‘নয়া পাকিস্তান’? ফিল্ডিংয়ের মহাবিপর্যয়ে ২০ দলের মধ্যে ১৯ নম্বরে টিম ইন্ডিয়া

‘নয়া পাকিস্তান’? ফিল্ডিংয়ের মহাবিপর্যয়ে ২০ দলের মধ্যে ১৯ নম্বরে টিম ইন্ডিয়া

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে জয়ের জয়রথ ছুটলেও এক মারাত্মক অস্বস্তি পিছু ছাড়ছে না ভারতীয় শিবিরের। ব্যাটিং-বোলিংয়ে সূর্যকুমার যাদবরা বিপক্ষকে উড়িয়ে দিলেও ফিল্ডিংয়ের হতশ্রী দশা এখন কপালে ভাঁজ ফেলেছে সমর্থকদের। পরিসংখ্যান বলছে, ক্যাচ ফেলার নিরিখে ভারত এখন আক্ষরিক অর্থেই ‘নয়া পাকিস্তান’ হয়ে উঠেছে। চলতি বিশ্বকাপে অংশ নেওয়া ২০টি দলের মধ্যে ক্যাচ ধরার দক্ষতায় ভারত ১৯ নম্বরে নেমে গিয়েছে, যা ভারতীয় ক্রিকেটের ইতিহাসে এক বিরল লজ্জার রেকর্ড।

ফিল্ডিংয়ের ‘বিশ্রী’ রোগে কাবু মেন ইন ব্লু

একসময় ক্রিকেট বিশ্বে ফিল্ডিংয়ে ক্যাচ মিস করা মানেই সবার আগে পাকিস্তানের নাম উঠে আসত। কিন্তু এবারের বিশ্বকাপে সেই তকমা যেন নিজের কাঁধে তুলে নিয়েছে ভারত। গ্রুপ পর্বের ৪টি ম্যাচে সূর্যরা মোট ৯টি ক্যাচ হাতছাড়া করেছেন। বুধবার নেদারল্যান্ডসের বিরুদ্ধেও দুটি সহজ সুযোগ নষ্ট করেছেন ফিল্ডাররা। আর এই খামতির সুযোগ নিয়েই ডাচরা ভারতের বিরুদ্ধে ১৭৬ রানের পাহাড় গড়ে ফেলেছিল। এশিয়া কাপ থেকেই ক্যাচ ফেলার এই ‘নয়া রোগ’ ভারতকে তাড়া করে বেড়াচ্ছে, যা সুপার এইটের মহারণের আগে গম্ভীর ব্রিগেডকে প্রবল চাপে রাখছে।

লজ্জার পরিসংখ্যান: আয়ারল্যান্ডের পরেই ভারত

বিশ্বকাপের ২০টি দলের পারফরম্যান্স বিশ্লেষণ করলে দেখা যাচ্ছে, ক্যাচ ধরার হারের দিক থেকে ভারত কার্যত তলানিতে।

  • ৪ ম্যাচে ১০টি ক্যাচ মিস করে তালিকার সবার উপরে (খারাপ পারফরম্যান্সের নিরিখে) রয়েছে আয়ারল্যান্ড।
  • ৯টি ক্যাচ মিস করে ঠিক তার পরেই অর্থাৎ ১৯ নম্বরে রয়েছে ভারত।
  • তৃতীয় স্থানে থাকা নামিবিয়া মিস করেছে ৬টি ক্যাচ।

সব মিলিয়ে ভারতের ক্যাচ ধরার সাফল্যের হার ৭০ শতাংশের নিচে নেমে গিয়েছে। আধুনিক ক্রিকেটে যেখানে প্রতিটি রান এবং প্রতিটি উইকেট অমূল্য, সেখানে ফিল্ডিংয়ের এই দৈন্যদশা টিম ইন্ডিয়ার শিরোপা জয়ের স্বপ্নকে বড়সড় ধাক্কা দিতে পারে।

প্রাক্তনদের কড়া হুঁশিয়ারি

ভারতীয় দলের এই ক্যাচ মিস করার প্রবণতা নিয়ে গর্জে উঠেছেন প্রাক্তন পেসার বরুণ অ্যারন। তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন, “এটি অত্যন্ত উদ্বেগের বিষয়। গত ১২ মাসে ভারত সম্ভবত বিশ্বের সবচেয়ে খারাপ ক্যাচিং টিমে পরিণত হয়েছে। প্রতি ম্যাচে ২-৩টি ক্যাচ ছাড়া কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। আমাদের ক্যাচ ধরার গড় ৭০ শতাংশের নিচে থাকাটা সুপার এইট বা সেমিফাইনালের মতো নক-আউট পর্বে মারাত্মক বিপদ ডেকে আনতে পারে।”

গ্রুপ পর্বে ছোট দলগুলোর বিরুদ্ধে ভারত উতরে গেলেও, সামনেই অপেক্ষা করছে কঠিন চ্যালেঞ্জ। এখন দেখার, গৌতম গম্ভীরের কোচিংয়ে সুপার এইটের আগে ফিল্ডিংয়ের এই বিশাল গর্ত ভারত ভরাট করতে পারে কি না। নতুবা এই ক্যাচ মিসের মাশুল দিয়েই হয়তো বিদায় নিতে হতে পারে বিশ্বকাপ থেকে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *