১ লক্ষ ১৪ হাজার ভোটারের ভাগ্য ঝুলে! গাফিলতির দায়ে চরম শাস্তির মুখে রাজ্যের দুঁদে আধিকারিকরা

কলকাতা: হাতে সময় মাত্র কয়েক দিন, অথচ এখনও বিশ বাঁও জলে রাজ্যের কয়েক লক্ষ ভোটারের ভাগ্য। কমিশনের পোর্টাল বন্ধ হয়ে গেলেও নথি আপলোডের কাজ শেষ হয়নি, যার জেরে এবার নজিরবিহীন শাস্তির মুখে পড়তে চলেছেন নির্বাচনী আধিকারিকরা (ERO ও AERO)। রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজ আগরওয়াল সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, কর্তব্যে গাফিলতি বরদাস্ত করা হবে না। অভিযুক্ত আধিকারিকদের বিরুদ্ধে শুধু শোকজ নয়, সরাসরি আইনি পদক্ষেপ এবং কঠোর শাস্তির সুপারিশ করতে চলেছে কমিশন।
কেন ক্ষুব্ধ কমিশন?
কমিশন সূত্রে জানা গিয়েছে, বাংলায় ‘সার’ (Special Summary Revision) প্রক্রিয়ার কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে থাকলেও ১ লক্ষ ১৪ হাজার ভোটারের নথি এখনও আপলোড করা সম্ভব হয়নি। এর মধ্যে ৬০ শতাংশের নথিতে সমস্যা থাকলেও বাকি ৪০ শতাংশই বৈধ ভোটার। তবুও নথি আপলোড না হওয়ায় চূড়ান্ত ভোটার তালিকায় তাঁদের নাম না থাকার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এর দায় সরাসরি গিয়ে পড়ছে ইআরও এবং এইআরও-দের ওপর।
কী কী তথ্য উঠে আসছে?
- বিরাট অসঙ্গতি: ১ কোটি ৫১ লক্ষ ৭৩৫ জনের ‘লজিকাল ডিসক্রিপেন্সি’ বা যুক্তিগ্রাহ্য অসঙ্গতি মেটানোর কাজ চললেও, এখনও প্রায় ২৭ লক্ষ নামের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারেননি দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিকরা।
- ডেডলাইন বনাম বাস্তব: আগামী ২৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যে চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশের কথা। অথচ কমিশনের নির্দেশ অনুযায়ী ২১ ফেব্রুয়ারির মধ্যে বকেয়া কাজ শেষ করা নিয়ে বড়সড় প্রশ্নচিহ্ন দেখা দিয়েছে।
- পাল্টা যুক্তি: জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে এই বিলম্বের জন্য বারবার কমিশনের সফটওয়্যারের যান্ত্রিক ত্রুটিকে দায়ী করা হচ্ছে। তবে কমিশন সেই যুক্তিতে সন্তুষ্ট নয়।
ভোটারদের হয়রানি রুখতে নয়া পদক্ষেপ
যাঁদের নাম বাদ পড়ার তালিকায় রয়েছে, তাঁদের জন্য কমিশন বিশেষ ব্যবস্থা নিচ্ছে। BLO-দের বাড়ি বাড়ি পাঠিয়ে পুনরায় ‘ফর্ম সিক্স’ পূরণ করিয়ে তাঁদের নাম নথিভুক্ত করার প্রক্রিয়া শুরু হবে। তবে এই সামগ্রিক বিশৃঙ্খলার জন্য সিনিয়র ডেপুটি নির্বাচন কমিশনার ইতিমধ্যে জেলা নির্বাচনী আধিকারিকদের (DEO) কড়া নজরদারির নির্দেশ দিয়েছেন।
নির্বাচনী প্রক্রিয়ার এই টানাপড়েন এবং আধিকারিকদের ওপর নেমে আসা শাস্তির খাঁড়া এখন নবান্ন থেকে কমিশন দপ্তর— সর্বত্রই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে ভোটার তালিকা নির্ভুলভাবে প্রকাশ করাই এখন সবথেকে বড় চ্যালেঞ্জ সিইও মনোজ আগরওয়ালের কাছে।