লক্ষ্মীর ভাণ্ডারকে ‘ভিক্ষা’ বলা ভুল ছিল মেনে নিয়ে মমতার জয়গান বাম নেতার

লক্ষ্মীর ভাণ্ডারকে ‘ভিক্ষা’ বলা ভুল ছিল মেনে নিয়ে মমতার জয়গান বাম নেতার

২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের আগে আলিমুদ্দিন স্ট্রিটের অন্দরে আছড়ে পড়ল প্রবল বিদ্রোহের ঢেউ। সিপিআইএম রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিমের বিরুদ্ধে সরাসরি তোপ দেগে দলের অস্বস্তি চরমে তুললেন দাপুটে যুবনেতা প্রতীক উর রহমান। শুধু তাই নয়, দলের অফিশিয়াল লাইনের উল্টো পথে হেঁটে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মাস্টারস্ট্রোক ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ প্রকল্পের দরাজ প্রশংসা শোনা গেল তাঁর গলায়। বাম শিবিরের এই ‘বিস্ফোরক’ সাক্ষাৎকার ঘিরে এখন রাজ্য রাজনীতিতে দলবদলের জল্পনা তুঙ্গে।

মহম্মদ সেলিমকে নজিরবিহীন আক্রমণ এবং ব্রাত্য হওয়ার অভিযোগ

এবিপি আনন্দকে দেওয়া এক একান্ত সাক্ষাৎকারে প্রতীক উর রহমান দাবি করেন যে, দলের ভেতরে প্রশ্ন তোলার অপরাধে তাঁকে কোণঠাসা করা হয়েছে। রাজ্য সম্মেলনে ডেলিগেট না করা এবং সৃজন ভট্টাচার্যের মতো নেতাদের গুরুত্বহীন করে রাখার বিষয়ে তিনি ক্ষোভ উগরে দেন। মহম্মদ সেলিমের কার্যপদ্ধতি নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, “সূর্যকান্ত মিশ্র সমালোচনা গ্রহণ করতে জানতেন, কিন্তু বর্তমান নেতৃত্ব দলের ঊর্ধ্বে উঠতে চাইছেন।” শাসকদলের বিধায়ক বা সাংসদদের সঙ্গে সৌজন্যমূলক যোগাযোগ রাখলে কেন তাকে ‘সেটিং’ তকমা দেওয়া হবে, সেই প্রশ্নও তোলেন তিনি। তাঁর অভিযোগ, দলের শীর্ষ নেতৃত্বের কাছে হুমায়ুন কবিরের মতো নেতাদের জন্য সময় থাকলেও নিজের দলের নিচুতলার কর্মীদের কথা শোনার সময় নেই।

লক্ষ্মীর ভাণ্ডার নিয়ে ডিগবাজি ও মমতার প্রশংসা

সবচেয়ে চমকপ্রদ বিষয় হলো, যে লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্পকে বামেরা এতদিন কটাক্ষ করে এসেছে, সেই প্রকল্পকেই এবার ‘গরিবের আত্মসম্মান’ ফেরানোর হাতিয়ার হিসেবে মান্যতা দিলেন প্রতীক উর। তিনি স্পষ্ট জানান, “লক্ষ্মীর ভাণ্ডারকে ভিক্ষা বলা আমাদের ভুল ছিল। বামপন্থীরাও এখন স্বীকার করতে বাধ্য হচ্ছে যে মুখ্যমন্ত্রী ভালো কাজ করেছেন।” এই মন্তব্য রাজনৈতিক মহলে শোরগোল ফেলে দিয়েছে, কারণ এর আগে কোনো প্রথম সারির যুব বাম নেতাকে এভাবে জনকল্যাণমুখী প্রকল্পে মমতার জয়গান গাইতে দেখা যায়নি।

ঘাসফুল শিবিরের পথে প্রতীক? জল্পনা তুঙ্গে

সাক্ষাৎকারে সরাসরি তৃণমূলে যোগদানের কথা না বললেও প্রতীক উরের শরীরী ভাষা এবং মুখ্যমন্ত্রীর কাজের প্রশংসায় ইঙ্গিত যথেষ্ট স্পষ্ট। ভোটের মুখে এই বিদ্রোহ সিপিএমের যুব সংগঠনে বড়সড় ভাঙন ধরাতে পারে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। রাজ্য সম্পাদকের বিরুদ্ধে এই ‘জেহাদ’ কি প্রতীককে শেষ পর্যন্ত জোড়াফুলের পতাকাতলে নিয়ে যাবে? উত্তরের অপেক্ষায় এখন বাংলার রাজনৈতিক মহল।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *