বড় ম্যাচে হাঁটু কাঁপছে বাংলার! রনজিতে লজ্জার হারের পর এবার কি তবে ফেলুদাকেই ডাকতে হবে?

জম্মু-কাশ্মীরের মতো দলের কাছে বাংলার ব্যাটিং বিপর্যয় এবং শোচনীয় হার কিছুতেই মেনে নিতে পারছেন না ক্রিকেট বিশেষজ্ঞ থেকে শুরু করে সাধারণ সমর্থকরা। বাংলার এই ভরাডুবিতে কার্যত অগ্নিশর্মা শেষ রনজি জয়ী অধিনায়ক সম্বরণ বন্দ্যোপাধ্যায়। দলের এমন পারফরম্যান্সের ব্যবচ্ছেদ করতে গিয়ে তিনি যে মন্তব্য করেছেন, তাতে রীতিমতো চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে ময়দানে।
তদন্তে কি এবার লালমোহন বাবু আর ফেলুদা?
বাংলার হারের কারণ খুঁজতে গিয়ে সম্বরণ বন্দ্যোপাধ্যায় সরাসরি কটাক্ষের সুরে বলেন, “এই ব্যর্থতার রহস্য এতটাই গভীর যে এবার মনে হয় ফেলুদাকেই ডাকতে হবে।” তাঁর মতে, হারের কোনো যৌক্তিক ব্যাখ্যা খুঁজে পাওয়া দায়। মাত্র ২৫.১ ওভারের মধ্যে পুরো ব্যাটিং লাইন-আপ তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়াকে তিনি ‘চরম লজ্জাজনক’ বলে অভিহিত করেছেন।
দক্ষতা আছে কিন্তু নেই সেই ‘খাঁচা’
সম্বরণবাবুর নিশানায় সরাসরি বর্তমান দলের ক্রিকেটারদের মানসিকতা। তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানান, বর্তমান দলের ক্রিকেটারদের ব্যক্তিগত দক্ষতা নিয়ে কোনো প্রশ্ন নেই, কিন্তু বড় ম্যাচে লড়াই করার মতো যে মানসিক জোর বা ‘খাঁচা’র প্রয়োজন, তা বর্তমান স্কোয়াডে সম্পূর্ণ অনুপস্থিত। তাঁর মতে, “খেলোয়াড়দের দক্ষতা থাকলেও জেতার মতো দম নেই।”
প্রতিপক্ষ থেকে শিক্ষা নেওয়ার পরামর্শ
বিপক্ষ দলের আব্দুল সামাদ যেভাবে একাহাতে লড়াই করে ম্যাচ বের করে নিয়ে গেলেন, তা থেকে বাংলার ব্যাটারদের শিক্ষা নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন প্রাক্তন এই অধিনায়ক। যেখানে পিচ বা কন্ডিশন সবার জন্যই সমান ছিল, সেখানে কেন বাংলার ব্যাটাররা তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়লেন, সেই প্রশ্নই এখন বড় হয়ে দেখা দিয়েছে।
বাংলার ক্রিকেটের এই দুর্দিনে সম্বরণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের এমন বিস্ফোরক মন্তব্য সিএবি (CAB) অন্দরেও যে অস্বস্তি বাড়াবে, তা বলার অপেক্ষা রাখে না। এখন দেখার, এই হারের ধাক্কা কাটিয়ে পরের ম্যাচে বাংলা ঘুরে দাঁড়াতে পারে কি না।