হাতে প্লাস্টার, মাথায় ব্যান্ডেজ নিয়েই হাসপাতালের বিছানায় উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষা দিল ২ পড়ুয়া

ঘাটাল মহকুমা হাসপাতালে আজ এক অভূতপূর্ব ও আবেগঘন দৃশ্যের সাক্ষী থাকলেন চিকিৎসক থেকে শুরু করে রোগীর পরিজনেরা। পরীক্ষা দিতে যাওয়ার পথে ভয়াবহ পথ দুর্ঘটনার কবলে পড়েও হার মানেনি অদম্য জেদ। শরীরের যন্ত্রণা উপেক্ষা করেই হাসপাতালের বেডে শুয়ে জীবনের বড় পরীক্ষায় বসল দুই উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষার্থী।
দুর্ঘটনার কবলে পরীক্ষার্থীবোঝাই টোটো
বৃহস্পতিবার সকালে ৬ জন পরীক্ষার্থীকে নিয়ে একটি টোটো ঘাটালে পরীক্ষাকেন্দ্রের দিকে যাচ্ছিল। প্রত্যক্ষদর্শীদের বয়ান অনুযায়ী, রাস্তার ধারে বালি স্তূপ করে রাখা ছিল। রাস্তা সরু হওয়ায় টোটোটি পাশ কাটাতে গিয়ে বালির ওপর উঠে যায় এবং নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে উল্টে যায়। দুর্ঘটনায় টোটোয় থাকা ৬ জন পরীক্ষার্থীই জখম হন। আহত হন টোটো চালকও। স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত তাঁদের উদ্ধার করে ঘাটাল মহকুমা হাসপাতালে নিয়ে যান।
অদম্য লড়াই ও জেদ
প্রাথমিক চিকিৎসার পর ৪ জনকে ছেড়ে দেওয়া হলেও ২ জন পরীক্ষার্থীর চোট ছিল অত্যন্ত গুরুতর। একজনের মাথায় গভীর ক্ষত তৈরি হয়েছে এবং অন্যজনের হাতে প্লাস্টার করতে হয়েছে। এই অবস্থায় পরীক্ষা দেওয়া প্রায় আসাম্ভব ছিল। কিন্তু বছরের পরিশ্রম বিফলে যেতে দিতে রাজি ছিল না ওই পড়ুয়ারা। পরিবারের সদস্যরা দ্রুত স্কুল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। প্রশাসনের অনুমতি মেলার পর হাসপাতালের বিশেষ ব্যবস্থায় বেডে বসেই পরীক্ষায় অংশ নেয় ওই দুই লড়াকু পরীক্ষার্থী।
একের পর এক দুর্ঘটনা মেদিনীপুরে
উল্লেখ্য, গত কয়েকদিন ধরেই পশ্চিম মেদিনীপুরে পরীক্ষার্থীদের পথ দুর্ঘটনার কবলে পড়ার খবর সামনে আসছে। সম্প্রতি শালবনি থানার মানকুড়ি এলাকায় বাইক দুর্ঘটনায় ৩ পরীক্ষার্থী আহত হয়েছিল। বারবার এই ধরনের ঘটনায় পরীক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। তবে প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যেও ঘাটালের এই দুই পড়ুয়ার মনের জোরকে কুর্নিশ জানিয়েছেন জেলাবাসী। পুলিশ ইতিমাজেই দুর্ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে এবং রাস্তার ওপর কেন বালি রাখা ছিল তা খতিয়ে দেখছে।