আলিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে মহম্মদ সেলিমের ভাষণ বয়কট, মাঝপথেই মেজাজ হারিয়ে ক্যাম্পাস ছাড়লেন সিপিএম নেতা

সামাজিক সাম্য আর সংখ্যালঘুদের অধিকার নিয়ে আলোচনার আসর বসার কথা ছিল। কিন্তু সেই মঞ্চেই তৈরি হলো চরম বিশৃঙ্খলা। আলিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের পার্ক সার্কাস ক্যাম্পাসে আমন্ত্রিত বক্তা হিসেবে উপস্থিত হয়ে কার্যত নজিরবিহীন অভিজ্ঞতার মুখে পড়লেন সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম। তিনি বক্তব্য রাখতে উঠতেই পড়ুয়াদের একাংশ সভার মাঝপথেই উঠে বেরিয়ে যান এবং স্লোগান তুলে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন। এই ঘটনায় চরম অস্বস্তিতে পড়েন বাম নেতা।
মঞ্চে উঠেই ক্ষোভপ্রকাশ সেলিমের
এদিন অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ভাঙড়ের বিধায়ক নওশাদ সিদ্দিকিও। তবে মূল বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে দাঁড়ান সেলিম। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, পড়ুয়াদের একাংশের এই বয়কট ও বিরোধিতার মুখে মেজাজ হারান তিনি। মঞ্চে উঠেই বিরক্তির সুরে বলেন, “এখন না এসে বোধহয় পরে এলেই ভালো হতো।” পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যে, প্রশ্নোত্তর পর্ব শুরু হওয়ার আগেই তিনি দ্রুত ক্যাম্পাস চত্বর ত্যাগ করেন।
তৃণমূলকে সরাসরি আক্রমণ
ক্যাম্পাস থেকে বেরিয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মহম্মদ সেলিম এই ঘটনার পেছনে শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসের হাত রয়েছে বলে ইঙ্গিত দেন। তিনি অভিযোগ করেন, এতদিন আলিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে তৃণমূল ছাড়া অন্য কোনো রাজনৈতিক দলের প্রবেশের অধিকার ছিল না। এখন সেই একাধিপত্য কিছুটা কমায় তিনি কথা বলার সুযোগ পেয়েছেন ঠিকই, কিন্তু গণতন্ত্রে বিশ্বাসহীন একদল লোক পরিকল্পিতভাবে এই বয়কট সংগঠিত করেছে।
ভোটের প্রচার নাকি অধিকারের লড়াই?
ভোটের মুখে বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্দরে রাজনৈতিক প্রচার চালাচ্ছেন কি না, এমন প্রশ্নের উত্তরে তীব্র প্রতিবাদ জানান সেলিম। তাঁর দাবি, “আমি এখানে কোনো ভোটমুখী ভাষণ দিতে আসিনি। ওবিসি সংরক্ষণ, ওয়াকফ সম্পত্তি এবং আলিয়ার নিজস্ব সমস্যা নিয়ে আলোচনা করতে এসেছিলাম।” তবে সেলিমের এই যুক্তি মানতে নারাজ আন্দোলনকারী পড়ুয়াদের একাংশ। তাঁদের দাবি, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে রাজনৈতিক মেরুকরণ বরদাস্ত করা হবে না। এই ঘটনার পর বিশ্ববিদ্যালয়ের গণতান্ত্রিক পরিবেশ এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিয়ে নতুন করে কাটাছেঁড়া শুরু হয়েছে রাজনৈতিক মহলে।