দলবদলু হাতে ব্যাটন নিতেই হুগলি বিজেপির তুলকালাম, কার্যালয়ের ভেতরেই চলল চরম হাতাহাতি

আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের আগে যখন হুগলি জেলাকে পাখির চোখ করছে গেরুয়া শিবির, ঠিক তখনই গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের আগুনে পুড়ছে বিজেপি। দলের যুব মোর্চার সভাপতি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে চুঁচুড়ার দলীয় কার্যালয় কার্যত রণক্ষেত্রের চেহারা নিল। পুরোনো কর্মীদের ক্ষোভ এবং ‘সেটিং’ তত্ত্বের অভিযোগে এখন চরম অস্বস্তিতে বঙ্গ বিজেপি নেতৃত্ব।
বিদ্রোহের মূলে ‘তৃণমূল ঘনিষ্ঠ’ তকমা
বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন চন্দননগরের বাসিন্দা সোমবুদ্ধ দত্ত। সম্প্রতি তাঁকে হুগলি সাংগঠনিক জেলা যুব মোর্চার সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। আর এই নিয়োগ ঘিরেই তৈরি হয়েছে তীব্র অসন্তোষ। অভিযোগ, সোমবুদ্ধ একসময় তৃণমূলের ছাত্র রাজনীতির সক্রিয় মুখ ছিলেন এবং ২০২১ সালের নির্বাচনের ঠিক আগে বিজেপিতে যোগ দেন। একজন ‘নব্য’ এবং ‘দলবদলু’ নেতাকে সংগঠনের গুরুত্বপূর্ণ পদে বসানোয় ফুঁসছেন দলের আদি কর্মীরা।
কার্যালয়ের ভেতরেই ধুন্ধুমার
সোমবুদ্ধের নাম ঘোষণা হতেই চুঁচুড়ায় বিজেপির জেলা কার্যালয়ে ক্ষোভ আছড়ে পড়ে। সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভাইরাল ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে (যার সত্যতা যাচাই করা হয়নি), একদল কর্মী উত্তেজিত হয়ে চিৎকার করছেন। তাঁদের স্পষ্ট দাবি, “আমরা মার খেয়েছি, অথচ এখন সব সেটিং হয়ে গেছে। এটা আমরা মানব না।” পরিস্থিতি এতটাই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে যে, চন্দননগরের এক বিজেপি নেত্রী সোমবুদ্ধের সমর্থনে কথা বলতে গেলে তাঁকেও চরম হেনস্থার শিকার হতে হয় বলে অভিযোগ।
নেতৃত্বের সাফাই বনাম ধোঁয়াশা
এই নজিরবিহীন বিশৃঙ্খলা নিয়ে হুগলি জেলা বিজেপির সাধারণ সম্পাদক সন্দীপ সাধুখাঁ ড্যামেজ কন্ট্রোলে নেমেছেন। তাঁর মতে, এটি দলের অভ্যন্তরীণ বিষয় এবং অনেকটা পরিবারের ভাইদের মধ্যে ঝগড়ার মতো। অন্যদিকে, নবনিযুক্ত যুব সভাপতি সোমবুদ্ধ দত্ত তাঁর অতীত রাজনীতিকে ভুলে বর্তমানে দলের হয়ে কাজ করার অঙ্গীকার করেছেন।
তবে সবথেকে আশ্চর্যের বিষয় হলো জেলা সভাপতি গৌতম চট্টোপাধ্যায়ের বয়ান। রাজ্য বিজেপির অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে যখন নতুন সভাপতির নাম প্রকাশ হয়ে গেছে, তখনও জেলা সভাপতি দাবি করছেন যে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে কিছুই জানেন না। শীর্ষ নেতৃত্বের এই সমন্বয়হীনতা এবং আদি-নব্য দ্বন্দ্বে হুগলির রাজনৈতিক সমীকরণ এখন কোন দিকে ঘোরে, সেটাই দেখার।