এআই দুনিয়ায় ভারতের নয়া ধামাকা! পিএম মোদীর ‘MANAV’ মডেলে কাঁপছে বিশ্ব

এআই দুনিয়ায় ভারতের নয়া ধামাকা! পিএম মোদীর ‘MANAV’ মডেলে কাঁপছে বিশ্ব

নিউজ ডেস্ক

আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ে বিশ্বজুড়ে যখন একদিকে আতঙ্ক আর অন্যদিকে অপার সম্ভাবনা নিয়ে বিতর্ক তুঙ্গে, ঠিক সেই আবহেই এক যুগান্তকারী পথপ্রদর্শক দর্শন তুলে ধরলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। ২০২৬ সালের ‘এআই ইমপ্যাক্ট লিডারশিপ সামিট’-এ যোগ দিয়ে তিনি স্পষ্ট করে দিলেন যে, এআই নিয়ে ভয় পাওয়ার কিছু নেই, বরং এতেই লুকিয়ে আছে ভারতের ‘ভাগ্য’। এই লক্ষ্যপূরণেই তিনি বিশ্বমঞ্চে পেশ করেছেন তার স্বপ্নের ‘MANAV’ (মানব) ভিশন।

এআই আসলে আধুনিক যুগের জিপিএস

প্রধানমন্ত্রী মোদি এদিন এক চমৎকার উদাহরণের মাধ্যমে এআই-এর ভূমিকা ব্যাখ্যা করেন। তিনি বলেন, “জিপিএস আমাদের পথ দেখায় ঠিকই, কিন্তু কোন দিকে যেতে হবে সেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্তটি আমাদেরই নিতে হয়। এআই-এর ক্ষেত্রেও বিষয়টি এক। আজ আমরা এই প্রযুক্তিকে যে পথে চালিত করব, আমাদের ভবিষ্যৎ ঠিক সেভাবেই নির্ধারিত হবে।” তিনি মনে করিয়ে দেন যে, বর্তমান বিশ্ব ‘মেশিন লার্নিং’ থেকে ‘লার্নিং মেশিন’-এর এক দ্রুতগামী যুগে প্রবেশ করেছে, যেখানে দূরদর্শী চিন্তাভাবনা আর দায়িত্ববোধের মেলবন্ধন ঘটানো একান্ত প্রয়োজন।

কী এই ‘MANAV’ ভিশন?

প্রধানমন্ত্রী মোদি জানিয়েছেন, ‘মানব’ কেবল একটি শব্দ নয়, এটি পাঁচটি মূল স্তম্ভের সমন্বয়ে গঠিত একটি বৈশ্বিক দর্শন। এর প্রতিটি অক্ষর এক একটি মৌলিক নীতিকে নির্দেশ করে:

  • M (Moral and Ethical System): এআই প্রযুক্তিকে অবশ্যই নৈতিকতা এবং নির্দিষ্ট নির্দেশিকার ওপর ভিত্তি করে গড়ে তুলতে হবে।
  • A (Accountable Governance): স্বচ্ছ নিয়মাবলী এবং দায়বদ্ধ প্রশাসনের মাধ্যমে এই প্রযুক্তির নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করা।
  • N (National Sovereignty): জাতীয় সার্বভৌমত্ব রক্ষা করা। অর্থাৎ, যার তথ্য বা ডেটা, তার ওপর সেই দেশেরই পূর্ণ অধিকার থাকবে।
  • A (Accessible and Inclusive): এআই যেন কোনো নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর একচেটিয়া সম্পত্তিতে পরিণত না হয়। একে সবার কাছে সহজলভ্য এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক করতে হবে যাতে এটি ‘মনোপলি’ নয় বরং ‘মাল্টিপ্লেয়ার’ শক্তিতে রূপান্তরিত হয়।
  • V (Valid and Legitimate): প্রতিটি এআই মডেলকে আইনগতভাবে বৈধ এবং গ্রহণযোগ্য হতে হবে।

ভয় নয়, ভারতের চোখে এটি ‘ভাগ্য’

প্রধানমন্ত্রী তাঁর ভাষণে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণভাবে বলেন, “বিশ্বে আজ দুই ধরনের মানুষ আছেন। একদল এআই-এর মধ্যে ভয় দেখেন, আর অন্যদল এর মধ্যে দেখেন ভাগ্য। ভারতের মানুষ এর মধ্যে নিজেদের ভাগ্য দেখতে পান।” ভারতের এই আত্মবিশ্বাসের প্রতিফলন দেখা গেছে সামিটেও, যেখানে দেশীয় সংস্থাগুলো একাধিক অত্যাধুনিক এআই মডেল লঞ্চ করেছে।

পরবর্তী প্রজন্মের হাতে একটি নিরাপদ এবং উন্নত প্রযুক্তি-নির্ভর পৃথিবী তুলে দেওয়ার অঙ্গীকার নিয়ে মোদি বলেন, আমাদের লক্ষ্য বড় রাখতে হবে এবং সেই অনুপাতে দায়িত্বও পালন করতে হবে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার এই ঝোড়ো গতিকে ইতিবাচক পথে চালিত করাই এখন ভারতের প্রধান লক্ষ্য।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *