মাঠেই মৌমাছির ঝাঁকের ভয়াবহ আক্রমণ, বাঁচানো গেল না বর্ষীয়ান আম্পায়ারকে

বিশ্বকাপের উন্মাদনার মাঝেই ক্রিকেট বিশ্বকে স্তব্ধ করে দিল এক মর্মান্তিক দুর্ঘটনা। উত্তরপ্রদেশের উন্নাওয়ের শুক্লাগঞ্জে ম্যাচ চলাকালীন একঝাঁক বিষাক্ত মৌমাছির অতর্কিত হামলায় প্রাণ হারালেন ৬৫ বছর বয়সি অভিজ্ঞ আম্পায়ার মানিক গুপ্ত। এই নজিরবিহীন ঘটনায় আহত হয়েছেন বেশ কয়েকজন ক্রিকেটার এবং আরও একজন আম্পায়ার।
খেলার মাঝেই বিভীষিকা
বুধবার উন্নাওয়ের সপ্রুর মাঠে স্থানীয় দুটি ক্লাবের মধ্যে টানটান লড়াই চলছিল। ম্যাচ পরিচালনার দায়িত্বে ছিলেন কানপুর ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশনের (কেসিএ) দুই রেজিস্টার্ড আম্পায়ার মানিক গুপ্ত এবং জগদীশ শর্মা। খেলা যখন মধ্যগগনে, তখনই হঠাৎ আকাশ ঢেকে একপাল মৌমাছি মাঠের ভেতর ঢুকে পড়ে। মুহূর্তের মধ্যে খেলোয়াড়রা প্রাণের ভয়ে দৌড়ে মাঠের বাইরে চলে গেলেও, বয়সের কারণে ততটা দ্রুত সরতে পারেননি দুই আম্পায়ার। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, আম্পায়ারদের সাদা পোশাক মৌমাছিদের আরও বেশি আকৃষ্ট করেছিল। প্রায় দশ মিনিট ধরে মৌমাছির ঝাঁক তাঁদের ঘিরে ধরে ক্রমাগত হুল ফোটাতে থাকে।
হাসপাতালেই শেষরক্ষা হলো না
গুরুতর আহত অবস্থায় দুই আম্পায়ারকেই দ্রুত উন্নাওয়ের একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন থাকাকালীন মৃত্যু হয় মানিক গুপ্তের। হাসপাতাল সূত্রে খবর, শরীরে অত্যধিক বিষক্রিয়ার কারণেই তাঁর মৃত্যু হয়েছে। অন্য আম্পায়ার জগদীশ শর্মা এবং আক্রান্ত ক্রিকেটাররা বর্তমানে চিকিৎসকের পর্যবেক্ষণে রয়েছেন। ক্রিকেট মাঠে এর আগে মৌমাছির কারণে খেলা সাময়িক বন্ধ হওয়ার নজির থাকলেও, এমন প্রাণহানির ঘটনা কার্যত বিরল।
শোকস্তব্ধ ক্রিকেট মহল
মৃত মানিক গুপ্ত গত ৩০ বছর ধরে কানপুর ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশনের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তাঁর অকাল প্রয়াণে শোকের ছায়া নেমে এসেছে স্থানীয় ক্রীড়া মহলে। কেসিএ চেয়ারম্যান সঞ্জয় কাপুর শোকবার্তায় জানিয়েছেন, মানিক গুপ্তের নিষ্ঠা এবং ক্রিকেটের প্রতি ভালোবাসা তরুণ প্রজন্মের কাছে উদাহরণ হয়ে থাকবে। মাঠের যে ২২ গজকে তিনি ভালোবেসেছিলেন, সেই মাঠেই এমন মর্মান্তিক পরিণতি কেউ কল্পনাও করতে পারেনি।