কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার নতুন বিশ্বদর্শন ভারতের ‘মানব’ মডেল নিয়ে বড় ঘোষণা মোদীর

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার নতুন বিশ্বদর্শন ভারতের ‘মানব’ মডেল নিয়ে বড় ঘোষণা মোদীর

প্রযুক্তি যখন মানুষের প্রতিদ্বন্দ্বী নয় বরং পরম বন্ধু হয়ে ওঠার পথে, তখনই বিশ্বমঞ্চে এক অনন্য দিশা দেখালেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। ২০২৬ সালের ইন্ডিয়া এআই ইমপ্যাক্ট সামিটের চতুর্থ দিনে দিল্লির ভারত মণ্ডপম থেকে তিনি উন্মোচন করলেন ভারতের নিজস্ব কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই রূপরেখা— যার নাম দেওয়া হয়েছে ‘মানব’ (MANAV) দর্শন। মোদীর স্পষ্ট বার্তা, প্রযুক্তির মগজ থাকলেও তার হৃদস্পন্দন হতে হবে মানবিক।

কী এই ‘মানব’ দর্শন এবং কেন এটি বৈপ্লবিক

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী তাঁর ভাষণে অত্যন্ত সহজভাবে ব্যাখ্যা করেছেন যে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার এই ঝোড়ো গতিতে নৈতিকতা এবং মানবিক মূল্যবোধই হবে প্রধান কম্পাস। ‘মানব’ (MANAV) শব্দটির প্রতিটি অক্ষরের গভীরে লুকিয়ে আছে ভারতের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার মূল ভিত্তি:

  • M (Morality & Values): নৈতিকতা এবং মূল্যবোধ নির্ভর একটি ব্যবস্থা যা প্রযুক্তির অপব্যবহার রোধ করবে।
  • A (Accountable Governance): স্বচ্ছ এবং জবাবদিহিমূলক শাসনব্যবস্থা, যেখানে প্রযুক্তির প্রতিটি পদক্ষেপ হবে জনকল্যাণমুখী।
  • N (National Autonomy & Data Rights): জাতীয় স্বায়ত্তশাসন এবং নাগরিকদের তথ্যের অধিকার রক্ষা নিশ্চিত করা।
  • A (Accessible & Inclusive): এআই যেন কেবল মুষ্টিমেয় কিছু মানুষের হাতে সীমাবদ্ধ না থাকে, বরং সমাজের প্রান্তিক মানুষের কাছেও সহজে পৌঁছায়।
  • V (Validated & Trustworthy): বৈধতা, গ্রহণযোগ্যতা এবং পূর্ণ বিশ্বাসযোগ্যতার নিশ্চয়তা প্রদান।

ভারতই হবে বিশ্বসেরা প্রযুক্তির সূতিকাগার

বিশ্বের বৃহত্তম তরুণ জনশক্তির দেশ হিসেবে ভারত এখন কেবল আমদানিকারক নয়, বরং উদ্ভাবক। প্রধানমন্ত্রী গর্বের সাথে জানান যে, ইতিমধেই ভারতের তিনটি দেশীয় সংস্থা নিজস্ব এআই মডেল এবং অ্যাপ্লিকেশন তৈরি করে বিশ্বকে চমকে দিয়েছে। এই সাফল্য প্রমাণ করে যে ভারতের মেধা কেবল বৈশ্বিক সমস্যার সমাধান দিচ্ছে না, বরং নতুন এক ডিজিটাল যুগের নেতৃত্ব দিচ্ছে।

উন্মুক্ত জ্ঞান এবং বিশ্বকল্যাণের অঙ্গীকার

মোদীর মতে, এআই বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে কোনো বদ্ধ ঘরে আটকে রাখা উচিত নয়। ভারত বিশ্বাস করে ‘বসুধৈব কুটুম্বকম’ বা বিশ্বই এক পরিবার দর্শনে। তাই তিনি ওপেন সোর্স বা উন্মুক্ত কোডের পক্ষে সওয়াল করেছেন। যদি জ্ঞান এবং প্রযুক্তি সবার সাথে ভাগ করে নেওয়া যায়, তবেই বিশ্বের কোটি কোটি তরুণ প্রতিভা উদ্ভাবনের সুযোগ পাবে। এতে করে প্রশাসন এবং শিল্পক্ষেত্রে এক অভাবনীয় গতি আসবে, যা কর্মসংস্থান এবং নতুন স্টার্টআপের জন্য দিগন্ত খুলে দেবে।

প্রধানমন্ত্রী তাঁর বক্তব্য শেষ করেন এক শক্তিশালী আশাবাদ দিয়ে। তিনি জানান, মানববুদ্ধি এবং ডিজিটাল প্রজ্ঞার এই যুগলবন্দি বিশ্বজুড়ে এক নতুন প্রশাসনিক ও শিল্প বিপ্লব ঘটাবে। যেখানে প্রযুক্তি হবে মানুষের উন্নয়নের সহচর, কোনো ভয়ের কারণ নয়। ভারতের এই ‘মানব’ দর্শন আসলে বিশ্বমানবতার কল্যাণে নিবেদিত এক মানবিক অঙ্গীকার।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *