দল কি সিপিএম কবুল করার আগেই তালাক দিয়ে দিল? বিস্ফোরক প্রতীক উর রহমান
গভীর রাত। চারদিকে ঝিঁঝিঁ পোকার ডাক আর নিস্তব্ধ অন্ধকার। ডায়মন্ড হারবারের মেঠো পথ ধরে হেঁটে চলেছেন এক যুবক। শান্ত, মার্জিত কণ্ঠস্বর, কিন্তু সেই কণ্ঠেই মিশে আছে একরাশ দহন আর বঞ্চনার ইতিহাস। তিনি প্রতীক উর রহমান। সাম্প্রতিক সময়ে বাম রাজনীতির অন্দরে যাঁর নাম ঘিরে তোলপাড় চলছে। নিজের দলের বিরুদ্ধেই বিস্ফোরক অভিযোগ তুলে এবার জনসমক্ষে মুখ খুললেন তিনি। কেন ব্রাত্য হলেন? কেনই বা তাঁকে রাজ্য কমিটির বৈঠকে ডাকা হলো না? ‘পথের বাঁকে’ দাঁড়িয়ে সবটা খোলসা করলেন প্রতীক।
প্রশ্ন করাই কি কাল হলো? ষড়যন্ত্রের অভিযোগে বিদ্ধ দল
দীর্ঘদিন এসএফআই এবং সিপিএম-এর জন্য নিজের ১০০ শতাংশ দিয়ে লড়েছেন প্রতীক। ডায়মন্ড হারবারের মতো কঠিন লোকসভা আসনে লড়েছেন জানপ্রাণ দিয়ে। অথচ আজ সেই দলেই তিনি কার্যত ‘একঘরে’। প্রতীক উরের সোজাসাপ্টা প্রশ্ন, “দলের জন্য তো খুন হতেও পারতাম, শুধু একটা চিঠির কারণে কেন ঝেড়ে ফেলে দেওয়া হলো?” তাঁর দাবি, দলের একাংশ কর্মীর মনের কথা না বুঝে বাইরের নেতাদের গুরুত্ব দিচ্ছে। তিনি বলেন, “আমি আশা করেছিলাম আমাকে ডাকা হবে, আমার কথা শোনা হবে। কিন্তু উল্টোটা হলো। শোনা যাচ্ছে বৈঠকের পর নাকি বলা হয়েছে— প্রতীক উরের সিদ্ধান্ত প্রতীক উরই নেবে!”
সংখ্যালঘু মুখ বলেই কি ডানা ছাঁটার চক্রান্ত?
সিপিএম-এর অন্দরে কি সংখ্যালঘু নেতৃত্বকে কোণঠাসা করার চেষ্টা চলছে? সফিদা, মইনুলদা, রেজ্জাক বা সাত্তারের প্রসঙ্গ টেনে প্রতীক উর রহমান ইঙ্গিত দিলেন গভীর কোনো চক্রান্তের। তিনি প্রশ্ন তোলেন, এই সব নেতার পরিণাম কি শুধুই কাকতালীয় নাকি সবটাই এক সূত্রে গাঁথা? তাঁর অভিযোগ, দলের কিছু নেতার অন্ধ অনুগামী না হওয়ার মাশুল গুনতে হচ্ছে তাঁকে। এমনকি বর্ষীয়ান নেতা বিমান বসুকেও তাঁর বিরুদ্ধে ময়দানে নামানো হয়েছে বলে ক্ষোভ উগরে দেন তিনি। প্রতীকের কথায়, “কমিউনিস্ট পার্টিতে কি প্রশ্ন করা যাবে না? প্রশ্ন করাই কি তবে অপরাধ?”
‘গদ্দার’ তকমা লাগানোর বৃথা চেষ্টা
প্রতীক উর রহমানের বিরুদ্ধে চরিত্রহননের চেষ্টা হয়েছে বলেও অভিযোগ উঠছে। তবে তিনি দমে যাওয়ার পাত্র নন। তিনি স্পষ্ট জানান, “দলের নেতারা চেষ্টা করেও আমার গায়ে গদ্দার তকমা লাগাতে পারছেন না। আমার পোস্টমর্টেম করেও কালি লাগানো যাচ্ছে না, এটাই অনেকের বড় কষ্ট।” একইসঙ্গে সিপিএম রাজ্য সম্পাদকের সঙ্গে হুমায়ুন কবীরের সাক্ষাৎ বা বিভিন্ন ধর্মীয় সংগঠনের সঙ্গে দলের ওঠাবসা নিয়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন তিনি।
আগামীর পথ কি তবে অন্য কোথাও?
সিপিএম-এর সঙ্গে প্রতীকের বর্তমান সম্পর্ক কি তবে বিচ্ছেদের পথে? রাজনৈতিক মহলে জল্পনা তুঙ্গে। তবে নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে এখনই সবটা খোলসা করতে নারাজ এই তরুণ তুর্কি। তিনি শুধু বললেন, “হাঁটতে হাঁটতে চলছি। পথের বাঁকের ওপাশে ফুল আছে নাকি কাঁটা বিছানো, জানি না। তবে একটু এগোতে চাই।” প্রতীকের এই ‘এগিয়ে চলা’ বাংলার রাজনীতিতে নতুন কোনো সমীকরণ তৈরি করে কি না, এখন সেটাই দেখার।