বুদ্ধ-জমানায় নিয়োগ দুর্নীতির কালো ছায়া! প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রীর বিরুদ্ধে তদন্তের গ্রিন সিগন্যাল দিল হাই কোর্ট

রাজ্য রাজনীতিতে এবার উলটপুরাণ। তৃণমূল জমানার নিয়োগ দুর্নীতি নিয়ে যখন তোলপাড় চারপাশ, ঠিক তখনই বাম আমলের নিয়োগ প্রক্রিয়ার অন্ধকার দিকটি সামনে চলে এল। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের জমানায় তাঁরই মন্ত্রিসভার সদস্য তথা তৎকালীন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ দের বিরুদ্ধে উঠল প্রভাব খাটিয়ে অনৈতিকভাবে চাকরি দেওয়ার গুরুতর অভিযোগ। বুধবার কলকাতা হাই কোর্টের বিচারপতি রাই চট্টোপাধ্যায় এই মামলায় অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ পর্যবেক্ষণ দিয়েছেন এবং রাজ্য সরকারকে তদন্ত শুরুর সবুজ সংকেত প্রদান করেছেন।
নেপথ্যে কোন ঘটনা
গোটা ঘটনার সূত্রপাত ২০১২ সালে। বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার এক বছর পর বিকাশ ভবনের বিভাগীয় সহকারী পদ থেকে তিথি অধিকারী নামের এক কর্মীকে বহিষ্কার করা হয়। এই সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিলেন তিথি। কিন্তু মামলা লড়তে গিয়েই বেরিয়ে আসে থলের বিড়াল। জানা যায়, ২০০৭ সালে সর্বশিক্ষা মিশনের চুক্তিভিত্তিক কর্মী হিসেবে উলুবেড়িয়া ইস্ট সার্কেলে যোগ দিয়েছিলেন তিনি। পরবর্তীতে ২০১০ সালে কাজে গাফিলতির অভিযোগে তাঁর চুক্তির মেয়াদ আর বাড়ানো হয়নি।
আদালতের নথিতে উল্লেখ রয়েছে, চাকরি হারোনোর পর তিথি সরাসরি তৎকালীন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ দের শরণাপন্ন হন। অভিযোগ, ২০১০ সালের ৫ অক্টোবর শিক্ষামন্ত্রী নিজের ব্যক্তিগত প্রভাব খাটিয়ে নিয়মবহির্ভূতভাবে তাঁকে বিকাশ ভবনে শিক্ষা দপ্তরের বিভাগীয় সহকারী হিসেবে নিয়োগের ব্যবস্থা করেন। এই নিয়োগের ক্ষেত্রে কোনো স্বচ্ছ প্রক্রিয়া মানা হয়নি এবং তাঁর বেতন দেওয়া হচ্ছিল সরকারি কোষাগার তথা সর্বশিক্ষা মিশনের তহবিল থেকে।
আদালতের কড়া পর্যবেক্ষণ
মামলাটি শোনার পর বিচারপতি রাই চট্টোপাধ্যায় সাফ জানিয়ে দেন যে, সরকারি কোষাগারের টাকা এভাবে অনৈতিকভাবে বিলি করা যায় না। আদালতের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী
- তৎকালীন শিক্ষামন্ত্রী নিজের পদের অপব্যবহার করে ব্যক্তিগত পছন্দের ব্যক্তিকে চাকরি দিয়েছেন।
- নিয়োগের নির্দিষ্ট আইনি প্রক্রিয়া এড়িয়ে এই কাজ করা হয়েছে, যা সম্পূর্ণ অনৈতিক।
- সরকারি তহবিল থেকে বেতন দেওয়ার মাধ্যমে আর্থিক নয়ছয় করা হয়েছে।
তদন্তের পথে রাজ্য
বিচারপতি রাই চট্টোপাধ্যায় তিথি অধিকারীর আবেদন খারিজ করে দেওয়ার পাশাপাশি রাজ্য সরকারকে বড়সড় অস্ত্র তুলে দিয়েছেন। আদালত জানিয়েছে, তৎকালীন শিক্ষামন্ত্রী কীভাবে এই নিয়োগ করলেন এবং সরকারি অর্থের অপচয় করলেন, তা খতিয়ে দেখতে রাজ্য সরকার চাইলে তদন্ত শুরু করতে পারে। আদালতের মতে, এই একটি ঘটনার তদন্ত শুরু হলে বাম আমলের আরও অনেক বেনিয়ম বা অনৈতিক নিয়োগের তথ্য প্রকাশ্যে আসতে পারে।
লোকসভা ভোটের আগে বা পরে নিয়োগ দুর্নীতি নিয়ে যখন শাসক দল কোণঠাসা, তখন বাম আমলের এই মামলার গতিপ্রকৃতি আগামী দিনে বাংলার রাজনৈতিক সমীকরণকে কোন দিকে নিয়ে যায়, এখন সেটাই দেখার।