীয় রণতরী। পেন্টাগন সূত্রে খবর, ট্রাম্প যেকোনো মুহূর্তে ইরানের ওপর হামলার জন্য প্রস্তুত থাকার নির্দেশ দিয়েছেন। বিশ্লেষকদের মতে, সিরিয়া থেকে সেনা সরিয়ে আমেরিকা সম্ভবত তাদের পুরো শক্তি এখন ইরানের দিকে কেন্দ্রীভূত করতে চাইছে।

অপারেশন হকআই স্ট্রাইক ও নিরাপত্তার ঝুঁকি

সেনা প্রত্যাহারের এই প্রক্রিয়াটি সম্পূর্ণ শর্তসাপেক্ষ। সম্প্রতি আইএসআইএস-এর হামলায় দুই মার্কিন সেনার মৃত্যুর পর ‘অপারেশন হকআই স্ট্রাইক’ শুরু করেছিল ট্রাম্প প্রশাসন। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, সেনা সরালেও সন্ত্রাসবাদের সামান্যতম মাথাচাড়া দেওয়া বরদাস্ত করা হবে না।

সিরিয়া থেকে এই প্রস্থান কি মধ্যপ্রাচ্যে শান্তির নতুন পথ দেখাবে, নাকি ইরান-আমেরিকা সংঘাতের এক ভয়ংকর অধ্যায় শুরু করবে, এখন সেটাই দেখার বিষয়।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *