রামকৃষ্ণদেবের জন্মতিথিতে বড় ঘোষণা মমতার

যুগাবতার শ্রীশ্রী রামকৃষ্ণ পরমহংসদেবের জন্মতিথিতে ভক্তি ও সেবার মেলবন্ধন ঘটালেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বৃহস্পতিবার ঠাকুরের জন্মতিথি উপলক্ষে দেশ-বিদেশের ভক্তরা যখন দক্ষিণেশ্বর, বেলুড় মঠ ও কামারপুকুরে ভিড় জমিয়েছেন, ঠিক তখনই সামাজিক মাধ্যমে বিশেষ বার্তা দিলেন রাজ্যের প্রশাসনিক প্রধান। তাঁর সাফ কথা, শ্রীরামকৃষ্ণের দেওয়া ‘যত মত তত পথ’ এবং ‘শিবজ্ঞানে জীবসেবা’র আদর্শই তাঁর সরকারের মূল চালিকাশক্তি।
সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির আলোকবর্তিকা রামকৃষ্ণদেব
মুখ্যমন্ত্রী এদিন গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন গদাধর চট্টোপাধ্যায়ের সেই অবিনাশী বাণীকে, যা আজও বাংলাকে পথ দেখায়। তিনি লেখেন, “বাংলার ভূমি ধন্য তাঁর আবির্ভাবে। তাঁর অমৃতবাণী ও সর্বধর্ম সমন্বয়ের আদর্শ আমাদের আলোকবর্তিকা।” মুখ্যমন্ত্রীর মতে, বিভেদের রাজনীতির ঊর্ধ্বে উঠে মানুষের সেবা করাই হলো প্রকৃত ঈশ্বর আরাধনা। ঠাকুরের দেখানো এই জ্যোতির্ময় আশীর্বাদ মাথায় নিয়েই আমৃত্যু মানুষের পাশে থাকার অঙ্গীকার করেছেন তিনি।
দক্ষিণেশ্বর থেকে কামারপুকুর: আমূল পরিবর্তনের খতিয়ান
কেবল আধ্যাত্মিক বার্তাই নয়, গত কয়েক বছরে শ্রীরামকৃষ্ণ ও মা সারদার স্মৃতিধন্য তীর্থস্থানগুলির পরিকাঠামো উন্নয়নে রাজ্য সরকার যে বিশাল পদক্ষেপ নিয়েছে, তার পূর্ণাঙ্গ খতিয়ান তুলে ধরেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
- দক্ষিণেশ্বর মন্দির: রেলমন্ত্রী থাকাকালীনই দক্ষিণেশ্বর স্টেশনকে মন্দিরের আদলে গড়ে তুলেছিলেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পর তৈরি করেছেন বিশ্বমানের ‘রানি রাসমণি স্কাইওয়াক’। মন্দির চত্বরের আলোকসজ্জা, সৌন্দর্যায়ন এবং গঙ্গার ঘাটে নতুন জেটি তৈরির মাধ্যমে দক্ষিণেশ্বরকে আন্তর্জাতিক স্তরের পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা হয়েছে।
- কামারপুকুর ও জয়রামবাটি: ঠাকুর ও মায়ের জন্মভিটের উন্নয়নে গঠন করা হয়েছে ‘জয়রামবাটি কামারপুকুর ডেভেলপমেন্ট বোর্ড’। এই বোর্ডকে ইতিমধ্যেই ১০ কোটি টাকা আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়েছে। এছাড়া সামগ্রিক পরিকাঠামো উন্নয়নে খরচ হয়েছে প্রায় ৮০ কোটি টাকা।
- যোগাযোগ ও পর্যটন: পর্যটন পরিকাঠামো বাড়াতে ৫ কোটি ৮৭ লক্ষ টাকা এবং উন্নত সড়কপথ তৈরিতে প্রায় ২৫ কোটি টাকা ব্যয় করেছে রাজ্য সরকার। জয়রামবাটির মাতৃমন্দির সংস্কারেও বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
ভক্তির সঙ্গে উন্নয়নের যুগলবন্দি
বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই বেলুড় মঠ ও কামারপুকুরে বিশেষ পুজো ও আরতির আয়োজন করা হয়েছে। ভক্তদের ঢল নেমেছে প্রতিটি পুণ্যধামে। মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, তাঁর সরকার কেবল মন্দির সংস্কার নয়, বরং লক্ষ লক্ষ পুণ্যার্থীর যাতায়াত এবং তাঁদের স্বাচ্ছন্দ্যের কথা মাথায় রেখেই প্রতিটি প্রকল্প বাস্তবায়ন করেছে। শ্রীরামকৃষ্ণের আদর্শকে সামনে রেখে এবং তাঁর আধ্যাত্মিক উত্তরাধিকারকে সযত্নে লালন করে আগামী দিনেও বাংলার উন্নয়নের চাকা সচল রাখার শপথ নিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।