২০২৬-এর মহাযুদ্ধের আগে মায়াপুরে অমিত শাহের বড় চাল! মাস্টারস্ট্রোক দিল বিজেপি

নিজস্ব সংবাদদাতা, নদিয়া: ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনকে পাখির চোখ করে বাংলার মাটিতে বিশেষ ‘মাস্টারপ্ল্যান’ সাজাতে শুরু করেছে বিজেপি। আর সেই পরিকল্পনার কেন্দ্রে এবার উঠে এল ভক্তি ও আধ্যাত্মিকতার আবেগ। বুধবার মায়াপুর ইসকন চত্বরে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের উপস্থিতি কেবল একটি ধর্মীয় অনুষ্ঠানে যোগদান নয়, বরং তার নেপথ্যে গভীর রাজনৈতিক সমীকরণের ইঙ্গিত দেখছে ওয়াকিবহাল মহল। দীর্ঘদিনের নীতিগত বিবাদ সরিয়ে রেখে ইসকন এবং গৌড়ীয় মঠকে একই মঞ্চে আনার যে প্রেক্ষাপট তৈরি হয়েছে, তাকে গেরুয়া শিবিরের বড় সাফল্য হিসেবেই ধরা হচ্ছে।
অমিত শাহের উপস্থিতিতে ঘুচল দীর্ঘদিনের দূরত্ব
মায়াপুরের ইসকন এবং গৌড়ীয় মঠের মধ্যে আদর্শগত ও নীতিগত কারণে দীর্ঘকাল ধরে এক ধরনের দূরত্ব বজায় ছিল। এমনকি ভক্তি সিদ্ধান্ত সরস্বতী গোস্বামী ঠাকুরের ১৫২-তম আবির্ভাব দিবস পালন নিয়েও দুই পক্ষের ভিন্ন মত ছিল। গৌড়ীয় মঠ যেখানে ৬ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠান সেরেছে, সেখানে ১৮ ফেব্রুয়ারি ইসকনের উদ্যোগে আয়োজিত অনুষ্ঠানে শামিল হলেন শাহ। রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, এই দুই প্রভাবশালী ধর্মীয় গোষ্ঠীকে এক সুতোয় গাঁথার কারিগর স্বয়ং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। ভোটের আগে বৈষ্ণব সমাজের এই একজোট হওয়া বিজেপির ভোটব্যাঙ্ক সংহত করতে সহায়ক হতে পারে।
মায়াপুরে ‘হরে কৃষ্ণ’ ধ্বনি ও শাহী বার্তা
এদিন কলকাতা থেকে সরাসরি হেলিকপ্টারে মায়াপুরে পৌঁছান অমিত শাহ। চন্দ্রোদয় মন্দিরে সাড়ম্বরে পুজো দেওয়ার পর তিনি যোগ দেন মূল অনুষ্ঠানে। মঞ্চে উঠেই ‘হরে কৃষ্ণ’ ধ্বনি দিয়ে ভক্তদের মন জয় করে নেন তিনি। শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুর প্রেমধর্ম এবং ভক্তি সিদ্ধান্ত সরস্বতী ঠাকুরের আধ্যাত্মিক অবদান নিয়ে দীর্ঘ বক্তব্য রাখেন শাহ। তাঁর উপস্থিতিকে ঘিরে গোটা মায়াপুর চত্বর নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তার চাদরে মুড়ে ফেলা হয়েছিল।
কী বলছে সন্ন্যাসী সমাজ?
বৈষ্ণব সঙ্ঘের সভাপতি ভক্তিসাধন তৎপর মহারাজ জানান, প্রশাসনের থেকে আলাদা আলাদা অনুমতি নেওয়া হলেও ধর্মীয় কারণে তাঁরা একত্রিত হয়েছেন। অন্যদিকে, ইসকনের জনসংযোগ আধিকারিক রসিক গৌরাঙ্গ দাসের মতে, সারস্বত গৌড়ীয় বৈষ্ণব সঙ্ঘের আমন্ত্রণে সাড়া দিয়ে অমিত শাহের এই সফর অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। যদিও মঠ ও মিশনের কর্তারা বিষয়টিকে অরাজনৈতিক বলছেন, তবে নির্বাচনের আগে সাধুসন্তদের আশীর্বাদ নেওয়ার এই প্রক্রিয়া যে পদ্ম শিবিরের ‘অ্যাকশন প্ল্যান’-এর অংশ, তা নিয়ে চর্চা তুঙ্গে।
মার্চ থেকেই বড় আন্দোলনের পথে গেরুয়া শিবির
সূত্রের খবর, এই আধ্যাত্মিক সংযোগের রেশ টেনেই মার্চ মাস থেকে বাংলায় সর্বাত্মক জনসংযোগ ও রাজনৈতিক কর্মসূচিতে নামতে চলেছে বিজেপি। লক্ষাধিক মানুষের সমাবেশ, বসন্ত উৎসবের আঙ্গিকে প্রচার এবং ধর্মীয় আবেগ— সব মিলিয়ে ২০২৬-এর আগে বাংলায় ক্ষমতা দখলের লড়াইতে কোনো খামতি রাখতে চাইছেন না শাহ-নাড্ডারা।